অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
ক' দেশটি পৃথিবীর ঘনবসতি দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশটির মোট জনসংখ্যা ১৭,০১,৪৮,২০১ জন এবং আয়তন মাত্র ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যার ঘনত্ব অধিক হওয়ার পিছনে দেশটির ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, ভূমির উর্বরতা, মানুষের খাদ্যভ্যাস, কুসংস্কার ও চরম দারিদ্র্য ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
- ক)(1)
আত্মকর্মসংস্থান কী?
- খ)(2)
নিট অভিবাসন হার কখন ধনাত্মক হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত নির্ধারকসমূহ কীভাবে দেশটির উচ্চ জনসংখ্যার জন্য দায়ী? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিজস্ব অর্থায়ন বা ঋণ নিয়ে নিজস্ব দক্ষতা, জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে স্বউদ্যোগে জীবিকা অর্জনের উপায় সৃষ্টি করাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশে বা অঞ্চলে একটি নির্দিষ্ট সময়ে মোট বহির্গমনের চেয়ে মোট অভিবাসনের (অভ্যন্তরে আগমন) সংখ্যা বেশি হলে নিট অভিবাসন হার ধনাত্মক হয়।
নিট অভিবাসন বলতে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বা দেশে আগমনকারী মোট অভিবাসী এবং দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া মোট বহির্গমনকারীর পার্থক্যের হারকে বোঝায়। সূত্রানুসারে: নিট অভিবাসন হার = [(অভিবাসী সংখ্যা - বহির্গমনকারী সংখ্যা) / মোট জনসংখ্যা] × ১০০০। যখন বহির্গমনকারীর চেয়ে দেশে আগমনকারী মানুষের সংখ্যা অধিক হয়, তখন এই মানটি ধনাত্মক (+) হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির জনসংখ্যার ঘনত্ব নিচে নির্ণয় করা হলো:
আমরা জানি,
জনসংখ্যার ঘনত্ব = মোট জনসংখ্যা / মোট আয়তনউদ্দীপক অনুযায়ী,
দেশটির মোট জনসংখ্যা = ১৭,০১,৪৮,২০১ জন
দেশটির মোট আয়তন = ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটারঅতএব, জনসংখ্যার ঘনত্ব = ১৭,০১,৪৮,২০১ / ১,৪৭,৫৭০ জন/বর্গকিলোমিটার
≈ ১,১৫২.৯৯ জন/বর্গকিলোমিটার (বা প্রায় ১,১৫৩ জন প্রতি বর্গকিলোমিটারে)।সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১,১৫৩ জন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাকৃতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক নির্ধারকসমূহ দেশটির উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং অধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী। নিচে উদ্দীপকের আলোকে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু: সমতল ভূমিরূপ এবং নাতিশীতোষ্ণ ও অনুকূল মৌসুমি জলবায়ু মানববসতি ও বসবাসের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রতিকূল পরিবেশ না থাকায় এখানে মানুষের বেঁচে থাকা ও সন্তান জন্মদানের অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকে, যা উচ্চ জনসংখ্যা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
২. ভূমির উর্বরতা: দেশটির উর্বর পলিমাটি কৃষিকাজ ও খাদ্য উৎপাদনের জন্য বিশেষ উপযোগী। ভূমির উর্বরতার কারণে অল্প জমিতে অধিক খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব হয়, যা বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্যচাহিদা মেটাতে পারে বিধায় এখানে ঘনবসতি গড়ে ওঠে।
৩. খাদ্যাভ্যাস: যেসব অঞ্চলের মানুষের প্রধান খাদ্য শস্য বা ভাত-মাছ, সেসব অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর প্রজনন ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে বলে জনমিতি গবেষণায় দেখা যায়। এটিও জন্মহার বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে।
৪. কুসংস্কার ও ধর্মীয় বিশ্বাস: উদ্দীপকে উল্লেখিত কুসংস্কার, যেমন—সন্তান ঈশ্বরের দান এবং পরিবার পরিকল্পনার প্রতি ধর্মীয় বা সামাজিক গোঁড়ামি উচ্চ জন্মহার বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। অধিক সন্তান নেওয়াকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে।
৫. চরম দারিদ্র্য: দারিদ্র্যের কারণে পরিবারগুলো অতিরিক্ত সন্তানকে অর্থনৈতিক সম্পদ বা আয়ের উৎস মনে করে। পিতা-মাতা ভাবেন সন্তান বড় হয়ে কাজে যুক্ত হয়ে পরিবারে আয় বাড়াবে এবং তাদের বৃদ্ধ বয়সের অবলম্বন হবে। এ ছাড়া শিক্ষার অভাব ও সচেতনতার অভাবে তারা পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করে না।
অতএব, অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ এবং একই সাথে দারিদ্র্য ও কুসংস্কারের মতো আর্থ-সামাজিক নেতিবাচক কারণগুলোর যৌথ প্রভাবেই উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির জনসংখ্যা ও জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও