ইতিহাস ১ম পত্র • বাংলায় ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
‘ক’ অঞ্চলটি ‘খ’ বহিশক্তির সঙ্গে একটি যুদ্ধে পরাজয়ের পরে ‘খ’ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ‘ক’ অঞ্চলে ‘খ’ একটি অভিনব শাসন পদ্ধতি প্রবর্তন করে। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য সমস্ত ট্যাক্স আদায়ের ক্ষমতা ‘খ’ নিজেদের হাতে রাখে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব ‘ক’ অঞ্চলের প্রতিনিধিদের হাতে অর্পণ করে। ফলে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে এলাকায় চরম দুর্ভিক্ষের প্রাদুর্ভাব হয়।
- ক)(1)
ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন কে প্রতিষ্ঠা করেন?
- খ)(2)
কোম্পানির সাথে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরোধের কারণ সংক্ষেপে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে উক্ত ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮৭৭ সালে সৈয়দ আমীর আলী সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। (অথবা, ১৮৫৬ সালে নবাব আবদুল লতিফ মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।)
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরোধের প্রধান কারণগুলো হলো: কোম্পানি কর্তৃক নবাবের সিংহাসন আরোহণে প্রথাগত উপহার না পাঠানো ও অসৌজন্যমূলক আচরণ, বাণিজ্য ছাড়পত্রের অপব্যবহার করে কর ফাঁকি দেওয়া, নবাবের নির্দেশ অমান্য করে কলকাতায় সামরিক দুর্গ নির্মাণ ও মেরামত অব্যাহত রাখা, এবং নবাবের অবাধ্য প্রজাদের (যেমন কৃষ্ণবল্লভ) রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের ১৭৬৫ সালে লর্ড রবার্ট ক্লাইভ কর্তৃক প্রবর্তিত 'দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা' (Dual Administration) এবং পরবর্তী 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর'-এর সরাসরি সাদৃশ্য রয়েছে।
১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে বিজয়ের পর ১৭৬৫ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মোঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার 'দেওয়ানি' বা রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা লাভ করে। এরপর ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈত শাসন চালু করেন। এতে রাজস্ব আদায় ও সামরিক নিয়ন্ত্রণের সমস্ত অর্থনৈতিক ক্ষমতা কোম্পানির হাতে থাকে এবং আইনশৃঙ্খলা ও শাসনের যাবতীয় দায়দায়িত্ব ক্ষমতাহীন পুতুল নবাবের ওপর ন্যস্ত করা হয়। এর ফলে কোম্পানি পরিণত হয় দায়িত্বহীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত শাসকে এবং নবাব হন ক্ষমতাহীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্বে।
উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চল অর্থাৎ বাংলায় 'খ' বহিশক্তি অর্থাৎ ব্রিটিশ কোম্পানি একটি যুদ্ধের পর অভিনব শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে রাজস্ব নিজেদের হাতে রাখে এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব স্থানীয় প্রতিনিধির হাতে অর্পণ করে, যা রবার্ট ক্লাইভের দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার ফলে বাংলার আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে এক চরম ও ধ্বংসাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।
প্রথমত, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কোম্পানি রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে একের পর এক নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ইজারাদারদের মাধ্যমে কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত কর ও খাজনা চাপানো হয়। কর আদায়ে চরম নির্যাতন চালানো হতো, যার ফলে কৃষকেরা জমি ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ফলে বাংলার সমৃদ্ধ কৃষি ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে। একই সাথে অবাধ লুণ্ঠন ও দেশীয় শিল্পকারখানা ধ্বংসের ফলে দেশীয় অর্থনীতি চরম সংকটে নিমজ্জিত হয়।
দ্বিতীয়ত, সামাজিক ক্ষেত্রে চরম প্রশাসনিক অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। নবাবের হাতে কোনো অর্থ না থাকায় তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা বিচার ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারেননি, অন্যদিকে কোম্পানিও এর কোনো দায়ভার নেয়নি। ফলে সর্বত্র ডাকাতি, অরাজকতা ও নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পায়।
সর্বোপরি, এই দ্বৈত শাসনের ফলে ১৭৬৯-১৭৭০ সালে (বাংলা ১১৭৬ সন) বাংলায় নেমে আসে মানবসৃষ্ট মহাবিপর্যয় যা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে অনাহারে ও মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মৃত্যুবরণ করে এবং অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়।
অতএব, দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা বাংলার সার্বিক আর্থসামাজিক কাঠামোকে ধ্বংস করে চরম দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও