Combined Board কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
22টি প্রশ্ন
- 1.
পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক রাষ্ট্রের জয়, পরাজয়, পতনের পিছনে বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে এই ইতিহাস সার্বভৌম রাষ্ট্রকে পরাধীনতার না পাসে নিমজ্জিত করেছে। ভারতবর্ষের ইতিহাস ও এর থেকে ব্যতিক্রম নয়।
- 2.
‘ক’ অঞ্চলটি ‘খ’ বহিশক্তির সঙ্গে একটি যুদ্ধে পরাজয়ের পরে ‘খ’ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ‘ক’ অঞ্চলে ‘খ’ একটি অভিনব শাসন পদ্ধতি প্রবর্তন করে। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য সমস্ত ট্যাক্স আদায়ের ক্ষমতা ‘খ’ নিজেদের হাতে রাখে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব ‘ক’ অঞ্চলের প্রতিনিধিদের হাতে অর্পণ করে। ফলে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে এলাকায় চরম দুর্ভিক্ষের প্রাদুর্ভাব হয়।
- 3.
রিফাত এন্ড সন্স গার্মেন্টস কারখানাটি দীর্ঘদিন যাবত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু এর ফলে একপর্যায়ে কারখানা শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ এবং বিদ্রোহ দেখা দেয়। এর ফলে কর্তৃপক্ষ কারখানাটিতে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনাকে বাতিল করে প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে আনয়ন করে।
- 4.
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সরকার এমন একটি নিয়ম প্রচলন করেন, যাতে কোন শ্বেতাঙ্গ অপরাধীর বিচার শ্বেতাঙ্গ বিচারক করতে পারতেন না। নেলসন ম্যান্ডেলা ক্ষমতায় এসে এ ব্যবস্থা বাতিল করায় যে কোন অশ্বেতাঙ্গ জজ শ্বেতাঙ্গদের বিচার করতে পারতেন।
- 5.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে তৎকালীন শক্তিশালী রাষ্ট্র সমূহের রাজনৈতিক মতাদর্শে ইউরোপের শক্তিশালী রাষ্ট্র পুর্ব জার্মানি ও পশ্চিম জার্মানি নামে বিভক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বৈশ্বিক পুঁজিবাদের জোয়ারে বিভক্ত জার্মানি পুনরায় একত্রিত হয়।
- 6.
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাবুল ও ইসমাইল ছুটিতে বাংলাদেশে এসে ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে এবং বিশ্বের ইতিহাসের এই অসাধারণ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি লাভের পরিকল্পনা করে। অস্ট্রেলিয়া ফিরে বাবুল তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে বহুজাতিক সংগঠন গড়ে তোলে। এ সরকারের তৎপরতা ও সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গৃহীত হয়।
- 7.
জনাব ক তার অঞ্চলের একজন জনপ্রিয় নেতা। উক্ত অঞ্চলের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য ও কতিপয় অধিকার আদায়ের জন্য তিনি শাসকগোষ্ঠীর নিকট বেশ কিছু দাবি পেশ করেন। তার দাবি সমূহ পরবর্তীতে ওই অঞ্চলের মুক্তির দাবিতে পরিণত হয়।
- 8.
- 9.
সকালে দোকান খুলে মোবারক রেডিওতে শুনতে পায়, “এটিই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আজ হতে বাংলাদেশ………..।”
- 10.
মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে গিয়ে রুবেল দাদু কে জিজ্ঞেস করল, “মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত ও রাশিয়ার মতো বিশ্বের সব দেশই কি আমাদের সাহায্য করেছিল।” উত্তরের দাদু বললেন, শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দুটি দেশ সরাসরি আমাদের বিরোধিতা করেছে, অন্য একটি রাষ্ট্র আমাদের আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন করেছে।
- 11.
২০২২ সালের আকস্মিক বন্যায় বাংলাদেশের অনেক অঞ্চল ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হয়। খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের অভাবে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করে বানভাসি মানুষ। বেশ কিছু সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অর্জিত অর্থ নিয়ে দূর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ায়।
- 12.
রসুলপুর স্কুলে প্রতিবছর সাহিত্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ। মেলায় ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের স্বরচিত কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ পাঠ করে।। বিচারকমণ্ডলী কর্তৃক নির্বাচিত লেখকগণকে পুরস্কার দেওয়া হয় এবং তাদের লেখনীসমূহ সুন্দর হস্তাক্ষরে দেয়াল পত্রিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়।। অতঃপর উক্ত দেয়াল পত্রিকা স্কুলের লাইব্রেরিতে প্রদর্শনের জন্য রাখা। হয়। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহিত হয়। এতে। অনেক কবি-সাহিত্যিকের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে।
- 13.
দীর্ঘ আলোচনার পর ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে ১৯১৯ সালে মিত্র শক্তি ও জার্মানির মধ্যে একটি সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। ইতিহাসে যা ভার্সাই সন্ধি নামে পরিচিত। এ সন্ধিতে এমন কতগুলো শর্ত আরোপ করা হয়, যা জার্মানির জন্য ছিল অসম ও অবমাননাকর। তারপরও জার্মানি শান্তির জন্য সকল শর্ত স্বীকার করে চূড়ান্ত পরাজয় মেনে নেয়।
- 14.
অফ্রিকার উত্তরাংশে বিশাল অংশ জুড়ে সাহারা মরুভূমি অবস্থিত। এর পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর, পূর্বে লোহিত সাগর, উত্তরে আটলাস পর্বত ও ভূমধ্যসাগর এবং তার দক্ষিণে নাইজার উপত্যকা অবস্থিত। অঞ্চলটি অতি উষ্ণ ও বেশির ভাগ অঞ্চলই অনুর্বর। অধিবাসীর অধিকাংশই যাযাবর। তারা ছাগল, ভেড়া, উট পালন করে এবং পানির সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। যাযাবর ও পণ্য বাহকেরা যাতায়াতের জন্য উট ব্যবহার করে।
- 15.
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব স্বীয় ভ্রাতাদের সাথে উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বে জয়লাভ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। সুশাসন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করাই ছিল তার শাসনামলের অন্যতম লক্ষ্য । তার সময়কাল ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কারণ তার সময়েই সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ ও চিন্তাধারা বিকাশ লাভ করে। শিক্ষা, শিল্পকলা ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য মুঘল ইতিহাসে তার রাজত্বকাল উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে।
- 16.
- 17.
গাজান খান পারস্যের ইলখানি শাসকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন। তিনি ইলখানি বংশের এক সংকটময় মুহূর্তে সিংহাসনে বসেন। স্বীয় প্রতিভা, সাহস, দক্ষতা ও সাংগঠনিক শক্তিবলে তিনি পারস্যের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করেন। যে সমস্ত বিদ্রোহ ও বিশৃন্সলা সাম্রাজ্যের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলেছিল, তিনি সেগুলো কঠোর হয়ে দমন করে আসন্ন বিপদের হাত থেকে ইলখানি সাম্রাজ্যকে রক্ষা করেন। এজন্য তাকে ইলখানি সাম্রাজ্যের 'রক্ষাকারী' বলে অভিহিত করা হয়
- 18.
রায়পুর জেলা পরিষদের প্রশাসক নির্বাচিত হয়ে সেলিম চৌধুরী তার জেলায় কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেন। এদের মধ্যে কয়েকজন যোগ্য হলেও তারা ছিলেন প্রশাসকের নিকটআত্মীয়। কিছু দিন পর কতিপয় ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, কোষাগারের অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বেশ কিছু অভিযোগ উত্থাপন করে। বিশেষ মহলের উস্কানিতে বিদ্রোহীরা এক পর্যায়ে প্রশাসকের বাসভবন অবরোধ করে এবং সেই সাথে উত্তেজিত জনতা তাকে আক্রমণ করে। ফলে রায়পুরের অধিবাসীদের মধ্যে সৌহার্দ ও সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় এবং সংঘাতের বীজ রোপিত হয়।
- 19.
হযরত ইব্রাহীম (আ) ২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ইরাকের বাবেল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ঐশীবাণী প্রাপ্ত হয়ে তিনি সেখানে একটি নতুন। ধর্মমত এবং আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার শুরু করেন। কিন্তু বাবেলের শাসক মূর্তি পূজারি নমরুদ এর বিরোধিতা শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত। শান্তিস্বরূপ হযরত ইব্রাহীম (আ)-কে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করে হত্যার চেষ্টা করে। আল্লাহর রহমতে তিনি অগ্নি থেকে রক্ষা পান এবং নিজ মাতৃভূমি পরিত্যাগ করে সিরিয়া গমন করেন। তিনি আল্লাহর ইবাদত। করার জন্য ধ্বংসপ্রাপ্ত কাবাঘর পুনঃনির্মাণ করেন এবং আল্লাহর। একত্ববাদ প্রচার করতে থাকেন।
- 20.
রোমান রাজা ফিউডাল খুবই ধার্মিক ছিলেন। তবে রাজনৈতিক স্বার্থে তিনি খুবই নৃশংস ছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে ভেবে তিনি তার প্রধান সেনাপতিকে হত্যা করলে সেনাপতির সমর্থকদের দ্বারা যে বিদ্রোহ দেখা দেয় রাজা তাও অতি কঠোর হাতে দমন করেন। তার ধার্মিকতার সুযোগে একদল প্রজা তাকে প্রভু বলে পূল করতে এলে এক মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়। সৌভাগ্যক্রমে রাজা সবকিছু মোকাবিলা করতে সক্ষম হন।
- 21.
মেনেস প্রাচীন মিসরের শক্তিশালী ফারাও ছিলেন। তিনি। মিসরের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে নিজ বংশের শাসন। প্রতিষ্ঠা করেন। রাজকোষকে তিনি ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করতেন। তিনি প্রথম মিসরে নৌবাহিনীর পত্তন করে গ্রিকদের অনেক দীপাঞ্চল। নিজ রাজভুক্ত করেছিলেন। মিসরের প্রধান পুরোহিত ছিলেন তার ভগ্নিপতি। তার শাসনকাল ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ধর্ম-কর্মে একনিষ্ঠ হলেও। তিনি ছিলেন কুটিল চরিত্রের অধিকারী। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তিনি যে কোনো জঘন্য কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করতেন না। তার একমাত্র পুত্র ছিল পাপাসক্ত, অত্যাচারী, ইন্দ্রিয়পরায়ণ এবং অকর্মণ্য। মেনেস মৃত্যুকালে তার পাপাসক্ত ছেলেকে মিসরের সিংহাসনের পরবর্তী' উত্তরাধিকার নিযুক্ত করেন।
- 22.
উত্তর আফ্রিকার এক বিখ্যাত রাজা ছিলেন মিস্টার হান্টার। সিংহাসনে আরোহণ করেই তিনি সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আয়ত্তে আনেন। তিনি রাজ্যে বহুবিধ শাসন সংস্কার করে মৌলিক প্রতিভার পরিচয় দেন। তিনি রাজ্যের সরকারি দপ্তরে তার নিজ মাতৃভাষাকে বাধ্যতামূলক করেন। এছাড়াও তিনি নিজ মাতৃলিপির উৎকর্ষ সাধন, নির্দিষ্ট মানের ধাতব মুদ্রার সংস্কার এবং প্রচলন, ডাক বিভাগের উন্নয়ন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য রাজস্ব ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করেন। উত্তর আফ্রিকার শাসকদের মধ্যে মিস্টার হান্টারই শ্রেষ্ঠত্বের আসন অর্জন করে চির ভাস্বর হয়ে আছেন।