ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • প্রাক-ইসলামি আরব • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
'ফারাও' কোন রাজাদের উপাধি ছিল?
- খ)(2)
হায়ারোগ্লিফিক কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রটি কোন প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত সভ্যতার অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ফারাও' প্রাচীন মিসরের রাজাদের উপাধি ছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হায়ারোগ্লিফিক হলো প্রাচীন মিসরীয়দের উদ্ভাবিত চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতি।
'হায়ারোগ্লিফিক' (Hieroglyphic) শব্দটির অর্থ 'পবিত্র লিপি' (Sacred Carving)। প্রাচীন মিসরীয়রা তাদের বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজাদের গুণকীর্তন ও ইতিহাস সংরক্ষণ করার জন্য বিভিন্ন প্রতীকের সাহায্যে পাথর বা প্যাপিরাসের গায়ে চিত্রলিপি খোদাই করত। এতে প্রায় ৭৫০টির মতো স্বতন্ত্র চিহ্ন বা প্রতীক ব্যবহৃত হতো। প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার লিখন পদ্ধতির ইতিহাসে এটি এক অনন্য সংযোজন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রটি প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শন 'পিরামিড'-এর।
প্রাচীন মিসরীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে মৃত্যুর পর তাদের আত্মা পুনরায় ফিরে আসবে এবং তারা পরকালে অনন্তকাল বেঁচে থাকবে। এই পরলৌকিক বিশ্বাস থেকেই তারা মৃতদেহকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মমি বানিয়ে সংরক্ষণ করত এবং রাজাদের (ফারাও) মৃতদেহ চিরতরে সুরক্ষিত রাখতে বিশাল ও সুদৃঢ় সমাধিস্তম্ভ নির্মাণ করত, যা 'পিরামিড' নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের চিত্রে গিজার বিখ্যাত পিরামিডগুলো প্রদর্শিত হয়েছে। মিসরের ফারাওদের ক্ষমতা, প্রকৌশল বিদ্যা এবং ধর্মীয় অনুভূতির এক অনন্য প্রকাশ ছিল এই পিরামিডগুলো, বিশেষ করে ফারাও খুফুর নির্মিত গিজার গ্রেট পিরামিড পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম। সুতরাং, উদ্দীপকে দৃশ্যমান পিরামিডের চিত্রটি প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতারই সুস্পষ্ট নিদর্শন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা বিশ্ব সভ্যতার অগ্রগতিতে বহুমুখী ও অসামান্য অবদান রেখেছিল। নিম্নে তা মূল্যায়ন করা হলো:
১. স্থাপত্য ও ভাস্কর্য: উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত পিরামিড মিসরীয়দের অনন্য স্থাপত্যরীতির পরিচায়ক। এছাড়া তাদের নির্মিত স্ফিংসের মূর্তি, বিভিন্ন বিশালাকার মন্দির (যেমন কার্নাক ও লুক্সরের মন্দির) তাদের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শিল্পের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে।
২. বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিদ্যা: মৃতদেহ সংরক্ষণ করতে গিয়ে তারা অ্যানাটমি বা শরীরবিদ্যা এবং রসায়নে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করে। এছাড়া চোখ, দাঁত ও অস্ত্রোপচারের চিকিৎসায় তারা বেশ পারদর্শী ছিল।
৩. লিখন পদ্ধতি ও প্যাপিরাস: মিসরীয়রা হায়ারোগ্লিফিক নামক চিত্রলিপি উদ্ভাবন করে। নলখাগড়া জাতীয় গাছ থেকে তারা 'প্যাপিরাস' নামক কাগজ তৈরি করে, যা আধুনিক পেপারের পূর্বসূরি।
৪. গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যা: নীলনদের প্লাবন, জমি পরিমাপ এবং পিরামিড তৈরির প্রয়োজনে মিসরীয়রা জ্যামিতি ও পাটিগণিতের বহু নিয়মের বিকাশ ঘটায়। তারাই প্রথম ৩৬৫ দিনে এক বছর এবং ১২ মাসে এক বছরের সৌর পঞ্জিকা উদ্ভাবন করে।
পরিশেষে বলা যায়, স্থাপত্য-ভাস্কর্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান, লিখন পদ্ধতি ও ধর্মবিশ্বাসের সমন্বয়ে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা মানব সভ্যতার ভিত্তিভূমি হিসেবে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও