ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • আব্বাসীয় খিলাফত (৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব স্বীয় ভ্রাতাদের সাথে উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বে জয়লাভ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। সুশাসন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করাই ছিল তার শাসনামলের অন্যতম লক্ষ্য । তার সময়কাল ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কারণ তার সময়েই সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ ও চিন্তাধারা বিকাশ লাভ করে। শিক্ষা, শিল্পকলা ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য মুঘল ইতিহাসে তার রাজত্বকাল উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে।

  1. ক)

    বার্মাকি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    আবুল আব্বাসকে ‘আস-সাফফাহ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসকের সাথে তোমার পঠিত কোন আব্বাসি খলিফার কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তোমার পঠিত উক্ত খলিফার আমলে সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্ম- দর্শন এবং বিজ্ঞান চর্চার কার্যক্রম বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বার্মাকি বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন খালেদ বার্মাকি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উমাইয়াদের বিরুদ্ধে চরম নিষ্ঠুরতা, পাইকারি হত্যাকাণ্ড ও রক্তপাত ঘটানোর কারণে প্রথম আব্বাসীয় খলিফা আবুল আব্বাসকে ‘আস-সাফফাহ’ বা ‘রক্তপিপাসু’ বলা হয়। খিলাফতের প্রতিষ্ঠা সুসংহত করতে তিনি উমাইয়া রাজপরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করেন, এমনকি তাদের মৃতদেহ কবর থেকে তুলে অপমান করেন। তার এই তীব্র ধ্বংসাত্মক ও রক্তক্ষয়ী নীতির কারণেই তিনি এ উপাধি পান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসকের ভ্রাতৃদ্বন্দ্ব জয় এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতার কর্মকাণ্ডের সাথে আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুনের কর্মকাণ্ডের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে সম্রাট আওরঙ্গজেবের ভাইদের সাথে গৃহযুদ্ধে জয়লাভ এবং পরবর্তীতে বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশের কথা বলা হয়েছে। একইভাবে খলিফা হারুনুর রশিদের মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র আমিন ও মামুনের মধ্যে গৃহযুদ্ধ বা উত্তরাধিকার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এই দ্বন্দ্বে মামুন জয়লাভ করে আব্বাসীয় সিংহাসনে আরোহণ করেন।

    ক্ষমতা গ্রহণের পর খলিফা আল-মামুন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শনের অনন্য পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তার শাসনামল ছিল মুসলিম ইতিহাসের জ্ঞানতাত্ত্বিক রেনেসাঁর স্বর্ণযুগ। তিনি মুক্তবুদ্ধি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে রাজকীয় মর্যাদা দেন, যা উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার পরিবেশের সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুনের রাজত্বকাল (৮১৩-৮৩৩ খ্রি.) ছিল ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন ও চিন্তাধারার ইতিহাসের স্বর্ণযুগ। তার সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে চর্চার বিবরণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বায়তুল হিকমাহ প্রতিষ্ঠা: জ্ঞান চর্চার জন্য আল-মামুন বাগদাদে 'বায়তুল হিকমাহ' (House of Wisdom) নামক বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা ছিল একাধারে একাডেমি, গ্রন্থাগার ও অনুবাদ ব্যুরো।

    ২. অনুবাদ ও দর্শন চর্চা: এ যুগে গ্রিক, ফারসি, সংস্কৃত ও সিরীয় ভাষার বহু অমূল্য দর্শন ও বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ আরবিতে অনূদিত হয়। বিশেষ করে প্লেটো ও এরিস্টটলের দর্শন এবং ভারতীয় যুক্তিবিদ্যা চর্চা গতিশীল হয়। হুনাইন ইবনে ইসহাক ছিলেন অনুবাদের প্রধান পুরোধা। এর ফলে মুক্তচিন্তা ও মুতাজিলা মতবাদের বিকাশ ঘটে, যা মামুনের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছিল।

    ৩. বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান: গণিত, চিকিৎসা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে অসামান্য অগ্রগতি সাধিত হয়। বীজগণিতের জনক আল-খাওয়ারিজমি মামুনের পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ রচনা করেন। মামুনের নির্দেশে বাগদাদের শাম্মাসিয়া এবং দামেস্কে দুটি মানমন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পৃথিবীর পরিধি সঠিকভাবে পরিমাপ করা হয়।

    ৪. সাহিত্য ও ইতিহাস চর্চা: মামুনের রাজদরবারে বহু কবি, ভাষাতত্ত্ববিদ ও ইতিহাসবিদ সমাদৃত হতেন। আরবি গদ্য ও ব্যাকরণের ব্যাপক সংস্কার ও অগ্রগতি ঘটে। ইবনে হিশামের সিরাত সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ রূপদানও এ সময়ের অন্যতম অর্জন।

    সুতরাং, আল-মামুনের পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলিম বিশ্ব জ্ঞান-বিজ্ঞানের শীর্ষ শিখরে পৌঁছেছিল, যা পরবর্তীকালে ইউরোপীয় রেনেসাঁয় বিশাল ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন