ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.) • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

হযরত ইব্রাহীম (আ) ২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ইরাকের বাবেল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ঐশীবাণী প্রাপ্ত হয়ে তিনি সেখানে একটি নতুন। ধর্মমত এবং আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার শুরু করেন। কিন্তু বাবেলের শাসক মূর্তি পূজারি নমরুদ এর বিরোধিতা শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত। শান্তিস্বরূপ হযরত ইব্রাহীম (আ)-কে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করে হত্যার চেষ্টা করে। আল্লাহর রহমতে তিনি অগ্নি থেকে রক্ষা পান এবং নিজ মাতৃভূমি পরিত্যাগ করে সিরিয়া গমন করেন। তিনি আল্লাহর ইবাদত। করার জন্য ধ্বংসপ্রাপ্ত কাবাঘর পুনঃনির্মাণ করেন এবং আল্লাহর। একত্ববাদ প্রচার করতে থাকেন।

  1. ক)

    মিরাজ কত খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    মক্কা বিজয়কে 'রক্তপাতহীন বিজয়' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর সাথে তোমার পঠিত। কোন মহান ব্যক্তির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তোমার পঠিত উক্ত মহান ব্যক্তির জন্মভূমি ত্যাগকে কি 'মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা' হিসেবে অভিহিত করা যায়? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মিরাজ ৬২০ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ৬২১ খ্রিষ্টাব্দে বা নবুওয়াতের দশম/একাদশ বর্ষে) সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) দশ হাজার সাহাবি নিয়ে মক্কা বিজয় করেন। বিজয়ের পর তিনি কোনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি, কোনো যুদ্ধ সংঘটিত হয়নি এবং রক্তপাত ছাড়াই মক্কার চরম অত্যাচারী শত্রুদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়েছিল। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ উপায়ে ও রক্তপাত ছাড়াই শহরটি জয় ও মুক্ত হয়েছিল বলে মক্কা বিজয়কে 'রক্তপাতহীন বিজয়' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর সাথে আমার পঠিত মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, হযরত ইব্রাহীম (আ.) একত্ববাদ প্রচার করায় শাসক নমরুদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন, তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয় এবং তিনি মাতৃভূমি ত্যাগ করে সিরিয়ায় হিজরত করেন। পরবর্তীতে তিনি কাবাঘর পুনঃনির্মাণ করে আল্লাহর ইবাদত প্রতিষ্ঠা করেন।

    অনুরূপভাবে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কায় পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত দিলে কুরাইশ কাফেররা তাঁর ঘোর বিরোধিতা করে এবং তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। ফলে আল্লাহর আদেশে তিনি স্বীয় মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করেন। পরবর্তীতে তিনি মক্কা বিজয় করে কাবাঘরকে ৩৬০টি মূর্তির অপবিত্রতা থেকে মুক্ত করে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করেন। অতএব, বিরোধিতার শিকার হওয়া, হত্যাচেষ্টা, মাতৃভূমি ত্যাগ এবং কাবাঘরকে কেন্দ্র করে একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার দিক দিয়ে উভয়ের মধ্যে স্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মভূমি ত্যাগ অর্থাৎ মদিনায় হিজরতকে ইসলামের ইতিহাসে একটি অবিসংবাদিত 'মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা' হিসেবে অভিহিত করা যায়।

    মক্কায় তেরো বছর ধরে মহানবি (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা চরম নির্যাতন, বয়কট ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। কাফেরদের ষড়যন্ত্র ও ইসলাম প্রচারের পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (সা.) মদিনায় হিজরত করেন। এই হিজরত কেবল একটি শহর থেকে অন্য শহরে স্থানান্তর ছিল না, বরং তা ছিল ইসলাম ও বিশ্ব ইতিহাসের এক নতুন দিগন্তের সূচনা।

    হিজরতের ফলেই নির্যাতিত মুসলিমরা একটি নিরাপদ আশ্রয় পায় এবং সেখানে মদিনা সনদের মাধ্যমে প্রথম ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপিত হয়। মদিনায় ইসলাম একটি নিছক ধর্মবিশ্বাস থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থায় রূপ লাভ করে। মুসলমানদের সামরিক শক্তি সুসংহত হয় এবং একের পর এক বিজয়ের মাধ্যমে ইসলাম আরবের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়। এমনকি এই ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেই পরবর্তীকালে হযরত উমর (রা.) হিজরতের বছর থেকেই ইসলামি হিজরি সনের গণনা শুরু করেন।

    অতএব, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মদিনায় হিজরত দুর্বলতা ও নিপীড়নের অধ্যায় শেষ করে শক্তি, স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সার্বভৌমত্বের পথ সুগম করেছিল বিধায় এটি নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী ও 'মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা'।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন