‍ইতিহাস ১ম পত্র • স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

সকালে দোকান খুলে মোবারক রেডিওতে শুনতে পায়, “এটিই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আজ হতে বাংলাদেশ………..।”

  1. ক)

    মুক্তিযুদ্ধে কতটি সেক্টর ছিল?

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক গণতন্ত্র বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বার্তাটি কে, কোন প্রসঙ্গে দিয়েছিলেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উক্তবার্তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মৌলিক গণতন্ত্র হলো ১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান প্রবর্তিত একটি পরোক্ষ ও সীমিত ভোটাধিকারভিত্তিক শাসনব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার আওতায় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ (পরবর্তীতে ১,২০,০০০) নির্বাচিত মৌলিক গণতন্ত্রী (ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্য) নির্ধারণ করা হতো। সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটাধিকার হরণ করে কেবল এই নির্বাচিত প্রতিনিধি বা মৌলিক গণতন্ত্রীদের ভোটের মাধ্যমেই প্রেসিডেন্ট, জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বার্তাটি স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা প্রসঙ্গে দিয়েছিলেন।

    ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্বপরিকল্পিত 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর মাধ্যমে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা শুরু করে। এই নৃশংস হামলার প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫শে মার্চ দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে ওয়্যারলেসের (ইপিআর-এর ট্রান্সমিটার) মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

    উদ্দীপকের বাক্যটি—"এটিই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আজ হতে বাংলাদেশ..."—বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণার প্রারম্ভিক অংশ। এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশকে শত্রুমুক্ত না করা পর্যন্ত সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বঙ্গবন্ধুর ২৬শে মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম এবং নির্ধারক।

    ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ চালালে জাতি দিকভ্রান্ত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে ছিল। এমন সংকটময় সন্ধিক্ষণে রাত ১২টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তাঁর এই বার্তা ইপিআর ট্রান্সমিটার, টেলিগ্রাম ও টেলিগ্রাফের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে এম. এ. হান্নান এবং পরবর্তীতে ২৭শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে এ ঘোষণা পাঠ করে বিশ্ববাসীকে তা অবহিত করেন।

    এই ঘোষণার ফলে বাঙালি জাতির জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এক সশস্ত্র ও আনুষ্ঠানিক মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়। এটি মুক্তিযুদ্ধের নৈতিক ও আইনগত ভিত্তি স্থাপন করেছিল। বঙ্গবন্ধুর এই ডাকে সাড়া দিয়ে পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্টসহ সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ, ছাত্র-কৃষক-শ্রমিক পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

    সুতরাং, বঙ্গবন্ধুর এই বার্তাটি ছিল স্বাধীনতার চূড়ান্ত ডাক, যা সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে ৯ মাসের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন