ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • প্রাক-ইসলামি আরব • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
অফ্রিকার উত্তরাংশে বিশাল অংশ জুড়ে সাহারা মরুভূমি অবস্থিত। এর পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর, পূর্বে লোহিত সাগর, উত্তরে আটলাস পর্বত ও ভূমধ্যসাগর এবং তার দক্ষিণে নাইজার উপত্যকা অবস্থিত। অঞ্চলটি অতি উষ্ণ ও বেশির ভাগ অঞ্চলই অনুর্বর। অধিবাসীর অধিকাংশই যাযাবর। তারা ছাগল, ভেড়া, উট পালন করে এবং পানির সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। যাযাবর ও পণ্য বাহকেরা যাতায়াতের জন্য উট ব্যবহার করে।
- ক)(1)
কাদের বেদুইন বলা হয়?
- খ)(2)
আসাবিয়া বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাহারা মরুভূমির সাথে তোমার পঠিত কোন অঞ্চলের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত অঞ্চলের অধিবাসীদের জীবন-জীবিকা পর্যালোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরবের যাযাবর বা মরুচারী অধিবাসীদের বেদুইন বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘আসাবিয়া’ বলতে প্রাচীন আরবদের তীব্র গোত্রপ্রীতি বা গোত্রীয় সংহতিকে বোঝায়। এটি ছিল রক্তসম্পর্কভিত্তিক চরম আনুগত্য, যেখানে গোত্রের প্রতিটি সদস্য গোত্রের সম্মান ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকত। অন্যায় হোক বা ন্যায়, নিজ গোত্র ও সদস্যদের প্রতি অন্ধ সমর্থন দেওয়াই ছিল এই আসাবিয়া বা গোত্রীয় চেতনার মূল বৈশিষ্ট্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাহারা মরুভূমির ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও জীবনযাত্রার সাথে আমার পঠিত প্রাক-ইসলামি আরবের 'মরুভূমি ও ভৌগোলিক পরিবেশ'-এর গভীর সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সাহারা অঞ্চলটি অত্যন্ত উষ্ণ, অনুর্বর, যাযাবরদের বিচরণক্ষেত্র এবং তাদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম উট। একইভাবে ইসলাম-পূর্ব যুগে আরব উপদ্বীপের তিন দিক জলভাগ দ্বারা বেষ্টিত ছিল এবং এর অধিকাংশ অঞ্চল ছিল শুষ্ক ও বালুকাময় মরুভূমি। সেখানকার জলবায়ু ছিল অত্যন্ত উষ্ণ ও চরমভাবাপন্ন। মরূদ্যান ব্যতিরেকে অধিকাংশ অঞ্চলই কৃষিকাজের অনুপযোগী ছিল।
সাহারা মরুভূমির মতো আরবের মরুভূমিতেও বেদুইনরা বসবাস করত এবং তারা পানির সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াত। যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের জন্য আরবদের একমাত্র নির্ভরযোগ্য বাহন ছিল উট, যাকে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হতো। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের প্রাকৃতিক অবস্থা ও পরিবেশ ইসলাম-পূর্ব আরব উপদ্বীপের মরু অঞ্চলের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে প্রাক-ইসলামি আরবের মরু অঞ্চলের অধিবাসী অর্থাৎ বেদুইনদের জীবন-জীবিকা অত্যন্ত কষ্টকর, যাযাবর প্রকৃতির ও প্রতিকূল পরিবেশে আবর্তিত ছিল। নিচে তাদের জীবন-জীবিকা পর্যালোচনা করা হলো:
১. যাযাবর জীবন: উদ্দীপকের মতো আরবের অধিকাংশ অঞ্চল অনুর্বর হওয়ায় অধিবাসীরা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারত না। তারা তাঁবু তৈরি করে পানির উৎস ও চারণভূমির সন্ধানে পরিবার-পরিজন নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাযাবর জীবনযাপন করত।
২. পশুপালন: মরুচারী আরবদের প্রধান জীবিকা ছিল পশুপালন। তারা উট, ছাগল ও ভেড়া পালন করত। এসব পশুর দুধ ও মাংস তাদের প্রধান আহার ছিল এবং পশুর চামড়া দিয়ে তারা তাঁবু ও পোশাক তৈরি করত।
৩. উটের ওপর নির্ভরতা: উট ছিল তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। উদ্দীপকে যেমন যাযাবরদের উট ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, তেমনই আরবে উট ছিল তাদের পরম বন্ধু ও প্রধান বাহন। যুদ্ধের বাহন এবং পণ হিসেবেও উট ব্যবহৃত হতো।
৪. বাণিজ্য ও লুণ্ঠন: চরম খাদ্য সংকটের কারণে অনেক বেদুইন বাণিজ্য কাফেলায় পণ্য বহন করত কিংবা পাহারা দিত। আবার অভাবের তাড়নায় অনেক যাযাবর গোত্র অন্য গোত্রের ওপর আক্রমণ চালিয়ে গবাদিপশু ও ধনসম্পদ লুণ্ঠন ('গাজওয়া') করে জীবিকা নির্বাহ করত।
সার্বিকভাবে, আরবের মরুভূমির চরম বৈরী ভৌগোলিক পরিবেশই তাদের একটি সংগ্রামী, যাযাবর ও পশুপালনভিত্তিক জীবনধারায় অভ্যস্ত করে তুলেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও