‍ইতিহাস ১ম পত্র • মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক ভূমিকা • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে গিয়ে রুবেল দাদু কে জিজ্ঞেস করল, “মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত ও রাশিয়ার মতো বিশ্বের সব দেশই কি আমাদের সাহায্য করেছিল।” উত্তরের দাদু বললেন, শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দুটি দেশ সরাসরি আমাদের বিরোধিতা করেছে, অন্য একটি রাষ্ট্র আমাদের আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন করেছে।

  1. ক)

    বাংলাদেশ একটি তলাবিহীন ঝুঁড়ি - উক্তিটি কার?

    (1)
  2. খ)

    প্রবাসী বাঙালি বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের উল্লিখিত বিরোধী রাষ্ট্রগুলো যে ভূমিকা পালন করেছিল - তা মূল্যায়ন কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত কর্মকান্ডের বিপরীতে যে রাষ্ট্রটি ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের (বা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা অ্যালেক্সিস জনসন)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রবাসী বাঙালি বলতে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের বাইরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাসকারী বাঙালি জনগোষ্ঠীকে বোঝায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনমত গঠন, তহবিল সংগ্রহ, নিজ নিজ দেশের সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও ওষুধ সহায়তা প্রেরণের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দুটি পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের ভূমিকার কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (নিক্সন-কিসিঞ্জার প্রশাসন) এবং গণচীন পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার নামে পাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে সরাসরি সমর্থন দেয়। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করে এবং বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাঙালি নিধনকে পাকিস্তানের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। মুক্তিযুদ্ধের শেষভাগে পরাজয় আসন্ন দেখে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তোলে এবং বঙ্গোপসাগরে পরমাণুবাহী সপ্তম নৌবহর পাঠায়।

    অন্যদিকে, চীন তৎকালীন বিশ্বরাজনীতির মেরুকরণ ও ভারত-সোভিয়েত বৈরিতার কারণে পাকিস্তানকে পূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দেয়। তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার প্রয়াস চালায়। এভাবে বিরোধী এই দুই শক্তি বাঙালির মুক্তিসংগ্রামকে স্তব্ধ করার জোরালো অপচেষ্টা চালিয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বিরোধিতাকারী রাষ্ট্রগুলোর বিপরীতে যে শক্তিধর রাষ্ট্রটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অত্যন্ত সক্রিয় ও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল, তা হলো তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া)।

    মুক্তিযুদ্ধকালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে সুগম করেছিল। প্রথম থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়ন গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানায় এবং সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট নিকোলাই পোদগর্নি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান।

    কূটনৈতিক ক্ষেত্রে জাতিসংঘে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখনই যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে বানচাল করার চেষ্টা করেছে, তখনই নিরাপত্তা পরিষদে সোভিয়েত ইউনিয়ন 'ভেটো' (Veto) প্রয়োগ করে সেই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেয়। এছাড়া, ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি (১৯৭১) স্বাক্ষরিত হওয়ার ফলে পরাশক্তিগুলোর সরাসরি হস্তক্ষেপের ভয় কেটে যায়।

    তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্র যখন বঙ্গোপসাগরে তাদের সপ্তম নৌবহর পাঠায়, তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন তার জবাবে নিজস্ব পারমাণবিক শক্তিচালিত নৌবহর প্রেরণ করে যুক্তরাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করে। তাই বলা যায়, সোভিয়েত ইউনিয়নের বলিষ্ঠ রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত হয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন