ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • খুলাফায়ে রাশেদিন (৬৩২-৬৬১ খ্রি.) • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
রায়পুর জেলা পরিষদের প্রশাসক নির্বাচিত হয়ে সেলিম চৌধুরী তার জেলায় কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেন। এদের মধ্যে কয়েকজন যোগ্য হলেও তারা ছিলেন প্রশাসকের নিকটআত্মীয়। কিছু দিন পর কতিপয় ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, কোষাগারের অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বেশ কিছু অভিযোগ উত্থাপন করে। বিশেষ মহলের উস্কানিতে বিদ্রোহীরা এক পর্যায়ে প্রশাসকের বাসভবন অবরোধ করে এবং সেই সাথে উত্তেজিত জনতা তাকে আক্রমণ করে। ফলে রায়পুরের অধিবাসীদের মধ্যে সৌহার্দ ও সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় এবং সংঘাতের বীজ রোপিত হয়।
- ক)(1)
আসাদুল্লাহ' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
খারেজি কারা? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনাটি খুলাফায়ে রাশেদিনের কোন খলিফাকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত খলিফার পরিণতি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আসাদুল্লাহ' শব্দের অর্থ হলো 'আল্লাহর সিংহ'। এটি হযরত আলী (রা.)-এর বীরত্বসূচক উপাধি ছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'খারেজি' হলো ইসলামের ইতিহাসের প্রথম উগ্র রাজনৈতিক-ধর্মীয় দল। আরবি 'খারেজি' শব্দের অর্থ 'দলত্যাগী' বা 'বহির্গত'। সিফফিনের যুদ্ধে হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যে মীমাংসার জন্য সালিশি নীতি গৃহীত হলে হযরত আলীর দলের একটি উগ্রপন্থী অংশ 'আল্লাহ ছাড়া কারও হুকুম চলে না' স্লোগান দিয়ে তাঁর দল ত্যাগ করে। এ দলত্যাগীদের ইতিহাসে 'খারেজি' বলা হয়। তারা খলিফা হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়া (রা.) উভয়কেই অবিশ্বাসী ঘোষণা করে তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি খোলাফায়ে রাশেদীনের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-কে ইঙ্গিত করে।
হযরত উসমান (রা.) তাঁর খেলাফতের শেষার্ধে বিভিন্ন প্রদেশে উমাইয়া বংশীয় যোগ্য ব্যক্তিদের প্রশাসক ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিরোধী শক্তি ও উগ্রবাদীরা এটিকে 'স্বজনপ্রীতি' এবং বায়তুল মালের অর্থ অপচয় হিসেবে আখ্যায়িত করে মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। মিসর, কুফা ও বসরা থেকে আসা বিদ্রোহীরা মদিনায় একত্রিত হয়ে তাঁর বাসভবন অবরোধ করে এবং পরিশেষে এক চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকের সেলিম চৌধুরীও যোগ্য আত্মীয়দের পদায়ন করার পর স্বজনপ্রীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হন এবং বিদ্রোহীরা তাঁর বাসভবন অবরোধ করে। এই ঘটনাগুলো সরাসরি খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালের সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে নির্দেশিত খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর পরিণতি ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক ও ইসলামি ইতিহাসের জন্য সুদূরপ্রসারী অকল্যাণকর।
হযরত উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে অসন্তোষকে পুঁজি করে আবদুল্লাহ ইবনে সাবার মতো ষড়যন্ত্রকারীরা মিসর, কুফা ও বসরায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। বিদ্রোহীরা মদিনায় এসে খলিফার পদত্যাগ দাবি করে। কিন্তু খলিফা মহানবি (সা.)-এর প্রদত্ত খেলাফতের আমানত স্বীয় পদত্যাগের মাধ্যমে ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি রক্তপাত এড়ানোর জন্য কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকেও বিরত থাকেন। ফলে বিদ্রোহীরা দীর্ঘ প্রায় ৪০ দিন তাঁর বাসভবন অবরোধ করে রাখে, এমনকি তাঁর পানি ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ জুন (১৮ জিলহজ, ৩৫ হিজরি) একদল বিদ্রোহী খলিফার বাসভবনে প্রবেশ করে এবং পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় বয়োবৃদ্ধ খলিফা হযরত উসমান (রা.)-কে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই মর্মান্তিক শাহাদাতের ফলে মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ ঐক্য চিরতরে বিনষ্ট হয়।
হযরত উসমান (রা.)-এর এই করুণ পরিণতির মধ্য দিয়ে মদিনা কেন্দ্রিক খেলাফতের শান্তিময় পরিবেশ ধ্বংস হয় এবং গৃহযুদ্ধ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের স্থায়ী বীজ রোপিত হয়, যা পরবর্তিতে জঙ্গে জামাল ও সিফফিনের যুদ্ধের মতো বড় বড় বিপর্যয় ডেকে আনে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও