জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
অ্যানজাইনা কী?
- খ)(2)
আর্টারিওস্ক্লেরোসিস বলতে কী বুঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের অঙ্গটিতে বিভিন্ন কপাটির ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের অঙ্গটির কার্যক্রম 'P' কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হৃৎপেশিতে অপর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহের কারণে অক্সিজেন ঘাটতিজনিত কারণে সৃষ্ট বুকে তীব্র অস্বস্তি বা চাপযুক্ত ব্যথাকে অ্যানজাইনা (Angina pectoris) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আর্টারিওস্ক্লেরোসিস হলো ধমনির প্রাচীর শক্ত, পুরু ও স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস পাওয়ার একটি রোগগত অবস্থা। সাধারণত ধমনির প্রাচীরে ক্যালসিয়াম, চর্বি বা কোলাজেন জমা হয়ে ধমনির প্রসারণ ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে ধমনির ভেতর দিয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং উচ্চ রক্তচাপসহ হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের অঙ্গটি হলো মানব হৃদপিণ্ড। হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠ এবং প্রধান রক্তনালির সংযোগস্থলে বিদ্যমান কপাটিকাগুলো (Valves) রক্তপ্রবাহকে সর্বদা একমুখী রাখে এবং রক্তের বিপরীতমুখী প্রবাহ রোধ করে। হৃদপিণ্ডের প্রধান কপাটিকাগুলোর ভূমিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. ট্রাইকাসপিড কপাটিকা: ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এটি ডান অলিন্দ থেকে ডান নিলয়ে রক্ত প্রবেশ করতে দেয়, কিন্তু নিলয়ের সংকোচনের সময় রক্তকে পুনরায় অলিন্দে ফিরে যেতে বাধা দেয়।
২. বাইকাসপিড বা মাইট্রাল কপাটিকা: বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এটি বাম অলিন্দ থেকে বাম নিলয়ে রক্তপ্রবাহ নিশ্চিত করে এবং উল্টো প্রবাহ রোধ করে।
৩. পালমোনারি সেমিলুনার কপাটিকা: ডান নিলয় ও পালমোনারি ধমনির মুখে অবস্থিত। এটি ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনিতে রক্ত পাঠায় এবং নিলয়ের ডায়াস্টোলের সময় রক্তকে নিলয়ে ফিরে আসতে দেয় না।
৪. অ্যাওর্টিক সেমিলুনার কপাটিকা: বাম নিলয় ও মহাধমনির (অ্যাওর্টা) সংযোগস্থলে অবস্থিত। এটি বাম নিলয় থেকে মহাধমনিতে রক্ত প্রবেশে সহায়তা করে এবং বিপরীত প্রবাহ বন্ধ রাখে।
৫. ইউস্টেসিয়ান ও থিবেসিয়ান কপাটিকা: যথাক্রমে নিম্ন মহাশিরা ও করোনারি সাইনাসের মুখে অবস্থিত, যা অলিন্দের সংকোচনের সময় রক্তকে ওই নালিগুলোতে পুনরায় প্রবেশ করতে বাধা দেয়।সুতরাং, হৃদপিণ্ডের কপাটিকাগুলো রক্ত সঞ্চালনকে ছন্দোবদ্ধ ও একমুখী রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থিত 'P' অংশটি হলো সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড বা এসএ নোড (SAN), যা হৃদপিণ্ডের প্রাকৃতিক পেসমেকার (Pacemaker) হিসেবে পরিচিত। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকশন পটেনশিয়াল বা বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা তৈরি করে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন ও সংকোচন-প্রসারণের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
'P' (SAN)-এর নিয়ন্ত্রণ কৌশল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. স্পন্দন সৃষ্টি: SAN পরিবর্তিত হৃৎপেশি কোষ দ্বারা গঠিত। কোনো বাহ্যিক স্নায়বিক উদ্দীপনা ছাড়াই এটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়মিত ছন্দে (প্রতি মিনিটে ৭০-৮০ বার) বৈদ্যুতিক সংকেত বা স্পন্দন তৈরি করে।
২. অলিন্দের সংকোচন: SAN থেকে উৎপন্ন বৈদ্যুতিক তরঙ্গ দ্রুত উভয় অলিন্দের প্রাচীরে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে ডান ও বাম অলিন্দ একসাথে সংকুচিত (সিস্টোল) হয় এবং রক্ত নিলয়ে প্রবেশ করে।
৩. এভি নোডে (AVN) উদ্দীপনা প্রেরণ: অলিন্দ প্রাচীর অতিক্রম করে এই সংকেত অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার নোড বা AVN-এ পৌঁছায়।
৪. নিলয়ে উদ্দীপনা সঞ্চালন: AVN সংকেতটিকে সামান্য বিলম্বিত করে বান্ডল অব হিজ (Bundle of His) এবং পার্কিনজি তন্তুর (Purkinje fibers) মাধ্যমে নিলয়ের মায়োকার্ডিয়ামে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়। ফলে অলিন্দের প্রসারণের সাথে সাথে নিলয় দুটি একসঙ্গে শক্তিশালীভাবে সংকুচিত হয় এবং যথাক্রমে ফুসফুস ও সারা দেহে রক্ত পাম্প করে।এভাবে 'P' বা সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড পুরো মায়োজেনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে হৃদস্পন্দনের উৎপত্তি ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে হৃদপিণ্ডকে সচল রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও