যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পদের ব্যাপ্যতা কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘কোন যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ অব্যাপ্য’– ব্যাখ্যা কর ।

    (2)
  3. গ)

    পদের ব্যাপ্যতার দিক থেকে চিত্র-২ কোন ধরনের যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্র-১ ও চিত্র-৩ পরস্পর থেকে কীভাবে ভিন্ন? ব্যাপ্যতার আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো যুক্তিবাক্যে একটি পদ তার ব্যক্তর্থের সমগ্র অংশ জুড়ে ব্যবহৃত হওয়া বা না হওয়াকে পদের ব্যাপ্যতা বলে। সহজ কথায়, একটি যুক্তিবাক্যে কোনো পদ তার সমগ্র বা আংশিক ব্যক্তর্থ প্রকাশ করার ক্ষমতাকে পদের ব্যাপ্যতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সদর্থক যুক্তিবাক্যের (A ও I বাক্য) বিধেয় পদ সর্বদা অব্যাপ্য হয়।

    কোনো সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয় পদটি স্বীকার করা হলেও বিধেয় পদের সমগ্র ব্যক্তর্থকে বিবেচনা করা হয় না, কেবল উদ্দেশ্য পদের সমপরিমাণ ব্যক্তর্থকে গ্রহণ করা হয়। যেমন: ‘সকল মানুষ হয় মরণশীল’ (A বাক্য) যুক্তিবাক্যটিতে ‘মরণশীল’ বিধেয় পদটি তার সমগ্র ব্যক্তর্থের (মানুষ ছাড়াও অন্যান্য জীব) ক্ষেত্রে প্রযুক্ত না হয়ে কেবল মানুষের ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয়েছে। ফলে বিধেয়ের ব্যক্তর্থ আংশিক প্রকাশিত হওয়ায় এটি অব্যাপ্য থাকে। একইভাবে I বাক্যেরও বিধেয় পদ অব্যাপ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পদের ব্যাপ্যতার দিক থেকে চিত্র-২ ‘E’ বা সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করে।

    উদ্দীপকের চিত্র-২-এ দেখা যাচ্ছে, প্রথম পদ (উদ্দেশ্য পদ) এবং দ্বিতীয় পদ (বিধেয় পদ) উভয়েই রেখাঙ্কিত, অর্থাৎ উভয়েই ব্যাপ্য। যুক্তিবিদ্যায় কেবল ‘E’ বা সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য হয়।

    একটি ‘E’ যুক্তিবাক্যে (যেমন: ‘কোনো মানুষ নয় অমর’) উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্তর্থ সম্পর্কে বিধেয় পদটিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়। অর্থাৎ, ‘মানুষ’ শ্রেণীর প্রতিটি সদস্য যেমন ‘অমর’ শ্রেণীর বাইরে, তেমনি ‘অমর’ শ্রেণীর সমগ্র ব্যক্তর্থ থেকেও ‘মানুষ’ শ্রেণীটিকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা হয়। এভাবে উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই তাদের সমগ্র ব্যক্তর্থে ব্যবহৃত হওয়ায় ‘E’ যুক্তিবাক্যে উভয় পদই ব্যাপ্য হয়, যা চিত্র-২-এ প্রদর্শিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্র-১ ও চিত্র-৩ পদের ব্যাপ্যতার নিয়মানুসারে সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্রের দুটি যুক্তিবাক্যকে নির্দেশ করে।

    উদ্দীপকের সংকেত অনুযায়ী:

    • চিত্র-১-এ প্রথম পদ (উদ্দেশ্য) রেখাঙ্কিত (ব্যাপ্য) এবং দ্বিতীয় পদ (বিধেয়) ফাঁকা (অব্যাপ্য)। যুক্তিবিদ্যায় যে বাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য এবং বিধেয় পদ অব্যাপ্য, তা হলো ‘A’ বা সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য।
    • চিত্র-৩-এ প্রথম পদ (উদ্দেশ্য) ফাঁকা (অব্যাপ্য) এবং দ্বিতীয় পদ (বিধেয়) রেখাঙ্কিত (ব্যাপ্য)। যুক্তিবিদ্যায় যে বাক্যের উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য এবং বিধেয় পদ ব্যাপ্য, তা হলো ‘O’ বা বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্য।

    উভয়ের মধ্যকার বৈসাদৃশ্য/পার্থক্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. গুণের দিক থেকে পার্থক্য: ‘A’ যুক্তিবাক্য হলো সদর্থক যুক্তিবাক্য, যেখানে উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয়কে স্বীকার করা হয়। অন্যদিকে ‘O’ যুক্তিবাক্য হলো নঞর্থক যুক্তিবাক্য, যেখানে উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিধেয়কে অস্বীকার করা হয়।
    ২. পরিমাণের দিক থেকে পার্থক্য: ‘A’ যুক্তিবাক্য একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য, কারণ এর উদ্দেশ্য পদ সমগ্র ব্যক্তর্থে ব্যাপ্য। পক্ষান্তরে ‘O’ যুক্তিবাক্য একটি বিশেষ যুক্তিবাক্য, কারণ এর উদ্দেশ্য পদের কেবল আংশিক ব্যক্তর্থ গৃহীত হওয়ায় তা অব্যাপ্য।
    ৩. ব্যাপ্যতার গঠনের বৈপরীত্য: চিত্র-১ (A বাক্য)-এ উদ্দেশ্য ব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় অব্যাপ্য (যেমন: ‘সকল কাক হয় কালো’)। পক্ষান্তরে চিত্র-৩ (O বাক্য)-এ উদ্দেশ্য অব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় ব্যাপ্য (যেমন: ‘কিছু মানুষ নয় সৎ’)।

    সুতরাং, গুণ, পরিমাণ এবং ব্যাপ্যতার দিক থেকে চিত্র-১ (A বাক্য) ও চিত্র-৩ (O বাক্য) পরস্পর সম্পূর্ণ বিপরীত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন