গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য পুষ্টিবিদগণ টাটকা ও নির্ভেজাল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন। কিন্তু ইদানিং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মাছ-মাংস এবং শাক সবজিতে বিভিন্ন দ্রব্য ব্যবহার করছে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে সকলের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
- ক)(1)
স্যানিটেশন কী?
- খ)(2)
“পথ্য দ্রুত রোগ নিরাময় করে”- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
অসাধু ব্যবসায়ীরা উদ্দীপকে উল্লিখিত খাবারে কোন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করছে? স্বাস্থ্যের উপর এদের কুফলসমূহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“সরকার এবং জনগণের সচেতনতাই অসাধু ব্যবসায়ীকে প্রতিরোধ করতে পারে”- এ বিষয়ে তোমার মতামত উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্যানিটেশন হলো মানববর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা ও পয়ঃপ্রণালির স্বাস্থ্যসম্মত নিষ্কাশন এবং পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার বিজ্ঞানসম্মত সার্বিক ব্যবস্থা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পথ্য হলো অসুস্থ ব্যক্তির রোগমুক্তি, শারীরিক অবস্থা ও বিশেষ চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত বিজ্ঞানসম্মত পুষ্টিকর খাদ্য। সঠিক পথ্য নির্বাচনের মাধ্যমে আক্রান্ত অঙ্গের ওপর কাজের চাপ কমানো যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ক্ষয়রোধ দ্রুত সম্ভব হয়। উদাহরণস্বরূপ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত পথ্য সরাসরি রোগ নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রোগীর দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত খাবারে অসাধু ব্যবসায়ীরা ফরমালিন, কার্বাইড, বিষাক্ত রঙ এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটনাশক বা প্রিজারভেটিভ জাতীয় রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করছে।
মাছ ও মাংসে পচন রোধের জন্য সাধারণত ফরমালিন ব্যবহার করা হয় এবং ফলমূল বা সবজি দ্রুত পাকাতে ও তাজা দেখাতে কার্বাইড ও কৃত্রিম রঙ মেশানো হয়। এসব রাসায়নিক দ্রব্যের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে:
১. ফরমালিন ও রাসায়নিকযুক্ত খাদ্য গ্রহণে পাকস্থলীতে প্রদাহ, আলসার এবং লিভার ও কিডনির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
২. দীর্ঘদিন এগুলো গ্রহণের ফলে মারণব্যাধি ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
৩. গর্ভবতী মায়েরা এ জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং শিশুদের মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত উক্তিটি সম্পূর্ণ সত্য; ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার প্রতিরোধে সরকার এবং জনগণ উভয়ের সক্রিয় ভূমিকা অনস্বীকার্য।
খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ একটি মারাত্মক সামাজিক অপরাধ। এটি প্রতিরোধে সরকারের করণীয়:
১. নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়নে কঠোর তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও জরিমানার ব্যবস্থা করা।
২. বাজার, আড়ত ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত রাসায়নিক পরীক্ষা ও নজরদারি বৃদ্ধি করা।জনগণের সচেতনতা ও দায়িত্ব:
১. সাধারণ ক্রেতা হিসেবে খাবার কেনার সময় অতিরিক্ত চকচকে, গন্ধহীন বা অস্বাভাবিক রূপ দেখে সতর্ক হওয়া।
২. ভেজালকারীর তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং সামাজিকভাবে এসব অসাধু ব্যবসায়ীকে বর্জন করা।
৩. ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার পূর্বে পর্যাপ্ত সময় পানিতে ভিজিয়ে রেখে রাসায়নিকমুক্ত করার অভ্যাস গড়ে তোলা।সরকারের কঠোর নজরদারি এবং জনগণের সমন্বিত প্রতিরোধ ছাড়া এই অসাধু চক্রকে দমন করা সম্ভব নয়। তাই সার্বিক সচেতনতাই খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান উপায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও