বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

জেরিন রহমান ডাক্তার। বাবা-মার অনুরোধ সত্ত্বেও বিয়ে করতে চান না। কারণ, পত্র-পত্রিকা আর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যৌতুক ও নারী নির্যাতন বিষয়ে বিভিন্ন ঘটনা দেখে বিয়ে সম্পর্কে তার একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। অবশেষে তার বাবা-মা বুঝিয়ে জেরিনকে বিয়ে করতে রাজি করান। বিয়ের দিনই তার ধারণা বদলে যায়। কারণ, বাবা-মা জেরিনের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে কিছু আবসাবপত্র কিনে দিতে চাইলে জেরিনের শ্বশুর-শাশুড়ি তা নিতে বিনয়ের সাথে অস্বীকৃতি জানায়। শ্বশুর বাড়িতে এসে তার ধারণা একদম পাল্টে যায়। স্বামী ইরফান হাসানের ভালোবাসা এবং শ্বশুর-শাশুড়ির আদর-স্নেহ তাকে বিমোহিত করে।

  1. ক)

    'অপরিচিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছের কোন খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়?

    (1)
  2. খ)

    "সমস্ত মন যে সেই অপরিচিতার পানে ছুটিয়া গিয়াছিল।"বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    "উদ্দীপকের শ্বশুর-শাশুড়ি এবং 'অপরিচিতা' গল্পের মামা ভিন্ন জগতের মানুষ"-উক্তিটি যাচাই কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "শম্ভুনাথ ও কল্যাণীর কাঙ্ক্ষিত সমাজের ইঙ্গিত রয়েছে উদ্দীপকে।"-তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'অপরিচিতা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা অনুপমের অবচেতন মনে কল্যাণীর সুমধুর কণ্ঠস্বর ও ব্যক্তিত্বের প্রতি যে গভীর আকর্ষণ ও অনুরাগ সৃষ্টি হয়েছিল, তা বোঝানো হয়েছে।

    রেলযাত্রার সময় হঠাৎ অনুপমের কানে এক তরুণীর মিষ্টি ও দৃপ্ত কণ্ঠের কথা এসে পৌঁছায়। সেই অচেনা মেয়ের সুর অনুপমের হৃদয়ে গভীর দোলা দেয়। মেয়েটিকে সে তখন পর্যন্ত না দেখলেও তার কল্পনায় এক অপূর্ব মানসপ্রতিমা গড়ে ওঠে। মেয়েটির কণ্ঠস্বরের জাদু ও অদ্ভুত আবেদনের কারণেই অনুপমের সমস্ত মন সেই অপরিচিতার দিকে ব্যাকুল হয়ে ছুটে গিয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শ্বশুর-শাশুড়ি উদার ও যৌতুকবিরোধী মানসিকতাসম্পন্ন, পক্ষান্তরে 'অপরিচিতা' গল্পের মামা সংকীর্ণ ও লোভী চরিত্রের—তাই উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের মামা অত্যন্ত লোভী, ধূর্ত এবং বৈষয়িক বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি। বিয়ের আসরে তিনি পাত্রীপক্ষের সম্মানহানি করে কনের গা থেকে গয়না খুলে স্যাকরা দিয়ে পরীক্ষা করান। তাঁর কাছে যৌতুক ও অর্থের লোভই ছিল প্রধান, মানুষের মর্যাদা ও আত্মসম্মানের কোনো মূল্য তাঁর কাছে ছিল না।

    অন্যদিকে, উদ্দীপকে জেরিনের শ্বশুর-শাশুড়ি সম্পূর্ণ বিপরীত মানসিকতার অধিকারী। তাঁরা মেয়ের বাবার উপহারস্বরূপ আসবাবপত্র পর্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে যৌতুক বা বস্তুগত চাহিদার ঊর্ধ্বে নিজেদের স্থান দেন। তাঁরা পুত্রবধূকে ভালোবাসা ও স্নেহ দিয়ে আপন করে নেন। লোভী ও হীনমনা মামার সাথে উদ্দীপকের এই পরোপকারী ও ব্যক্তিত্ববান শ্বশুর-শাশুড়ির মানসিকতার আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে বলেই তাঁরা সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতের মানুষ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “শম্ভুনাথ ও কল্যাণীর কাঙ্ক্ষিত সমাজের ইঙ্গিত রয়েছে উদ্দীপকে।”—উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

    'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন ছিলেন আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন একজন দৃঢ়চেতা মানুষ। যৌতুকের লোভে তাঁর কন্যা ও পরিবারকে অপমানের মুখে ঠেলে দেওয়া হলে তিনি বিয়ের আসরেই স্পষ্ট ভাষায় বিয়ে ভেঙে দেন। অন্যদিকে কল্যাণীও প্রচলিত পণপ্রথা ও পুরুষতান্ত্রিক সংকীর্ণতার শিকার না হয়ে আজীবন দেশসেবা ও নারীশিক্ষার ব্রত গ্রহণ করে আত্মমর্যাদার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তাঁদের কাঙ্ক্ষিত সমাজ ছিল এমন এক সমাজ, যেখানে নারীরা যৌতুকের জন্য লাঞ্ছিত হবে না এবং আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ডা. জেরিন যৌতুক ও নির্যাতনের ভয়ে বিয়ে করতে অনাগ্রহী ছিল। কিন্তু বাস্তব জীবনে তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা যৌতুক বা উপহার নিতে বিনয়ের সাথে অস্বীকৃতি জানান এবং পুত্রবধূকে পরম ভালোবাসায় বরণ করে নেন। সেখানে নারীকে পণ্য না ভেবে পারিবারিক স্নেহ-ভালোবাসায় মূল্যায়িত করা হয়েছে। এটি শম্ভুনাথ সেন ও কল্যাণীর সেই স্বপ্নের সমাজেরই প্রতিফলন, যেখানে নারীরা কোনো বৈষয়িক লেনদেনের শিকার নয়, বরং সম্মানের পাত্রী।

    অতএব, উদ্দীপকের ঘটনাটি শম্ভুনাথ ও কল্যাণীর প্রত্যাশিত যৌতুকমুক্ত, মানবিক ও সমমর্যাদার সমাজের এক উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরে। তাই প্রদত্ত উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন