অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক বণ্টন নিম্নরূপ:উৎস: শুমারি প্রতিবেদন- ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১।
শুমারি বর্ষ | ০-১৪ বছর | ১৫-৫৯ বছর | ৬০ বছর বা ৬০ এর উর্ধ্বে।
১৯৮১ | ৪৬.৭% | ৪৭.৮% | ৫.৫%
১৯৯১ | ৪৫.১% | ৪৯,৫% | ৫.৪%
২০০১ | ৪০.১% | ৫৫% | ৪৯%
- ক)(1)
জনসংখ্যার ঘনত্ব বলতে কী বোঝ?
- খ)(2)
জনসংখ্যা ও উন্নয়নের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
১৫-৫৯ বছরের জনসংখ্যার বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে? ব্যাখ্যা করে।
- ঘ)(4)
১৫-৫৯ বছরের জনসংখ্যার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে আত্মকর্মসংস্থানের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের মোট জনসংখ্যাকে দেশটির মোট ভূমির আয়তন বা ক্ষেত্রফল দিয়ে ভাগ করলে যে অনুপাত পাওয়া যায়, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে একটি নিবিড় ও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বিদ্যমান।
একটি দেশের জনসংখ্যা যদি শিক্ষিত, দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদে রূপান্তরিত হয়, তবে তা দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি করে এবং উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। অন্যদিকে, দেশের সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা অতিরিক্ত হলে এবং তাদের মৌলিক চাহিদা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করা গেলে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, খাদ্যঘাটতি ও পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পায়, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে মন্থর করে দেয়। সুতরাং, কাম্য বা দক্ষ জনসংখ্যা উন্নয়নের সহায়ক, তবে অদক্ষ ও অতিরিক্ত জনসংখ্যা উন্নয়নের জন্য অন্তরায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সারণি অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে ১৫-৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর হার ছিল ৪৭.৮%, যা ১৯৯১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯.৫% এবং ২০০১ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫% এ উন্নীত হয়।
১৫-৫৯ বছর বয়স হলো মানুষের প্রধান কর্মক্ষম বয়স। এই বয়সের জনসংখ্যার অনুপাত বৃদ্ধি পাওয়াকে অর্থনীতিতে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা ‘জনমিতিক লভ্যাংশ’ বলা হয়। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করে। এর ফলে অর্থনীতিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলো আসতে পারে:
১. উৎপাদনশীলতা ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি: মোট জনসংখ্যার সিংহভাগ কর্মক্ষম হওয়ায় কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে শ্রমিকের সরবরাহ বাড়ে, যা সার্বিক উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে।
২. নির্ভরশীলতার অনুপাত হ্রাস: শিশু ও প্রবীণদের ওপর কর্মক্ষম ব্যক্তিদের নির্ভরশীলতার অনুপাত (Dependency Ratio) কমে যাওয়ায় পরিবারের মাথাপিছু আয় ও সঞ্চয় বৃদ্ধি পায়।
৩. মূলধন গঠন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি: সঞ্চয় বাড়ার ফলে বিনিয়োগ উৎসাহিত হয় এবং দেশ দ্রুত শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে যায়।তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষার মানোন্নয়ন অপরিহার্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি (৫৫%) কর্মক্ষম (১৫-৫৯ বছর) বয়সসীমার অন্তর্ভুক্ত। এত বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য শুধুমাত্র সরকার ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভর করে মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আত্মকর্মসংস্থানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বেকারত্ব দূরীকরণ: নিজের দক্ষতা, স্বল্প পুঁজি ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে যুবসমাজ হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য চাষ, দুগ্ধ খামার, হস্তশিল্প, টেইলারিং বা ক্ষুদ্র বাণিজ্যের মাধ্যমে নিজস্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
২. পরনির্ভরশীলতা হ্রাস: আত্মকর্মসংস্থান শিক্ষিত ও অর্ধ-শিক্ষিত তরুণদের চাকরির প্রত্যাশায় বসে থাকার পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলে।
৩. অন্যদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি: একজন সফল উদ্যোক্তা নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আরও বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করেন।
৪. তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং: বর্তমান সময়ে আউটসোর্সিং, ই-কমার্স ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে তরুণ সমাজ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে, যা আত্মকর্মসংস্থানের একটি আধুনিক রূপ।
৫. গ্রামীণ অর্থনীতির রূপান্তর: কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে আত্মকর্মসংস্থান শহরমুখী জনস্রোত রোধ করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনে।অতএব, ১৫-৫৯ বছরের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জনমিতিক সুবিধা অর্জন এবং দেশের বেকারত্ব লাঘবে সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তা দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান উৎসাহিত করা অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও