‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড় এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    বাঁশের কেল্লা কোথায় নির্মিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    বাংলার সৈয়দ আহমেদ বলা হয় কাকে এবং কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক 'ক' তে উল্লেখিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান ব্যাখ্যা করো। ৩

    (3)
  4. ঘ)

    ছকে উল্লেখিত 'খ' ব্যক্তিত্বের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা আলোচনা করো। ৪

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তিতুমীরের ঐতিহাসিক বাঁশের কেল্লা বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাতের কাছে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে নির্মিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নওয়াব আব্দুল লতিফকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয়।

    উত্তর ভারতে স্যার সৈয়দ আহমদ খান যেভাবে পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়কে ইংরেজি ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছিলেন, নওয়াব আব্দুল লতিফও ঠিক একইভাবে অবিভক্ত বাংলার অনগ্রসর মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা ও পাশ্চাত্য ভাবধারার বিস্তার ঘটিয়ে তাদের জাতীয় জীবনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের যোগ্য করে তোলেন। বাংলার মুসলিম সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে জাগরণ সৃষ্টি করার এই অনন্য অবদানের কারণেই তাঁকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' ছকে উল্লেখিত "কৃষক কূলের মুক্তির অগ্রদূত" এবং "ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন"-এর মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শের-এ-বাংলা এ. কে. ফজলুল হককে নির্দেশ করা হয়েছে।

    শিক্ষাক্ষেত্রে শের-এ-বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী:
    ১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা: তিনি মুসলিম সমাজের শিক্ষার পশ্চাৎপদতা দূর করতে ১৯২৪ সালে শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন এবং পরবর্তীকালে বহু স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমান মৌলানা আজাদ কলেজ), লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ, ঢাকার ইডেন কলেজ, ফজলুল হক মুসলিম হল, মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ এবং ওয়াজেদ আলী খান পন্নীর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত সা'দত কলেজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
    ২. গ্রামীণ ও প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার: ১৯৩৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করার লক্ষ্যে বঙ্গীয় বিধানসভায় প্রাথমিক শিক্ষা বিল পাস করান। ফলে কৃষক-প্রজাদের সন্তানরা লেখাপড়ার সুযোগ লাভ করে।
    ৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি এবং এর সার্বিক উন্নয়ন ও মুসলিম শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

    সুতরাং, সাধারণ ও অনগ্রসর বাঙালি মুসলমানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে এ. কে. ফজলুল হকের অবদান চিরস্মরণীয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'খ' ছকে নির্দেশিত "অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী" এবং "বুলেটের চেয়ে ব্যালটই শক্তিশালী" তত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব হলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

    গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ: সোহরাওয়ার্দী আজীবন সাংবিধানিক ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন। তিনি বন্দুকের নলের পরিবর্তে জনগণের ভোটাধিকার এবং ব্যালট পেপারের শক্তিকে গণতন্ত্রের মূলভিত্তি হিসেবে মনে করতেন।
    ২. বিরোধী দল গঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ: পাকিস্তানে একদলীয় বা স্বৈরতান্ত্রিক শাসন রোধ করতে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তিনি ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে তিনি নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ গঠন করে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেন।
    ৩. যুক্তফ্রন্ট গঠনে ভূমিকা: ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক দুঃশাসন হটাতে তিনি শের-এ-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ও মওলানা ভাসানীর সাথে যৌথভাবে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করেন, যা ছিল বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
    ৪. ১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রণয়ন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি দেশকে একটি স্থায়ী সাংবিধানিক রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি বিরোধী দলের অধিকার ও বাক-স্বাধীনতার প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
    ৫. সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান: আইয়ুব খানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তিনি এনডিএফ (ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) গঠন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম চালিয়ে যান।

    পরিশেষে বলা যায়, অবিভক্ত বাংলা থেকে শুরু করে তৎকালীন পাকিস্তানের স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন ভূমিকার কারণেই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে যথার্থই 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' আখ্যা দেওয়া হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন