অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

।জনাব দুলাল তার বাবার আমল থেকেই কৃষিকাজে লিপ্ত। পুরোনো পদ্ধতিতে চাষ করেন বলে উৎপাদন কম হয়। তার কৃষিজোতগুলো ক্ষুদ্র ও বিক্ষিপ্ত, ফলে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা সম্ভব নয়। তাছাড়াও রয়েছে উপরকরণাদির অভাব ও শস্য বহুমুখীকরণের অভাব। জনাব দুলাল এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারি সাহায্য কামনা করেন।

  1. ক)

    শস্য বহুমুখীকরণ কী?

    (1)
  2. খ)

    শস্য বহুমুখীকরণের ফলে কি খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব দুলাল কৃষিতে উন্নতি করতে পারছেন না কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদ করা দুলাল সাহেবের পক্ষে সম্ভব নয়- উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একই জমিতে সারা বছর শুধু একটিমাত্র ফসল চাষ না করে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের লাভজনক ও পুষ্টিকর ফসল উৎপাদনের পদ্ধতিকে শস্য বহুমুখীকরণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন হ্রাস পেয়ে সাময়িক খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

    শস্য বহুমুখীকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং মাটির উর্বরতা রক্ষা করা। তবে কৃষক যদি প্রধান দানাদার খাদ্যশস্য (যেমন—ধান বা গম) চাষের জমি অতিরিক্ত কমিয়ে বাণিজ্যিকভাবে কেবল অন্যান্য অর্থকরী বা অপ্রধান ফসল চাষ শুরু করে, তবে মোট খাদ্যশস্যের উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে। তবে পরিকল্পিতভাবে পতিত জমি ব্যবহার করে ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে শস্য বহুমুখীকরণ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে তা সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সনাতন চাষাবাদ পদ্ধতি, ক্ষুদ্র ও বিক্ষিপ্ত কৃষিজোত এবং কৃষি উপকরণের অভাবের কারণে জনাব দুলাল কৃষিতে উন্নতি করতে পারছেন না।

    কৃষি উন্নয়নের জন্য আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, সার ও সেচ উপকরণের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং বৃহদায়তন জোত অপরিহার্য।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব দুলাল তার বাবার আমলের পুরোনো পদ্ধতিতে কৃষিকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যার ফলে আশানুরূপ ফলন হচ্ছে না। এছাড়া তার চাষযোগ্য জমিগুলো ক্ষুদ্র ও বিক্ষিপ্ত হওয়ায় সেখানে আধুনিক কৃষিযন্ত্র যেমন—ট্র্যাক্টর, পাওয়ার টিলার বা আধুনিক সেচযন্ত্র প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। একইসাথে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের অপ্রতুলতা এবং লাভজনক শস্য বহুমুখীকরণ না জানার ফলে তিনি সনাতন কৃষির ফাঁদে আটকা পড়ে আছেন। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত এসব সীমাবদ্ধতার কারণেই জনাব দুলাল কৃষিতে উন্নতি করতে পারছেন না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে ক্ষুদ্র ও খণ্ডবিখণ্ড কৃষিজোত এবং উপকরণের ঘাটতির কারণে জনাব দুলালের পক্ষে এককভাবে আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদ করা সম্ভব নয়—উক্তিটি যথার্থ।

    আধুনিক প্রযুক্তিতে চাষাবাদের জন্য প্রয়োজন বৃহদায়তন কৃষিজমি, যেখানে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি (যেমন—ট্র্যাক্টর, কম্বাইন হারভেস্টার) দক্ষতার সাথে চালানো যায়। কিন্তু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে উত্তরাধিকার আইন ও জমি হস্তান্তরের ফলে জোত ক্ষুদ্র ও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব দুলালের জমিগুলো ক্ষুদ্র ও বিভিন্ন স্থানে ছড়ানো-ছিটানো। ক্ষুদ্র জমিতে আধুনিক ভারি যন্ত্রপাতি চালানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অনুপযোগী। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য যে ধরনের পুঁজি, উন্নত উপকরণ (হাইব্রিড বীজ, রাসায়নিক ও জৈব সার, উন্নত সেচ) এবং কারিগরি জ্ঞান প্রয়োজন, তার অভাব জনাব দুলালের রয়েছে।

    তবে জনাব দুলাল যদি সরকারি সহযোগিতায় সমবায় কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলেন এবং জমিগুলো একত্রিত (জমি একত্রীকরণ) করে চাষাবাদের উদ্যোগ নেন, তবে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তার একক উদ্যোগে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করা বাস্তবিক অর্থেই সম্ভব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন