অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক বৈদেশিক সাহায্য বিষয় পড়ানোর সময় নিম্নোক্ত টেবিল দেখান:উৎস: অর্থ মন্ত্রণালয়তিনি বলেন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে উন্নয়নের অর্থসংস্থান এবং আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণে বৈদেশিক সাহায্য প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তিনি বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণের পক্ষপাতী নয়। তিনি আরও বলেন বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণের মাধ্যমে অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে উন্নয়নে অর্থসংস্থান ও দেশের স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব।
অর্থবছর | সাহায্যের পরিমাণ (বিলিয়ন ডলার) | (%) মোট দেশজ উৎপাদন
২০১৪-১৫ | ৩.০৪ | ১২.২৫
২০১৫-১৬ | ৩.৫৬ | ১১,৭৭
২০১৬-১৭ | ৩.৪০ | ১২.৮
- ক)(1)
আমদানি বিকল্প শিল্প কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশ কোন ধরনের মূলধনী দ্রব্য আমদানি করে?
- গ)(3)
বৈদেশিক সাহায্যের নেতিবাচক প্রভাব উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর বিষয়ে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিদেশে উৎপাদিত যেসব পণ্য দেশে আমদানি করা হয়, সেগুলোর বিকল্প পণ্য দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদনের লক্ষ্যে যে শিল্প গড়ে তোলা হয় তাকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূলধনী দ্রব্য বলতে এমন সব দ্রব্যকে বোঝায় যা অন্য কোনো দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনের কাজে পুনরায় ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ব্যাপক হারে মূলধনী দ্রব্য আমদানি করে থাকে। যেমন—শিল্প-কারখানার ভারী যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও কারখানার সরঞ্জাম, বয়লার, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের বিশেষায়িত মেশিন, কৃষি যন্ত্রপাতি (ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার) এবং পরিবহন শিল্পের যন্ত্রাংশ প্রভৃতি মূলধনী দ্রব্য হিসেবে বাংলাদেশ প্রধানত আমদানি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিক্ষক বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণের পক্ষপাতী নন বলে উল্লেখ করেছেন, কারণ বৈদেশিক সাহায্যের ফলে দেশের অর্থনীতিতে নানাবিধ নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
উদ্দীপকের আলোকে বৈদেশিক সাহায্যের প্রধান নেতিবাচক প্রভাবসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. পরনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি: বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নিয়মিত নির্ভরশীলতা জাতীয় অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে বাধাগ্রস্ত করে এবং জাতীয় আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।
২. শর্তযুক্ত সাহায্য: দাতা দেশ ও সংস্থাগুলো সাহায্য প্রদানের সময় নানা ধরনের শর্ত জুড়ে দেয়, যা অনেক সময় দেশের অর্থনৈতিক ও সার্বভৌম স্বার্থের পরিপন্থি হয়।
৩. ঋণের বোঝা ও সুদ পরিশোধের চাপ: বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে মূল অর্থ ও সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে ব্যাহত করে।
৪. অপচয় ও দুর্নীতির বিস্তার: বৈদেশিক অনুদান ও ঋণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত না হলে অপচয় এবং দুর্নীতির সুযোগ বৃদ্ধি পায়।অতএব, উদ্দীপকে শিক্ষক যেমনটি বলেছেন, বৈদেশিক সাহায্য জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে বিধায় এর বিকল্প হিসেবে বাণিজ্য সম্প্রসারণ জরুরি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিক্ষকের মতামতের সাথে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করে বলা যায় যে, বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা সম্ভব।
বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অপরিহার্য:
১. রপ্তানি বহুমুখীকরণ: তৈরি পোশাকের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত সামগ্রী, ওষুধ ও কৃষিজাত পণ্যের বিশ্ববাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়াতে হবে।
২. আমদানি বিকল্পায়ন: নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং শিল্পপণ্য দেশেই উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানির পরিমাণ কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধ করতে হবে।
৩. রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি: দক্ষ মানবসম্পদ বিদেশে প্রেরণের মাধ্যমে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বৃদ্ধি করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা সম্ভব।
৪. অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধি: করের আওতা বাড়িয়ে এবং কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে উন্নয়ন প্রকল্প অর্থায়নে সাহায্যের প্রয়োজন না হয়।
৫. প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণ: সহায়ক বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করে বিদেশি ঋণের পরিবর্তে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা প্রয়োজন।পরিশেষে, বৈদেশিক সাহায্যের চেয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে দেশ দ্রুত স্বনির্ভর ও টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও