অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
এরশাদ তার জমিতে আলু চাষ করে। এতে ফলনও ভালো হয়। কিন্তু অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, দুর্বল বাজার কাঠামোসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে নামমাত্র মূল্যে গ্রামীণ প্রাথমিক বাজারে আলু বিক্রি করতে সে বাধ্য হয়। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সে আলু চাষে নিরুৎসাহী হয়ে পড়ে। কৃষির উন্নয়নে বর্তমান সরকার গুদামঘর নির্মাণ এবং স্বল্প সুদে ঋণদানসহ বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
- ক)(1)
কৃষি জোত কাকে বলে?
- খ)(2)
ভোগ্য ঋণ ও অনুৎপাদনশীল ঋণের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখ।
- গ)(3)
এরশাদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণসমূহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
আলু বিপণনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ যথেষ্ট কি? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একজন কৃষক বা তার পরিবারের অধীনে চাষযোগ্য যে পরিমাণ জমি থাকে, তাকে কৃষি জোত বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভোগ্য ঋণ ও অনুৎপাদনশীল ঋণের মধ্যে দুটি মূল পার্থক্য হলো:
১. উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে: দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বা ভোগ নির্বাহের উদ্দেশ্যে (যেমন: খাদ্য ক্রয় বা চিকিৎসা ব্যয়) যে ঋণ নেওয়া হয় তা হলো ভোগ্য ঋণ। অন্যদিকে, কোনো নতুন আয় বা উৎপাদন সৃষ্টি করে না এমন ব্যয় (যেমন: মামলা-মোকদ্দমা বা সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা) পরিচালনার উদ্দেশ্যে নেওয়া ঋণ হলো অনুৎপাদনশীল ঋণ।
২. পরিশোধের ক্ষমতা: ভোগ্য ঋণ জরুরি প্রয়োজনে শ্রমশক্তি টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করায় কিছুটা পরোক্ষ উৎপাদনশীল ভূমিকা রাখতে পারে, তবে সরাসরি কোনো সম্পদ গড়ে তোলে না; অন্যদিকে অনুৎপাদনশীল ঋণ কোনো অর্থনৈতিক সামর্থ্য বাড়ায় না বিধায় তা পরিশোধ করা কৃষকের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে এরশাদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার মূল কারণ হলো বাংলাদেশের কৃষি বিপণন ব্যবস্থার বিভিন্ন কাঠামোগত দুর্বলতা।
প্রথমত, অনুন্নত যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা দূরবর্তী বড় বাজারে বা শহরে ফসল দ্রুত ও কম খরচে পরিবহন করতে পারে না। ফলে স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম পড়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, দুর্বল বাজার কাঠামো এবং মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া-দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি পাইকারি বা ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না।
তৃতীয়ত, আলুর মতো পচনশীল পণ্য সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার বা গুদামঘরের সুবিধা না থাকায় ফসল নষ্ট হওয়ার ভয়ে কৃষক ফসল ওঠার সাথে সাথে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। এসব কারণেই এরশাদ ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, আলু বিপণনে সরকারের গৃহীত গুদামঘর নির্মাণ ও স্বল্প সুদে ঋণদান অত্যন্ত প্রশংসনীয় হলেও তা সম্পূর্ণরূপে যথেষ্ট নয়।
কৃষি বিপণনের সমস্যা বহুমুখী। সরকার গুদামঘর ও ঋণের ব্যবস্থা করলেও এখনো গ্রাম পর্যায়ে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা, সুসংগঠিত বিপণন চেইন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। এরশাদের মতো কৃষকরা প্রাথমিক বাজারে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ার কারণ পরিবহন সংকট ও বাজার তথ্যের ঘাটতি।
আলুর সুষ্ঠু বিপণন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রয়োজন হিমাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি ও কৃষকদের জন্য সংরক্ষণ ভাড়া সহজলভ্য করা, আধুনিক ও দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থার প্রসার, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ করে কৃষকের সাথে সরাসরি ক্রেতার সংযোগ স্থাপন এবং সরকারিভাবে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করে সরাসরি আলু ক্রয় করা। সুতরাং, সরকারের বর্তমান উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও একটি সমন্বিত ও টেকসই কৃষি বিপণন ব্যবস্থার জন্য তা এককভাবে যথেষ্ট নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও