ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
ভারতে পরবর্তী বৈদিকযুগে সমাজে শ্রেণিভেদ প্রথা প্রকট আকার ধারণ করে। ব্রাহ্মণরা উঁচুশ্রেণিভূক্ত হওয়ায় অপর তিন শ্রেণিকে ঘৃণার চোখে দেখত। বিশেষত বৈশ্য ও শূদ্র শ্রেণির সঙ্গে তারা পারস্পরিক ও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করত না। যদিও সমাজ বিনির্মাণে সকল শ্রেণির অবদান রয়েছে।
- ক)(1)
ডেসমন্ড টুটু কে ছিলেন?
- খ)(2)
মহাত্মা গান্ধী কী উদ্দেশ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় গমন করেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের শ্রেণিভেদ প্রথা বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের কোন সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, আমেরিকায় মার্টিন লুথার কিং-এর আন্দোলন সমাজের দুই শ্রেণির মধ্যকার বিদ্বেষের কারণে ছিল? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডেসমন্ড টুটু ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন অন্যতম প্রধান নেতা, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এবং অ্যাংলিকান চার্চের আর্চবিশপ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮৯৩ সালে একটি গুজরাটি মুসলিম বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের (দাদা আবদুল্লাহ অ্যান্ড কোম্পানি) আইনগত মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আইনজীবী হিসেবে মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকায় গমন করেন। সেখানে অবস্থানকালে ভারতীয়দের প্রতি প্রচলিত বর্ণবৈষম্য দেখে তিনি সক্রিয় নাগরিক অধিকার আন্দোলনে যুক্ত হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শ্রেণিভেদ প্রথা বিশ শতকের আমেরিকান সমাজের বর্ণবৈষম্য (racial segregation/discrimination) সমস্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে বৈদিক সমাজের উচ্চশ্রেণি নিম্নশ্রেণিকে যেভাবে অবজ্ঞা করত এবং তাদের সাথে কোনো সামাজিক ও বৈবাহিক সম্পর্ক রাখত না, ঠিক একইভাবে বিশ শতকে আমেরিকার সমাজে শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে রেখেছিল। 'জিম ক্রো আইন'-এর মতো নিয়মের মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গদের পৃথক বাসস্থান, গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় ব্যবহারে বাধ্য করা হতো। এভাবে উদ্দীপকের বর্ণাশ্রম প্রথার কৃত্রিম বিভাজন বিশ শতকে আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যকার বর্ণবাদী বিভাজন ও বৈষম্যের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি আমেরিকায় মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের আন্দোলন ছিল সমাজে বিদ্যমান শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ—এই দুই শ্রেণির মধ্যকার দীর্ঘদিনের বর্ণবাদী বৈষম্য ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম।
আমেরিকায় শতাব্দী ধরে চলা দাসপ্রথার অবসানের পরও কৃষ্ণাঙ্গদের সমান নাগরিক অধিকার দেওয়া হয়নি। শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সমাজব্যবস্থা কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার, মৌলিক মানবাধিকার ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত রাখত এবং তাদের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করত। এই অন্যায় ও বিদ্বেষমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ড. মার্টিন লুথার কিং অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নেন। তিনি 'আই হ্যাভ আ ড্রিম' ভাষণের মাধ্যমে এমন এক সমাজের স্বপ্ন তুলে ধরেন যেখানে মানুষকে গায়ের চামড়ার রঙ দিয়ে নয়, বরং চরিত্রের গুণাবলি দিয়ে বিচার করা হবে। তাঁর নেতৃত্বে নাগরিক অধিকার আন্দোলন (Civil Rights Movement) মূলত এই শ্রেণিভেদ ও জাতিগত বিদ্বেষের শিকড় উপড়ে ফেলে সব মানুষের জন্য সমতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও