ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব রায়হান নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে ১,০০,০০০ টাকা উত্তোলনের জন্য অথবা "আদেশ অনুসারে" কথাটি লিখে ব্যাংকের ক্যাশ শাখায় জমা দিলে উক্ত ব্যাংক কর্তৃক চেকটি অমর্যাদা হয়। উক্ত হিসাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে অর্থ জমা ছিল এবং যথাযথভাবে চেক লিখে জমা দেন বলে রায়হান সাহেব দাবি করেন। কিন্তু ব্যাংক থেকে জানানো হয় চেকের কথায়, ও অঙ্কে লেখার মাঝে গড়মিল আছে।
- ক)(1)
ব্যাংক হিসাব কী?
- খ)(2)
চেকের দাগকাটার উদ্দেশ্য কী ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব রায়হান টাকা উত্তোলনের জন্য কোন ধরনের চেক ব্যবহার করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ব্যাংক বর্ণিত কারণ ছাড়াও আর কী কী কারণে চেকের অমর্যাদা হয় তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাংক হিসাব হলো ব্যাংকের সাথে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার এমন এক আইনি ও আর্থিক চুক্তি বা সম্পর্ক, যার মাধ্যমে গ্রাহক ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন এবং প্রয়োজনমাফিক উত্তোলন বা লেনদেন সম্পন্ন করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চেকের জালিয়াতি ও ঝুঁকি হ্রাস করে অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চেকে দাগকাটা হয়।
সাধারণ বা খোলা চেক ব্যাংকের কাউন্টারে উপস্থাপন করলেই তাৎক্ষণিকভাবে যে-কাউকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়, যার ফলে চেক চুরি বা হারিয়ে গেলে তা অনধিকার ব্যক্তির হাতে যাওয়ার বড় ঝুঁকি থাকে। কিন্তু চেকের বাম কোণে দুটি সমান্তরাল আড়াআড়ি রেখা টেনে দাগ কেটে দিলে ব্যাংক কাউন্টারে সরাসরি নগদ অর্থ দেয় না, অর্থ কেবল প্রাপকের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। এর ফলে প্রকৃত অর্থ প্রাপককে সহজে শনাক্ত করা যায় এবং অর্থের চূড়ান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব রায়হান টাকা উত্তোলনের জন্য 'আদেশিত চেক' (Order Cheque) ব্যবহার করেছেন।
যে চেকে প্রাপকের নামের শেষে "অথবা আদেশ অনুসারে" (or order) কথাটি লেখা থাকে এবং যে চেকের অর্থ প্রাপক নিজে অথবা তাঁর দ্বারা আদেশপ্রাপ্ত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তাঁর ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করা যায়, তাকে আদেশিত চেক বলে। এই জাতীয় চেক হস্তান্তর করতে হলে চেকের পেছনে প্রাপকের অনুমোদন বা স্বাক্ষর (Endorsement) আবশ্যক হয়।
উদ্দীপকে জনাব রায়হান তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের জন্য চেকের ওপর স্পষ্ট করে "অথবা আদেশ অনুসারে" কথাটি লিখে ব্যাংকের ক্যাশ শাখায় জমা দেন। অতএব, চেকের এই শর্ত ও লিখনরীতির ভিত্তিতে এটি নিঃসন্দেহে একটি আদেশিত চেক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত কথায় ও অঙ্কে লেখার গরমিল ছাড়াও আরও বহুবিধ কারণে একটি চেক ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত বা অমর্যাদা (Dishonour) হতে পারে। নিচে প্রধান কারণগুলো আলোচনা করা হলো:
১. হিসাবে অপর্যাপ্ত তহবিল: চেকের উল্লেখিত অর্থের চেয়ে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থ কম থাকলে ব্যাংক চেকটি অমর্যাদা করে।
২. স্বাক্ষরের গরমিল: চেকে প্রদত্ত আমানতকারীর স্বাক্ষর ব্যাংকে সংরক্ষিত নমুনা স্বাক্ষরের (Specimen Signature) সাথে হুবহু না মিললে।
৩. কাটাছেঁড়া বা ঘষামাজা: চেকে কোনো অংশ কাটলে বা পরিবর্তন করলে যদি সেখানে আমানতকারীর পূর্ণ স্বাক্ষর দিয়ে সত্যায়িত করা না থাকে।
৪. মেয়াদোত্তীর্ণ বা বাসি চেক: চেক ইস্যু করার তারিখ থেকে সাধারণত ৬ মাস (১৮০ দিন) অতিক্রান্ত হয়ে গেলে তা বাসি চেকে পরিণত হয় এবং ব্যাংক অর্থ পরিশোধ করে না।
৫. অগ্রিম তারিখের চেক: চেক উপস্থাপনের তারিখের পরবর্তী কোনো তারিখ চেকে দেওয়া থাকলে নির্দিষ্ট তারিখের পূর্বে তা নগদায়ন করা যায় না।
৬. অর্থ প্রদানে আমানতকারীর নিষেধ: আমানতকারী যদি কোনো কারণে (যেমন চেক চুরি বা প্রতারণা) লিখিতভাবে ব্যাংককে চেকটির অর্থ পরিশোধ করতে নিষেধ করেন (Stop Payment)।
৭. হিসাব বন্ধ বা স্থগিতাদেশ: গ্রাহকের হিসাব বন্ধ হয়ে গেলে অথবা আদালত বা আয়কর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় (Garnishee Order) হিসাবের লেনদেন স্থগিত থাকলে।
৮. আমানতকারীর মৃত্যু, মস্তিষ্কবিকৃতি বা দেউলিয়া হওয়া: আমানতকারী মারা গেলে, দেউলিয়া ঘোষিত হলে বা অপ্রকৃতিস্থ হলে এবং ব্যাংক এ বিষয়ে নিশ্চিত বিজ্ঞপ্তি পেলে চেক বাতিল করে।
৯. বিকৃত বা নষ্ট চেক: চেকটি অতিরিক্ত ছেঁড়া, পানিতে ভেজা বা অপরিষ্কার হলে ব্যাংক তা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।সুতরাং, কেবল অঙ্কে ও কথায় গরমিলই নয়, উপরোক্ত নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি শর্ত ভঙ্গের কারণেও চেকের অমর্যাদা ঘটে থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও