যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: আমরা ফল খেলে সুস্থ থাকি। অতএব, ফল খাওয়াই সুস্বাস্থ্যের কারণ।দৃশ্যকল্প-২: কলেজের আন্তঃবিভাগ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। এতে দর্শন বিভাগ জয়লাভ করে। দর্শন বিভাগের ছাত্ররা বলল, ওয়াসিম স্যার উপস্থিত থাকলে আমরা জয়লাভ করি। আর অনুপস্থিত থাকলে আমরা হেরে যাই। সুতরাং ওয়াসিম। স্যারই প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার কারণ।
- ক)(1)
পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি কাকে বলে?
- খ)(2)
অন্বয়ী পদ্ধতিকে নিরীক্ষণের পদ্ধতি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ কার্যকারণ সংক্রান্ত কোন অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ সিদ্ধান্ত দেয়ার পদ্ধতিটি কী পদ্ধতি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতির ঘটনাবলিকে পর্যবেক্ষণ বা সুনিয়ন্ত্রিতভাবে কৃত্রিম উপায়ে পরিবর্তনের মাধ্যমে দুটি ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার ও প্রমাণ করার পদ্ধতিকে পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অন্বয়ী পদ্ধতি মূলত প্রকৃতির স্বাভাবিক অবস্থায় ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিরীক্ষণ বা পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় একে নিরীক্ষণের পদ্ধতি বলা হয়। এ পদ্ধতিতে গবেষক পরিবেশকে নিজের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন করতে পারেন না, বরং প্রকৃতিতে প্রাকৃতিকভাবে উপস্থাপিত বিভিন্ন দৃষ্টান্তের সাধারণ উপাদানের মিল পর্যবেক্ষণ করেই কেবল সম্ভাব্য কার্যকারণ সিদ্ধান্তে উপনীত হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ কার্যকারণ সংক্রান্ত 'একটি শর্তকে সমগ্র কারণ হিসেবে গণ্য করার অনুপপত্তি' (বা শর্তকে কারণ মনে করার অনুপপত্তি) ঘটেছে।
কারণ হলো কোনো ঘটনার সবকটি সদর্থক ও নঞর্থক শর্তের সামগ্রিক রূপ। কেবল একটি শর্ত কোনো কার্যের সম্পূর্ণ কারণ হতে পারে না।
দৃশ্যকল্প-১ এ বলা হয়েছে, "ফল খেলে সুস্থ থাকি। অতএব, ফল খাওয়াই সুস্বাস্থ্যের কারণ।" কিন্তু সুস্বাস্থ্যের জন্য শুধুমাত্র ফল খাওয়া যথেষ্ট নয়; সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম, রোগমুক্ত থাকা ইত্যাদি অনেক শর্ত সুস্বাস্থ্যের পেছনে জড়িত। এখানে কেবল ফল খাওয়া নামক একটি শর্তকে সুস্বাস্থ্যের একমাত্র বা সমগ্র কারণ বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে এখানে শর্তকে কারণ হিসেবে গ্রহণ করার অনুপপত্তি ঘটেছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ সিদ্ধান্ত দেয়ার পদ্ধতিটি হলো মিলের 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি' (Method of Difference)।
যুক্তির সপক্ষে কারণসমূহ:
১. সদর্থক ও নঞর্থক দৃষ্টান্তের উপস্থিতি: ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে দুটি দৃষ্টান্ত বিবেচনা করা হয়—একটি সদর্থক (যেখানে ঘটনাটি ঘটে) এবং অপরটি নঞর্থক (যেখানে ঘটনাটি ঘটে না)। উদ্দীপকে স্যার উপস্থিত থাকলে জয়লাভ করে (সদর্থক দৃষ্টান্ত) এবং স্যার অনুপস্থিত থাকলে হেরে যায় (নঞর্থক দৃষ্টান্ত)।
২. একটি মাত্র বিষয়ের পার্থক্য: এখানে জয়লাভ ও পরাজয়ের পার্থক্যের একমাত্র পূর্ববর্তী শর্ত হিসেবে 'ওয়াসিম স্যারের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি'কে তুলে ধরা হয়েছে। বাকি আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো একই বা অপরিবর্তিত ধরা হয়েছে।
৩. ব্যতিরেকী নীতির প্রয়োগ: ব্যতিরেকী সূত্র অনুযায়ী, একটি দৃষ্টান্তে কার্যটি ঘটে এবং অন্যটিতে ঘটে না, এবং তাদের মধ্যে কেবল একটি পূর্বগ বিষয়ের অমিল থাকলে, সেই পূর্বগ বিষয়টিই অনুগের কারণ বা কার্যের অংশ।যদিও বাস্তবে ছাত্রদের দক্ষতা ও অনুশীলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বাদ দিয়ে শুধু স্যারের উপস্থিতিকে কারণ ধরে নেওয়ার কারণে এখানে 'কাকতালীয় অনুপপত্তি'র জন্ম হয়েছে, তবুও সিদ্ধান্তের কাঠামোটি দৃশ্যত ব্যতিরেকী পদ্ধতির অপপ্রয়োগের ওপরই প্রতিষ্ঠিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও