ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
উসমানের পূর্বপুরুষরা গোবি মরুভূমির একটি ক্ষুদ্র রাজ্যের শাসক ছিলেন। যেখানে শত্রুপক্ষের শক্তির কারণে সুবিধা করতে না পেরে তারা এশিয়া মাইনরে চলে আসেন। এশিয়া মাইনরে বহুদিন ধরে সেলজুকরা শাসন করলেও উত্তরাঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বেশকিছু স্বাধীন ও শক্তিশালী গ্রিক রাজ্য বিদ্যমান ছিল। উসমান শেষ সেলজুক সুলতান, আলাউদ্দিনের পতন ঘটিয়ে সেখানে উসমানীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি শক্তিশালী গ্রিক রাজাদেরও পরাজিত করে যে বিশাল উসমানীয় সাম্রাজ্য গঠন করেন তা কয়েক শতাব্দী স্থায়ী হয়েছিল।
- ক)(1)
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
তাজমহল কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উসমানীয়দের এশিয়া মাইনরে আগমনের সাথে ভারতে কোন মুঘল শাসকের আগমনের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় উক্ত শাসকের কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তাজমহল হলো মুঘল স্থাপত্যরীতির একটি অপূর্ব নিদর্শন ও বিশ্বখ্যাত সমাধি সৌধ। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা পত্নী আরজুমান্দ বানু বেগম (মমতাজ মহল)-এর স্মৃতিকে অমর করে রাখার উদ্দেশ্যে ভারতের আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে শ্বেতপাথরে এই সুদৃশ্য সৌধটি নির্মাণ করেন। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সপ্তাশ্চর্যের একটি এবং অনন্য স্থাপত্যশৈলীর প্রতীক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উসমানীয়দের মাতৃভূমি ত্যাগ করে এশিয়া মাইনরে আগমনের সাথে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মুহম্মদ বাবরের ভারতে আগমনের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, উসমানের পূর্বপুরুষরা শত্রুদের চাপে নিজ রাজ্য গোবি মরুভূমি ত্যাগ করে এশিয়া মাইনরে চলে আসেন এবং সেলজুকদের পতন ঘটিয়ে উসমানীয় সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।
একইভাবে মুঘল সম্রাট বাবরও তাঁর পৈতৃক রাজ্য মধ্য এশিয়ার ফারগানা থেকে উজবেক নেতা শৈবানী খানের আক্রমণে বিতাড়িত হন। তিনি বহুবার পিতৃভূমি ও সমরখন্দ পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে বাধ্য হয়ে ভাগ্যান্বেষণে কাবুলে আশ্রয় নেন এবং পরবর্তীতে ভারতে এসে ১৫২৬ সালে দিল্লির সুলতানি শক্তির পতন ঘটিয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। সুতরাং, প্রতিকূলতার মুখে মাতৃভূমি হারিয়ে নতুন ভূখণ্ডে এসে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ঘটনায় উসমানের সাথে বাবরের গভীর সামঞ্জস্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা উসমানের মতো মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবরও প্রতিকূল পরিস্থিতি জয় করে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় বাবরের কৃতিত্ব ছিল অসামান্য।
বাবর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে আধুনিক সমরকৌশল (যেমন রুমি কৌশল ও গোলন্দাজ বাহিনীর ব্যবহার) প্রয়োগ করে দিল্লির সুলতান ইবরাহিম লোদিকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। এর পরবর্তী বছরগুলোতেও তিনি তাঁর সামরিক প্রতিভা প্রদর্শন করেন। ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে খানুয়ার যুদ্ধে শক্তিশালী রাজপুত নেতা রানা সঙ্গকে পরাজিত করে ভারতে নিজের অবস্থান সুসংহত করেন। এরপর ১৫২৮ সালে চান্দেরীর যুদ্ধে মেদিনী রায় এবং ১৫২৯ সালে ঘর্ঘরার যুদ্ধে আফগান নেতাদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে তিনি মুঘল কর্তৃত্বকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলেন।
সামরিক বিজয়ের পাশাপাশি বাবর ছিলেন একজন দক্ষ প্রশাসক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব। তাঁর আত্মজীবনী 'বাবরনামা' তুর্কি সাহিত্যের এক অনন্য সম্পদ। প্রতিকূল পরিবেশ থেকে এসে অদম্য মনোবল ও রণকৌশলের মাধ্যমে বাবর যে বিশাল সাম্রাজ্যের পত্তন করেছিলেন, তা পরবর্তী কয়েক শতাব্দী ধরে স্থায়ী হয়। অতএব, উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় বাবরের অসীম সাহস, নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতা অনন্য কৃতিত্ব বহন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও