বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা। যিনি জীবনের অধিকাংশ সময় কারাগারে বন্দি ছিলেন। কারাবন্দি অবস্থায়ও তিনি বিভিন্ন গ্রন্থ প্রকাশ এবং অনশনের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

  1. ক)

    'প্লুরিসিস' কী?

    (1)
  2. খ)

    "নাশতা খাবার ইচ্ছা আমাদের নেই"-কে এবং কোন প্রসঙ্গে একথা বলেছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার বক্তব্যগত সাদৃশ্য আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক এবং 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনা অবলম্বনে বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনাগত স্বাতন্ত্র্য নিরূপণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'প্লুরিসিস' হলো বক্ষব্যাধি বা ফুসফুসের আবরণীর প্রদাহজনিত রোগ (Pleurisy)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃত কথাটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলখানায় অনশন ধর্মঘটের সময় সেখানকার কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ করে বলেছেন।

    বঙ্গবন্ধু ও মহিউদ্দিন আহমদকে যখন অনশনরত অবস্থায় ঢাকা থেকে ফরিদপুর জেলে স্থানান্তর করা হয়, তখন তাঁদের অনশন ভাঙানোর জন্য কর্তৃপক্ষ বারবার খাবারের প্রলোভন ও অনুরোধ জানাচ্ছিল। কিন্তু অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে তাঁরা ছিলেন অবিচল। জেল কর্তৃপক্ষ যখন তাঁদের নাশতা খাওয়ার অনুরোধ জানায়, তখন নিজেদের অনমনীয় দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করতেই বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে তাঁদের নাশতা খাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম, দীর্ঘ কারাবরণ এবং অনশন ধর্মঘটের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের চেতনার দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    'বায়ান্নর দিনগুলো' আত্মজীবনীমূলক রচনায় দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে দীর্ঘদিন জেলে আটক ছিলেন। বিনাবিচারে আটকে রাখা এবং ভাষা আন্দোলনের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমদ জেলে অনশন ধর্মঘট পালন করেন। জেল কর্তৃপক্ষের শত প্ররোচনা ও শারীরিক চরম অবনতি সত্ত্বেও তাঁরা অন্যায়ের সাথে কোনো আপস করেননি।

    উদ্দীপকে বর্ণবাদ বিরোধী বিশ্বনেতা নেলসন ম্যান্ডেলার জীবনের সংগ্রামী দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তিনিও জীবনের অধিকাংশ সময় কারাবন্দি ছিলেন এবং অধিকার আদায়ের জোর প্রচেষ্টা হিসেবে অনশন ধর্মঘট পালন করেছিলেন।

    সুতরাং, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কারাবন্দি অবস্থায় অনশনকে প্রতিবাদের হাতিয়ার বানিয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠার যে আপসহীন সংগ্রাম, সেই বক্তব্যগত দিক থেকে উদ্দীপকটি 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ম্যান্ডেলার লড়াই বৈশ্বিক ও বর্ণবাদ বিরোধী হলেও 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনাগত বৈশিষ্ট্য ছিল বাঙালি জাতীয়তাবোধ, গভীর দেশপ্রেম এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আপসহীন লড়াইয়ে স্বতন্ত্র।

    উদ্দীপকে নেলসন ম্যান্ডেলাকে দেখি দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ে অনশনরত ও আত্মত্যাগী নেতা হিসেবে। অন্যদিকে, 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বাঙালির মুক্তির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা কেবল ব্যক্তিগত বা সাধারণ রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তা ছিল বাঙালি জাতির অস্তিত্ব, মাতৃভাষা বাংলা রক্ষা এবং বাঙালির স্বাধিকার অর্জনের চেতনার সাথে একাত্ম।

    বঙ্গবন্ধু জেলে অনশনরত অবস্থায়ও দেশের মানুষের কথা ভেবেছেন, ২১ ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণের খবরে গভীর বেদনাহত হয়েছেন এবং নিজের আসন্ন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও বাঙালির মুক্তির স্বপ্নকে বুকে লালন করেছেন। তিনি মৃত্যুর হুমকিকে উপেক্ষা করে বলেছেন, মানুষ মাত্রই একবার মরে এবং তিনি সম্মানের সাথে দেশের জন্য আত্মাহুতি দিতে প্রস্তুত। তাঁর এই ত্যাগ কেবল একজন বন্দির অধিকার আদায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র বাঙালি জাতিকে জাগিয়ে তোলা ও ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক দায়িত্ববোধ থেকে উৎসারিত।

    অতএব, উদ্দীপকের নেলসন ম্যান্ডেলার ত্যাগ অনস্বীকার্য হলেও বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ ও চেতনার মূল ভিত্তি ছিল শোষিত বাঙালি জাতির মুক্তি ও মায়ের ভাষার আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা, যা তাঁকে অনন্য ও স্বতন্ত্র এক ঐতিহাসিক উচ্চতা দান করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন