যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: টেলিভিশন হয় দূরদর্শন যন্ত্র।দৃশ্যকল্প-২: টেলিযোগাযোগ বলতে মূলত বোঝায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে দূরবর্তী স্থানে কোনো সংকেত তথা বার্তা পাঠানো।দৃশ্যকল্প-৩: মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন দ্বিপদ জীব।

  1. ক)

    সংজ্ঞেয় পদ কী?

    (1)
  2. খ)

    পরতম জাতির সংজ্ঞা দেয়া যায় না কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ যৌক্তিক সংজ্ঞার কোন নিয়মটি লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ এর মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে পদের সংজ্ঞা দেওয়া হয়, তাকে সংজ্ঞেয় পদ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক সংজ্ঞায় কোনো পদের আসন্নতম জাতি (next higher genus) এবং বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু পরতম জাতি (highest genus) হলো এমন একটি জাতি যার উপরে আর কোনো উচ্চতর বা ব্যাপকতর জাতি নেই। ফলে এর কোনো আসন্নতম জাতি পাওয়া যায় না। আসন্নতম জাতি না থাকায় পরতম জাতির যৌক্তিক সংজ্ঞা প্রদান করা সম্ভব নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়মটি লঙ্ঘিত হয়েছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী, সংজ্ঞায় সংজ্ঞেয় পদের কোনো সমার্থক শব্দ বা প্রতিশব্দ ব্যবহার করা যাবে না; সংজ্ঞাটি সংজ্ঞেয় পদের চেয়ে স্পষ্টতর ও সহজবোধ্য হতে হবে। যদি সংজ্ঞায় সমার্থক পদ বা প্রতিশব্দ ব্যবহার করা হয়, তবে 'চক্রক সংজ্ঞা' (circular definition) অনুপপত্তি ঘটে।

    দৃশ্যকল্প-১-এ 'টেলিভিশন হয় দূরদর্শন যন্ত্র' বলা হয়েছে। এখানে 'টেলিভিশন' (Television) শব্দেরই আক্ষরিক বা সমার্থক বাংলা রূপ হিসেবে 'দূরদর্শন' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে পদের কোনো অন্তর্নিহিত আসন্নতম জাতি ও লক্ষণ বা যথার্থ জাত্যর্থ প্রকাশ পায়নি, বরং একটি প্রতিশব্দ দ্বারা অপরটিকে বোঝানো হয়েছে। সুতরাং, এখানে দ্বিতীয় নিয়ম লঙ্ঘনের মাধ্যমে 'চক্রক সংজ্ঞা' অনুপপত্তি ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এবং দৃশ্যকল্প-৩ এর মূল পার্থক্য হলো যৌক্তিক সংজ্ঞা ও সংজ্ঞার নিয়মলঙ্ঘনজনিত অতিরিক্ত গুণের উপস্থিতির দিক থেকে।

    দৃশ্যকল্প-৩ এ বলা হয়েছে: "মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন দ্বিপদ জীব।" এটি যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম লঙ্ঘনের একটি উদাহরণ। সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পদের সংজ্ঞায় কেবল তার সমগ্র জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হবে, জাত্যর্থের অতিরিক্ত বা কম কিছু উল্লেখ করা যাবে না। মানুষের যথার্থ জাত্যর্থ হলো 'বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব' (জীববৃত্তি + বুদ্ধিবৃত্তি)। কিন্তু দৃশ্যকল্প-৩ এ অতিরিক্ত গুণ হিসেবে 'দ্বিপদ' উল্লেখ করা হয়েছে, যা মানুষের একটি উপলক্ষণ বা অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। ফলে এখানে 'বাহুল্য সংজ্ঞা' (Redundant definition) অনুপপত্তি ঘটেছে।

    অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এ প্রযুক্তিগত অর্থে 'টেলিযোগাযোগ'-এর বর্ণনা বা যথার্থ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যেখানে তার লক্ষ্য ও বৈশিষ্ট্য সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দৃশ্যকল্প-৩ এ যেখানে প্রচলিত যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম ভেঙে বাহুল্য সংজ্ঞার সৃষ্টি হয়েছে, দৃশ্যকল্প-২ এ যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রাসঙ্গিক কার্যপ্রণালী বর্ণিত হয়েছে। সংক্ষেপে, দৃশ্যকল্প-৩ যৌক্তিক সংজ্ঞার সরাসরি নিয়মলঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তি নির্দেশ করে, পক্ষান্তরে দৃশ্যকল্প-২ একটি ধারণার প্রায়োগিক বর্ণনা বা ব্যাখ্যা নির্দেশ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন