পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ব্রিটিশ ভারতের একজন রাজনীতিবিদ তাঁর দলের বার্ষিক অধিবেশনে নিজ সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পৃথক রাষ্ট্রের সম্বলিত একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারতে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
- ক)(1)
কাকে 'মজলুম জননেতা' বলা হয়?
- খ)(2)
বারাসাত বিদ্রোহ কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাবের সাথে তোমার পঠিত কোন প্রস্তাবের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
- ঘ)(4)
ব্রিটিশ শাসনের অবসানে উক্ত প্রস্তাবের গুরুত্ব পর্যালোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে 'মজলুম জননেতা' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ শাসন এবং স্থানীয় জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচার-শোষণের বিরুদ্ধে সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত সশস্ত্র সংগ্রামকে 'বারাসাত বিদ্রোহ' বলা হয়। ১৮৩১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার নারকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে স্বাধীন প্রশাসন কায়েম করেন এবং ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করে শহীদ হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাবের সাথে আমার পঠিত ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক এক ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে লাহোর প্রস্তাব নামে খ্যাত হয়। এই প্রস্তাবে বলা হয়—ভৌগোলিক দিক দিয়ে সংলগ্ন এলাকাগুলোকে পৃথক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে এবং ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র (Independent States) গঠন করতে হবে, যেখানে অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।
উদ্দীপকে উল্লেখিত রাজনীতিবিদ তাঁর দলের বার্ষিক অধিবেশনে নিজ সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং পরবর্তীতে এর ওপর ভিত্তি করে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবেও ভারতের মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাসভূমির দাবি করা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তি ও ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পথ সুগম করে। তাই উদ্দীপকের প্রস্তাবটি লাহোর প্রস্তাবের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ শাসনের অবসানে উদ্দীপকে নির্দেশিত লাহোর প্রস্তাবের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে তা পর্যালোচনা করা হলো:
১. মুসলমানদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তার স্বীকৃতি: লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে একটি মৌলিক রূপান্তর ঘটে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমির দাবি জানায় এবং এটি ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক লক্ষ্যকে সুস্পষ্ট রূপ দান করে।
২. সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের স্থায়ী সমাধানের দাবি: কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও ক্ষমতা বণ্টনের জটিলতা থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে লাহোর প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি গড়ে দেয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের জন্য পৃথক শাসন ব্যবস্থার দাবি ব্রিটিশ শাসকদের ভাবতে বাধ্য করে।
৩. পাকিস্তান ও ভারত সৃষ্টির মূল ভিত্তি: লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য অনুযায়ী ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা নিয়ে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারতের জন্ম হয়। ফলে প্রায় দুই শতাব্দীর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে।
৪. বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ বপন: লাহোর প্রস্তাবে মূলগতভাবে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের কথা বলা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে পূর্ব বাংলার জনগণকে স্বাধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের প্রেরণা যোগায় এবং তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
পরিশেষে বলা যায়, লাহোর প্রস্তাব কেবল ব্রিটিশদের হাত থেকে ভারতকে মুক্ত করতেই ভূমিকা রাখেনি, বরং সমগ্র উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র পুনর্গঠন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহের উত্থানে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও