ভূগোল ২য় পত্র • জনসংখ্যা • Combined Board • ঢাকা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মৃত্যুহার কী?

    (1)
  2. খ)

    উন্নয়নের ভিত্তি হলো কৃষি – ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলের জনসংখ্যা বণ্টনের ওপর ভৌগোলিক প্রভাব ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'খ' এবং 'গ' অঞ্চলের জনসংখ্যা বণ্টনের তারতম্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণভাবে কোনো নির্দিষ্ট বছরে প্রতি হাজার মানুষের মধ্যে যতজন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তাকে মৃত্যুহার (Crude Death Rate বা CDR) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান উন্নয়নশীল দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর মূল ভিত্তি হলো কৃষি। দেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ, শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় আয়ে কৃষি খাতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা অপরিসীম। কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হয়, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে এবং সামগ্রিক শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। তাই বলা যায়, উন্নয়নের ভিত্তি হলো কৃষি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মানচিত্রে প্রদর্শিত 'ক' অঞ্চলটি বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাওর ও পাহাড়ি/টিলাবেষ্টিত এলাকা (বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চল)।

    এ অঞ্চলের জনসংখ্যা বণ্টনে ভৌগোলিক নিয়ামকগুলোর প্রভাব নিম্নরূপ:
    ১. ভূপ্রকৃতি: নিচু হাওর অঞ্চল এবং অসমতল পাহাড়ি টিলার কারণে বসতি স্থাপনের উপযোগী সমতল ভূমির অভাব রয়েছে। ফলে এখানে জনসংখ্যা মাঝারি বা বিক্ষিপ্তভাবে বাস করে।
    ২. জলাভূমি ও বন্যা: বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জলমগ্ন থাকে, যা স্থায়ী বসতি ও যোগাযোগে বড় বাধা। ফলে উঁচু ঢিবি বা ভিটাতে গুচ্ছাকারে বসতি গড়ে ওঠে।
    ৩. জলবায়ু ও বৃষ্টিপাত: এ অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা একদিকে চা চাষ ও কৃষিতে সহায়ক হলেও মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যা মানুষের জনজীবনকে প্রতিকূল করে তোলে।

    অতএব, প্রতিকূল ভূপ্রকৃতি এবং জলবায়ুগত কারণে 'ক' অঞ্চলের জনসংখ্যা দেশের মধ্যভাগের সমতল অঞ্চলের মতো অতি ঘনবসতিপূর্ণ না হয়ে বরং কম বা মাঝারি ঘনত্বের হয়ে থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'খ' অঞ্চলটি হলো দেশের মধ্যভাগের সমতল প্লাবনভূমি অঞ্চল (ঢাকা ও এর সন্নিহিত এলাকা) এবং 'গ' অঞ্চলটি হলো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান)। এ দুটি অঞ্চলের জনসংখ্যা বণ্টনে তীব্র তারতম্য পরিলক্ষিত হয়, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ভূপ্রকৃতি ও ভূমিরূপ: 'খ' অঞ্চলটি উর্বর সমতল প্লাবনভূমি হওয়ায় এখানে সহজেই বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ করা যায়। অন্যদিকে 'গ' অঞ্চলটি অত্যন্ত দুর্গম, খাড়া পাহাড় এবং বনজঙ্গলে আবৃত হওয়ায় বসতি স্থাপনের উপযোগী ভূমি সীমিত।

    ২. যোগাযোগ ব্যবস্থা: মধ্যভাগের 'খ' অঞ্চলে সড়ক, রেল ও নৌপথের চমৎকার নেটওয়ার্ক থাকায় অভ্যন্তরীণ চলাচল ও পণ্য পরিবহন সহজ। পক্ষান্তরে পাহাড়ি অঞ্চল 'গ'-তে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত অনুন্নত ও কষ্টসাধ্য।

    ৩. অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের সুযোগ: 'খ' অঞ্চলটিতে দেশের রাজধানী ও প্রধান প্রধান শিল্প-কারখানা অবস্থিত হওয়ায় জীবিকা নির্বাহ ও চাকরির প্রচুর সুযোগ রয়েছে। ফলে সারা দেশ থেকে মানুষ এখানে অভিবাসন করে অতি ঘনবসতি গড়ে তুলেছে। বিপরীতে 'গ' অঞ্চলে জুম চাষ ও বনজ সম্পদ ছাড়া বৃহৎ শিল্প ও চাকরির সুযোগ খুবই কম।

    ৪. শিক্ষা ও নাগরিক সুবিধা: আধুনিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার উন্নত সুযোগ-সুবিধা 'খ' অঞ্চলে সহজলভ্য হলেও 'গ' অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় তা অত্যন্ত অপ্রতুল।

    সুতরাং, অনুকূল ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে 'খ' অঞ্চলটি দেশের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল, অন্যদিকে দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশের কারণে 'গ' অঞ্চলটি একটি বিরল বা কম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন