জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ত্রিমিলন কী?

    (1)
  2. খ)

    ওরিয়েন্টাল অঞ্চলের উপ-অঞ্চলগুলোর নাম লেখো ।

    (2)
  3. গ)

    'R' এর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নতজাত উদ্ভাবন করা যায়-- ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অধিকতর বৈচিত্র্যপূর্ণ উদ্ভিদ পাওয়া সম্ভব? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি পুংজনন কোষ (হ্যাপ্লয়েড) এবং সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের (ডিপ্লয়েড) মিলনকে ত্রিমিলন বা ট্রিপল ফিউশন (Triple fusion) বলে। এর ফলে ট্রিপ্লয়েড (3n) শস্য বা এন্ডোস্পার্ম নিউক্লিয়াস গঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ওরিয়েন্টাল অঞ্চলকে (Oriental Realm) চারটি উপ-অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
    ১. ভারতীয় উপ-অঞ্চল (Indian sub-region)
    ২. সিংহলী উপ-অঞ্চল (Ceylonese sub-region)
    ৩. ইন্দো-চীন উপ-অঞ্চল (Indo-Chinese sub-region)
    ৪. ইন্দো-মালয় উপ-অঞ্চল (Indo-Malayan sub-region)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'R' প্রক্রিয়াটি হলো উদ্ভিদের টিস্যু কালচার (Micropropagation/Tissue culture) প্রযুক্তি।

    টিস্যু কালচারের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে নিম্নলিখিত উপায়ে উন্নতজাত উদ্ভাবন করা সম্ভব:
    ১. সোমাক্লোনাল প্রকরণ (Somaclonal variation): টিস্যু কালচারের সময় ক্যালাস দশায় কোষে বিভিন্ন ধরনের জেনেটিক ও মিউটেশনাল পরিবর্তন ঘটতে পারে। এসব প্রকরণ থেকে রোগ প্রতিরোধী, লবণাক্ততা সহনশীল কিংবা প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল নতুন ও উন্নত জাত নির্বাচন করা যায়।
    ২. পরাগরেণু বা পরাগধানী কালচার (Haploid culture): পরাগরেণু কালচারের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদ সৃষ্টি করে কোয়ার্টার/কোলচিসিনের সাহায্যে ক্রোমোজোম দ্বিগুণ করে হোমোজাইগাস উন্নত বিশুদ্ধ জাত (Pure line) খুব কম সময়ে তৈরি করা যায়।
    ৩. প্রোটোপ্লাস্ট ফিউশন (Somatic hybridization): দুটি ভিন্ন প্রজাতির কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কোষের প্রোটোপ্লাস্টের মিলন ঘটিয়ে নতুন আন্তঃপ্রজাতিক সংকর (যেমন- পমেটো) বা উন্নত প্রকরণ উদ্ভাবন সম্ভব।
    ৪. ভ্রূণ উদ্ধার (Embryo rescue): দূরবর্তী সংকরায়ণে অপূর্ণাঙ্গ ভ্রূণকে পুষ্টিমাধ্যমে কালচার করে সংকর উদ্ভিদ বাঁচিয়ে রাখা এবং নতুন উন্নত জাত তৈরি করা যায়।
    সুতরাং, নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম পরিবেশে টিস্যু কালচার প্রয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের উন্নত জাত উদ্ভাবন সম্ভব।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'Q' প্রক্রিয়াটি সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন (Sexual reproduction/Fertilization) এবং 'R' প্রক্রিয়াটি টিস্যু কালচার (Tissue culture) প্রযুক্তি নির্দেশ করে।

    এদের মধ্যে প্রক্রিয়া 'Q' অর্থাৎ যৌন জননের মাধ্যমে অধিকতর বৈচিত্র্যপূর্ণ উদ্ভিদ পাওয়া সম্ভব। নিম্নে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. মায়োসিস বিভাজন ও ক্রসিং ওভার: যৌন জননের প্রধান ভিত্তি হলো গ্যামেট সৃষ্টি, যা মায়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মায়োসিস-১ এর প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে কায়াজমা সৃষ্টির মাধ্যমে ক্রসিং ওভার ঘটে। এর ফলে জিনের বিনিময় ও রিকম্বিনেশন ঘটে, যা সন্ততিতে নতুন বৈচিত্র্য তৈরি করে।

    ২. ভিন্ন বংশগতির মিলন: যৌন জননে দুটি ভিন্ন বংশগতির পিতা-মাতার গ্যামেটের (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) সংমিশ্রণ ঘটে। ভিন্ন উৎস থেকে জিন একত্রিত হওয়ায় উৎপন্ন জীবে জিনগত বৈচিত্র্য বা প্রকরণ (Genetic variation) সৃষ্টি হয়।

    ৩. অন্যদিকে 'R' প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা: টিস্যু কালচার মূলত এক প্রকার অঙ্গজ প্রজনন (Asexual/Vegetative propagation)। এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন নতুন চারাগুলো মাতৃউদ্ভিদের ক্লোন হয়, অর্থাৎ এরা মাতৃউদ্ভিদের সাথে হুবহু জিনগত মিল বজায় রাখে। যদিও বিশেষ অবস্থায় সোমাক্লোনাল ভ্যারিয়েশন দেখা যায়, তা খুবই সীমিত এবং অনিয়ন্ত্রিত।

    সুতরাং, জিনগত রিকম্বিনেশন ও ক্রসিং ওভারের কারণে প্রক্রিয়া-Q (যৌন জনন)-এর মাধ্যমেই উদ্ভিদে তুলনামূলকভাবে অধিকতর বৈচিত্র্য বা প্রকরণ সৃষ্টি হওয়া সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন