‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'X' একজন রোগী। দীর্ঘদিন ধরে তার শুকনো কাশি লেগে আছে এবং দিন দিন শরীরের ওজন হ্রাস পাচ্ছে। তিনি প্রায়শই ক্লান্তিবোধ করেন। হাসপাতালে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার জানান, তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে।

  1. ক)

    AIDS- এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত  X কোন ধরনের রোগে আক্রান্ত? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত রোগ প্রতিরোধে নাগরিক হিসেবে তোমার করণীয় বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    AIDS-এর পূর্ণরূপ হলো Acquired Immuno Deficiency Syndrome.

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী বলতে সমাজের সেইসব মানুষদের বোঝায় যাদের শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক বা ইন্দ্রিয়গত সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও বিকাশের জন্য বিশেষ যত্ন, সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন হয়। যেমন—শারীরিক প্রতিবন্ধী, দৃষ্টি ও বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী, অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা ডাউন সিন্ড্রোম আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'X' এইডস (AIDS) রোগে আক্রান্ত।

    এইডস হলো হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (HIV) দ্বারা সৃষ্ট একটি মরণঘাতী রোগ। এই ভাইরাস মানবদেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য দায়ী শ্বেত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে ফেলে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি নানা ধরনের গৌণ সংক্রমণ ও জটিল রোগে ভুগতে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে শুকনো কাশি, দ্রুত অস্বাভাবিক ওজন হ্রাস পাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে পড়া এইডসের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, 'X' রোগী দীর্ঘদিন ধরে শুকনো কাশিতে ভুগছেন, দিন দিন তার ওজন হ্রাস পাচ্ছে, তিনি চরম ক্লান্তি বোধ করেন এবং চিকিৎসকের পরীক্ষায় দেখা যায় যে তার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। এই উপসর্গগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে তিনি এইডস রোগে আক্রান্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত রোগটি হলো এইডস (AIDS)। এটি একটি মারণব্যাধি হলেও সচেতনতা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব। নাগরিক হিসেবে এই রোগ প্রতিরোধে আমার নিম্নোক্ত করণীয় রয়েছে:

    ১. সচেতনতা বৃদ্ধি: এইডস কী, কীভাবে ছড়ায় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে সম্পর্কে নিজের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিয়ে গণসচেতনতা তৈরি করা।
    ২. নিরাপদ আচরণ বজায় রাখা: ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ও অনৈতিক যৌন সম্পর্ক পরিহার করা।
    ৩. নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করা: রক্ত দেওয়া বা নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং বা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে তা এইচআইভি মুক্ত কিনা তা নিশ্চিত করার পক্ষে প্রচার চালানো এবং নিজে তা মেনে চলা।
    ৪. জীবাণুমুক্ত সুঁই ও সিরিঞ্জ ব্যবহার: ইনজেকশন নেওয়ার সময় সবসময় নতুন ও জীবাণুমুক্ত ডিসপোজেবল সুঁই-সিরিঞ্জ ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং একাধিক ব্যক্তির এক সুঁই ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।
    ৫. সামাজিক কুসংস্কার দূর করা: এইডস আক্রান্ত রোগীদের প্রতি ঘৃণা বা বৈষম্য না দেখিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো ও সহানুভূতিশীল মানসিকতা গড়ে তোলার ব্যাপারে সমাজকে উদ্বুদ্ধ করা।

    পরিশেষে, একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নৈতিক জীবনযাপন এবং সামগ্রিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমেই এইডস-এর মতো মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন