ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

ইতিহাসখ্যাত বাদশা হাসান প্রজাদের জন্য অন্তঃপ্রাণ ছিলেন। তার স্ত্রীও তীর্থযাত্রীদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য দূরাঞ্জল থেকে পানি আনার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু বাদশাহ তার পার্শ্ববর্তী প্রতাপশালী শত্রু সাম্রাজ্যের অধিপতিকে বারবার যুদ্ধে পরাজিত করেও তাকে ক্ষমা করে দেন।

  1. ক)

    আব্বাসিদের রাজধানী কোথায় ছিল?

    (1)
  2. খ)

    আব্বাসি কারা? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নারীর সাথে আব্বাসি কোন মহীয়সী নারীর কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'উদ্দীপকের শাসক ও আব্বাসি খলিফা হারুন-অর রশীদ-এর শাসন বৈশিষ্ট্য একই রূপ'- মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আব্বাসিদের রাজধানী ছিল বাগদাদ (প্রাথমিকভাবে কুফা ও আল-হাশিমিয়াতেও স্বল্প সময়ের জন্য ছিল)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আব্বাসি হলেন মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পিতৃব্য হযরত আব্বাস (রা.)-এর বংশধর। উমাইয়াদের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর মাধ্যমে যে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়, তা ইতিহাসে আব্বাসি খিলাফত নামে পরিচিত। এ বংশের খলিফাগণ প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে মুসলিম বিশ্ব শাসন করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের নারীর কর্মকাণ্ডের সাথে আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদের মহীয়সী স্ত্রী জুবায়দার মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বাদশাহ হাসানের স্ত্রী তীর্থযাত্রীদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য দূরদূরান্ত থেকে পানি আনার ব্যবস্থা করেছিলেন। একইভাবে আব্বাসি যুগে খলিফা হারুন-অর-রশীদের বিদুষী ও পরোপকারী স্ত্রী রানী জুবায়দা মক্কার হাজিদের তীব্র পানির কষ্ট লাঘবের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ে সুদূর পাহাড় থেকে মক্কা পর্যন্ত একটি দীর্ঘ কৃত্রিম খাল খনন করিয়েছিলেন। এই খালটি ইতিহাসে ‘নাহরে জুবায়দা’ নামে পরিচিত। অতএব, জনহিতৈষী কর্মকাণ্ড ও তীর্থযাত্রীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থার দিক থেকে উদ্দীপকের নারীর সাথে রানী জুবায়দার পূর্ণ সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শাসক বাদশা হাসানের সাথে আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদের শাসন বৈশিষ্ট্যের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে—উক্তিটি যথার্থ।

    উদ্দীপকের বাদশা হাসান প্রজাবৎসল ছিলেন এবং নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে প্রজাদের কল্যাণে কাজ করতেন। পাশাপাশি তিনি পার্শ্ববর্তী প্রতাপশালী শত্রু সাম্রাজ্যের অধিপতিকে যুদ্ধে বারবার পরাজিত করেও মহত্ত্ব দেখিয়ে ক্ষমা প্রদর্শন করেন।

    ইসলামের ইতিহাসে আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদ ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ, প্রজাদরদি ও প্রজাবৎসল শাসক। তিনি প্রজাদের প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য রাতে ছদ্মবেশে বাগদাদের পথে পথে ঘুরে বেড়াতেন। তাঁর শাসনকালে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অধিপতি নাইসিফোরাস চুক্তি ভঙ্গ করে বিদ্রোহ করলে হারুন-অর-রশীদ তাকে যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। নাইসিফোরাস বারবার কর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কর বন্ধ করলেও হারুন-অর-রশীদ প্রতিবারই তাকে পরাজিত করে মুসলিম রীতি অনুযায়ী সন্ধি বা ক্ষমা প্রদর্শন করেছিলেন।

    সুতরাং দেখা যায়, প্রজাকল্যাণকামী মনোভাব এবং শত্রু রাজাকে পরাজিত করেও মহানুভবতা ও ক্ষমার নীতি প্রদর্শনের দিক দিয়ে উদ্দীপকের শাসক ও খলিফা হারুন-অর-রশীদের শাসন বৈশিষ্ট্য অভিন্ন রূপ প্রকাশ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন