বাংলা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

10.1.

সারাংশ লেখো:শ্রেষ্ঠ বলিয়া অহংকার করিতে যে লজ্জাবোধ করে না, যে মানুষকে নিম্নাসনে বসাইয়া রাখিতে আনন্দবোধ করে, যে দরিদ্র ও ছোটকে ছোট করিয়া রাখিতে কষ্ট অনুভব করে না, যে মানুষের শক্তি-স্বাধীনতা হরণ করিতে ব্যস্ত, যে মানুষের হাত দিয়া নিজের পায়ের জুতা খুলাইয়া লয়, তোমরা তাহাদিগকে সালাম করিও না। সে সারারাত্রি প্রার্থনা করুক, মানুষ তাহার পদধূলি লইয়া মাথায় মাখুক, সে প্রথম শ্রেণির গাড়িতে চড়ুক, সে রাজ দরবারের সদস্য হউক, তোমরা তাহাকে আত্মীয় মনে করিও না। লক্ষ নরনারী মুক্তির আশায় করুণ নেত্রে তোমাদের দিকেই চাহিয়া আছে। লক্ষ, কোটি মানবাত্মা তোমাদের আগমনের অপেক্ষা করিতেছে। যে দুর্বৃত্তের দল সত্যকে চূর্ণ করিয়া মহান সৃষ্টিকর্তার বাণীকে অবমাননা করিতেছে, তাহাদিগকে দেখিয়া আর তোমরা শ্রদ্ধায় আসন ছাড়িয়া দাঁড়াইও না।

10.2.

ভাবসম্প্রসারণ করো:প্রকৃতির ওপর আধিপত্য নয়, চাই প্রকৃতির সঙ্গে মৈত্রীর সম্পর্ক।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

১০.১. সারাংশ:

মানুষকে যারা পদানত ও শোষণ করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করে, সামাজিক বা ধর্মীয় মুখোশ সত্ত্বেও তারা কখনো শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য নয়। সত্য ও মানবতার লাঞ্ছনাকারী এসব অহংকারী দুর্বৃত্তদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুক্ত করাই বিবেকবান তরুণদের আসল দায়িত্ব।

১০.২. ভাবসম্প্রসারণ:

প্রকৃতির ওপর আধিপত্য নয়, চাই প্রকৃতির সঙ্গে মৈত্রীর সম্পর্ক।

মূলভাব: মানুষ ও প্রকৃতি একে অপরের পরিপূরক। প্রকৃতিকে ধ্বংস বা শাসন করে নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখেই মানবসভ্যতা টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

সম্প্রসারিত ভাব: আদিমকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির পরম স্নেহে লালিত হয়ে আসছে। আলো, বাতাস, জল ও মাটি দিয়ে প্রকৃতি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করছে। কিন্তু সভ্যতার অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ অহংকারী হয়ে উঠেছে। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শক্তিতে অন্ধ হয়ে মানুষ প্রকৃতিকে জয় করার এবং তার ওপর আধিপত্য বিস্তারের উন্মত্ত প্রতিযোগিতায় মেতেছে। বন উজাড়, নদী দূষণ, পাহাড় নিধন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে আজ পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিপর্যস্ত।

প্রকৃতির ওপর এই বেপরোয়া আধিপত্য বিস্তারের ফল মানবজাতির জন্যই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। প্রকৃতিকে শাসন করার চেষ্টা মূলত আত্মহত্যারই শামিল। প্রকৃতি কোনো প্রভুত্ব মানে না; বরং মানুষের অশুভ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় চরম প্রতিশোধে। তাই বেঁচে থাকার স্বার্থেই মানুষের উচিত প্রকৃতির সঙ্গে বৈরী আচরণ পরিহার করে বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে তোলা।

উপসংহার: প্রকৃতি মানুষের অধীন নয়, বরং মানুষ নিজেই প্রকৃতির সন্তান। তাই প্রকৃতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে এর সঙ্গে মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে তোলাই হোক বর্তমান পৃথিবীর মূল অঙ্গীকার।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন