অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
পাট, বস্ত্র, চা, চামড়া ও তৈরি পোশাক শিল্পসমূহ তাদের উৎপাদিত পণ্য ও সেবা বিদেশের বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে। অন্যদিকে এমন কিছু শিল্প রয়েছে যা পৃথিবীর অপরাপর দেশ হতে ক্রয়কৃত পণ্য ও সেবা হ্রাস এবং উক্ত দ্রব্য দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন ও যোগান দেয়ার উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে। তবে দু'ধরনের শিল্পই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বেকারত্ব নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ক)(1)
শিল্প কী?
- খ)(2)
তৈরি পোশাক শিল্প নারীর ক্ষমতায়নে কীভাবে সহায়ক? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন কোন ধরনের শিল্পের ধারণা প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্প দুটির তুলনামূলক গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণভাবে সমজাতীয় পণ্য ও সেবা উৎপাদনে নিয়োজিত সকল ফার্মের সমষ্টিকে শিল্প বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তৈরি পোশাক শিল্পে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিকের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ায় তা নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।
পোশাক কারখানার অধিকাংশ কর্মীই নারী। নিজের উপার্জনের মাধ্যমে নারীরা পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারছেন, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাদের সঞ্চয় ও ব্যয় করার স্বাধীনতা তৈরি হচ্ছে। ফলে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির মাধ্যমে তৈরি পোশাক শিল্প নারীর সামগ্রিক ক্ষমতায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রপ্তানিমুখী শিল্প (Export-oriented industry) এবং আমদানি বিকল্পকরণ শিল্প (Import-substituting industry)—এ দু'ধরনের শিল্পের ধারণা প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে পাট, বস্ত্র, চা, চামড়া ও তৈরি পোশাক শিল্পের কথা বলা হয়েছে, যা বিদেশের বাজারে বিক্রির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে। এটি হলো 'রপ্তানিমুখী শিল্প'। যে শিল্পে উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রী দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর প্রধানত আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়, তাকে রপ্তানিমুখী শিল্প বলে।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে এমন শিল্পের কথা বলা হয়েছে, যা পৃথিবীর অপরাপর দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য ও সেবার ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন ও জোগান দেওয়ার জন্য গড়ে ওঠে। এটি হলো 'আমদানি বিকল্পকরণ শিল্প'। বিদেশি পণ্যের আমদানি হ্রাস করে দেশীয় মুদ্রার অপচয় রোধ এবং স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত শিল্পই হলো আমদানি বিকল্পকরণ শিল্প।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে রপ্তানিমুখী শিল্প এবং আমদানি বিকল্পকরণ শিল্প উভয়ই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তবে এগুলোর ভূমিকা তুলনামূলকভাবে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়।
রপ্তানিমুখী শিল্পের গুরুত্ব:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: রপ্তানিমুখী শিল্প বিশ্ববাজারে পণ্য বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করে।
২. আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি: বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন করতে হয়, ফলে উৎপাদনশীলতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বৃদ্ধি পায়।
৩. ব্যাপক কর্মসংস্থান: যেমন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প লাখ লাখ মানুষের বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।আমদানি বিকল্পকরণ শিল্পের গুরুত্ব:
১. বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়: বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি হ্রাস পাওয়ায় দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাওয়া বন্ধ হয়।
২. বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস ও স্বনির্ভরতা: মৌলিক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের ওপর নির্ভরতা কমে এবং দেশীয় অর্থনীতি স্বাবলম্বী হয়।
৩. স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার ও দেশীয় শিল্পের বিকাশ: এ নীতি গ্রহণের ফলে স্থানীয় শিল্পসমূহ সংরক্ষণ পায় এবং দেশীয় কাঁচামালের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয়।তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
উন্নয়নশীল দেশের শুরুতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং অভ্যন্তরীণ ভিত্তিকে মজবুত করতে আমদানি বিকল্পকরণ শিল্প অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে কেবল আমদানি বিকল্পকরণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারের সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন। অন্যদিকে, রপ্তানিমুখী শিল্প দেশের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ঘটায় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ভারসাম্য অনুকূলে এনে জাতীয় আয় দ্রুত বৃদ্ধি করে।পরিশেষে বলা যায়, দুটি শিল্পই একটি দেশের অর্থনীতির দুই চাকার মতো। একটি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখে এবং অন্যটি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে প্রবৃদ্ধি দ্রুততর করে। অতএব, উভয়ের ভূমিকা পরিপূরক ও সমগুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও