‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।'

  1. ক)

    কোন গভর্নর জেনারেলের শাসনামলে বঙ্গভঙ্গ হয়?

    (1)
  2. খ)

    অসহযোগ আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণ লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কবিতার লাইনটি তোমার পাঠ্যবই-এর যে ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয় তার পটভূমি বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঘটনাটি বাঙালি জনগোষ্ঠীকে সর্বপ্রথম বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্দীপ্ত করে তোলে- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লর্ড কার্জনের শাসনামলে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯২০-২২ সালে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলনের ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল আন্দোলনের অহিংস নীতি বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়া। ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর প্রদেশের চৌরিচৌরায় উত্তেজিত জনতা একটি থানায় আগুন ধরিয়ে দিলে ২২ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। এই সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন। এছাড়া উপযুক্ত রাজনৈতিক কৌশলের অভাব ও অভ্যন্তরীণ মতভেদও এর ব্যর্থতার কারণ ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কবিতার চরণটি ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের পটভূমির কথা মনে করিয়ে দেয়। বিশিষ্ট কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী ২১শে ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ডের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কবিতাটি রচনা করেন।

    ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় ঘোষণা দেন 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা', যার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানায়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালে প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন একই ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করলে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। অবশেষে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-জনতা রাজপথে নামলে পুলিশের গুলিতে বরকত, সালাম, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পটভূমিতেই রচিত হয় উক্ত কবিতাটি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'উক্ত ঘটনাটি অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালি জনগোষ্ঠীকে সর্বপ্রথম বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্দীপ্ত করে তোলে'- উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় চেতনার ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হলেও ভাষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে পূর্ব বাংলার বাঙালিদের সাথে পশ্চিম পাকিস্তানের কোনো মিল ছিল না। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক নীতি এবং বাংলা ভাষার ওপর সরাসরি আঘাত বাঙালিদের ভেতর নিজেদের জাতিগত স্বাতন্ত্র্যের উপলব্ধিকে জাগিয়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালিরা প্রথম বুঝতে পারে যে, ধর্মের চেয়ে তাদের জাতীয় ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অনেক বেশি শক্তিশালী ও মৌলিক।

    ভাষা আন্দোলনের রক্তদান বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং তাদের ভেতর আত্মমর্যাদাবোধ ও 'বাঙালি' হিসেবে পৃথক আত্মপরিচয়ের সূচনা করে। এ আন্দোলনই ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি। এই জাতীয়তাবাদী চেতনার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। তাই বলা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই বাঙালিকে প্রথম ঐক্যবদ্ধ জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্দীপ্ত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন