ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব জহির অগ্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির সাথে একটি ২০ বছর মেয়াদি বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার হিসেবে কন্যার নাম উল্লেখ করেন। ওনার মৃত্যুর পর পুত্র বিমাদাবি আদায়ের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিমা কোম্পানির কাছে জমা দিলে ম্যানেজার বিমাদাবি পরিশোধে অস্বীকার করে জানান শুধু কন্যা বিমাদাবির অর্থ পাবেন।
- ক)(1)
স্থলাভিষিক্তকরণ নীতিকী?
- খ)(2)
জীবন বিমা ক্ষতিপূরণের চুক্তি নয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব জহিরের পুত্রের দাবি প্রত্যাখ্যানের কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
শুধু কন্যা বিমাদাবির অর্থ পাবে উদ্দীপকের ম্যানেজারের এমন দাবির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষতিপূরণ বিমায় বিমা কোম্পানি বিমাগ্রহীতাকে ক্ষতির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ওপর বিমাগ্রহীতার যাবতীয় অধিকার বিমাকারীর অনুকূলে হস্তান্তরিত হওয়ার নীতিকে স্থলাভিষিক্তকরণ নীতি (Principle of Subrogation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের জীবনের আর্থিক মূল্য কোনোভাবেই সঠিকভাবে নিরূপণ বা পরিমাপ করা সম্ভব নয় বলেই জীবন বিমা ক্ষতিপূরণের চুক্তি নয়।
ক্ষতিপূরণের চুক্তিতে ক্ষতির সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়, যাতে বিমাগ্রহীতা আর্থিক ক্ষতির পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে পারেন। কিন্তু কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে সেই ক্ষতি টাকায় পূরণ করা অসম্ভব। তাই জীবন বিমা হলো মূলত একটি নিশ্চয়তা বা আশ্বাসের চুক্তি (Contract of Assurance), যেখানে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বা বিমাগ্রহীতার মৃত্যুতে পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব জহিরের পুত্রের বিমাদাবির আবেদন প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ হলো তিনি বিমা পলিসির মনোনীত ব্যক্তি (Nominee) ছিলেন না।
জীবন বিমা চুক্তির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো 'মনোনয়ন' (Nomination)। বিমাপত্রে বিমাগ্রহীতা তার মৃত্যুর পর বিমার অর্থ কে বা কারা গ্রহণ করবেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ বা মনোনীত করে দেন। বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর বিমা কোম্পানি শুধুমাত্র মনোনীত ব্যক্তিকেই বিমাদাবির অর্থ প্রদান করতে আইনত বাধ্য থাকে।
উদ্দীপকে জনাব জহির অগ্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির সাথে পলিসি খোলার সময় উত্তরাধিকার বা মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে কেবল তার কন্যার নাম উল্লেখ করেছিলেন। ফলে জহিরের মৃত্যুর পর বিমাদাবি আদায়ের আইনগত অধিকার কেবল তার কন্যারই বর্তায়। জহিরের পুত্র আইনত মনোনীত ব্যক্তি না হওয়ায় তার দাবিটি ম্যানেজার প্রত্যাখ্যান করেন, যা বিমা আইনের দিক থেকে সম্পূর্ণ সঠিক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"শুধু কন্যা বিমাদাবির অর্থ পাবেন"—উদ্দীপকের ম্যানেজারের এমন বক্তব্য বিমা আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ সংগত ও যৌক্তিক।
বিমা আইন অনুযায়ী, বিমাগ্রহীতা পলিসি গ্রহণের সময় বা পরবর্তীতে যাকে বা যাদেরকে 'মনোনীত ব্যক্তি' (Nominee) হিসেবে ঘোষণা করেন, বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর বিমা কোম্পানি কেবল সেই ব্যক্তির নিকট বিমার টাকা পরিশোধ করে দায়মুক্ত হয়। বিমা কোম্পানির দায়িত্ব হলো বিমা চুক্তির শর্তানুযায়ী মনোনীত ব্যক্তির দাবি নিষ্পত্তি করা; উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন বিমা কোম্পানির এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব জহির তার জীবন বিমা পলিসিতে মৃত্যুর পর অর্থ পাওয়ার জন্য শুধুমাত্র তার কন্যাকে মনোনীত করেছিলেন। পুত্র যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করলেও তিনি বিমা পলিসিতে মনোনীত ব্যক্তি নন। আইনগতভাবে বিমা কোম্পানি মনোনীত ব্যক্তি ব্যতিরেকে অন্য কোনো উত্তরাধিকারীর কাছে দাবি পরিশোধ করতে পারে না। যদি কোনো পারিবারিক উত্তরাধিকার আইনগত বিরোধ থাকে, তবে তা আদালত বা পারিবারিক আইনের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য, কিন্তু বিমা কোম্পানি কেবল মনোনীত কন্যাকেই অর্থ দিতে বাধ্য।
অতএব, বিমা চুক্তির ধারা ও আইন অনুসারে ম্যানেজারের শুধু কন্যাকে বিমাদাবির অর্থ পরিশোধের দাবিটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ ও আইনসম্মত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও