জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
আবিদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন। ডাক্তার পরীক্ষা করে তাকে বললেন, তার হৃৎপিন্ডের বিশেষ পেশিগুচ্ছের ছন্দহীনতার কারণে কার্ডিয়াক চক্রে সমস্যা হয়েছে। এ জন্য ডাক্তার তাকে বিশেষ যন্ত্র বসানোর পরামর্শ দিলেন।
- ক)(1)
হিমাটোপোয়েসিস কী?
- খ)(2)
অ্যানজিনার লক্ষণ লিখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত চক্রটি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ডাক্তারের পরামর্শ কতটা যুক্তিযুক্ত? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে প্রক্রিয়ায় রক্তকণিকা (অস্থিমজ্জার স্টেম কোষ থেকে) সৃষ্টি ও পরিপক্ব হয়, তাকে হিমাটোপোয়েসিস বা রক্তকণিকা সৃষ্টি প্রক্রিয়া বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অ্যানজিনা (Angina Pectoris) হলো হৃৎপেশিতে অপর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট বুকে ব্যথা। এর প্রধান লক্ষণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. বুকের ঠিক মাঝখানে বা স্টার্নামের পেছনে চাপ, ভারী ভাব, অস্বস্তি বা তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়া।
২. এই ব্যথা সাধারণত বুকের বাম পাশ, বাম বাহু, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পিঠে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
৩. পরিশ্রম বা মানসিক চাপে ব্যথা বৃদ্ধি পায় এবং বিশ্রাম নিলে বা নাইট্রোগ্লিসারিন ওষুধ সেবনে ব্যথা উপশম হয়।
৪. বুক ব্যথার সাথে সাথে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, বমি বমি ভাব বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত চক্রটি হলো 'কার্ডিয়াক চক্র' বা হৃদচক্র। হৃৎপিণ্ডের প্রতিটি স্পন্দনে এর অলিন্দ (অ্যাট্রিয়াম) ও নিলয়ের (ভেন্ট্রিকল) ছন্দোময় সংকোচন (সিস্টোল) এবং প্রসারণকে (ডায়াস্টোল) চক্রাকারে পুনরাবৃত্তি হওয়াকে কার্ডিয়াক চক্র বলে। মানুষের হৃদস্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে গড়ে ৭৫ বার হলে একটি কার্ডিয়াক চক্র সম্পন্ন হতে প্রায় ০.৮ সেকেন্ড সময় লাগে।
কার্ডিয়াক চক্রের ধাপসমূহ:
১. অলিন্দের ডায়াস্টোল (০.৭ সেকেন্ড): এ দশায় অলিন্দ দুটি প্রসারিত হয় এবং সুপিরিয়র ও ইনফিরিয়র ভেনাকাভা দিয়ে ডান অলিন্দে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত এবং পালমোনারি শিরা দিয়ে বাম অলিন্দে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত প্রবেশ করে।
২. অলিন্দের সিস্টোল (০.১ সেকেন্ড): অলিন্দ দুটি সংকুচিত হয়ে ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড কপাটিকা খুলে যায় এবং রক্ত অলিন্দ থেকে যথাক্রমে ডান ও বাম নিলয়ে প্রবেশ করে।
৩. নিলয়ের সিস্টোল (০.৩ সেকেন্ড): নিলয় দুটি সংকুচিত হয়, ফলে বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা সশব্দে বন্ধ হয়ে প্রথম হৃদধ্বনি 'লাব' (Lubb) সৃষ্টি করে। রক্ত সেমিলুনার কপাটিকা দিয়ে পালমোনারি ধমনি ও মহাধমনিতে প্রবেশ করে।
৪. নিলয়ের ডায়াস্টোল (০.৫ সেকেন্ড): নিলয় দুটি প্রসারিত হয়, ফলে সেমিলুনার কপাটিকা সশব্দে বন্ধ হয়ে দ্বিতীয় হৃদধ্বনি 'ডাব' (Dubb) সৃষ্টি হয় এবং নিলয় পুনরায় রক্ত গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আবিদের হৃৎপিণ্ডের বিশেষ পেশিগুচ্ছের (যেমন: সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড বা এস.এ নোড) ছন্দহীনতা দেখা দেওয়ায় ডাক্তার তাকে একটি বিশেষ যন্ত্র অর্থাৎ 'কৃত্রিম পেসমেকার' (Artificial Pacemaker) বসানোর পরামর্শ দিয়েছেন। ডাক্তারের এই পরামর্শটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও সময়োপযোগী। নিচে এর সপক্ষে মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রাকৃতিক পেসমেকারের বিকলতা: হৃৎপিণ্ডের ছন্দময় স্পন্দন তৈরির জন্য প্রাকৃতিক পেসমেকার (SAN) কাজ করে। যখন এই বিশেষ পেশিগুচ্ছ বা এর পরিবহন তন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় (যেমন: হার্ট ব্লক বা অ্যারাইথমিয়া), তখন হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে ধীর বা অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ফলে কার্ডিয়াক চক্রের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়।
২. রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা: হৃৎপিণ্ড ঠিকমতো স্পন্দিত না হলে সারা শরীরে এবং মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়, যার ফলে রোগী অজ্ঞান হতে পারে, এমনকি আকস্মিক মৃত্যুও হতে পারে।
৩. কৃত্রিম পেসমেকারের ভূমিকা: কৃত্রিম পেসমেকার হলো একটি কম্পিউটারাইজড ব্যাটারিচালিত ছোট বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যা ত্বকের নিচে স্থাপন করা হয়। এটি তারের (লেড) মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের সাথে যুক্ত থাকে। এটি অনিয়মিত ছন্দ শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠিয়ে হৃৎপিণ্ডকে নির্দিষ্ট ও স্বাভাবিক গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত করে।সুতরাং, আবিদের স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং কার্ডিয়াক চক্রকে ছন্দময় ও সচল রেখে জীবন বাঁচানোর জন্য কৃত্রিম পেসমেকার স্থাপনের পরামর্শটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত ও যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও