বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
"চলে যাব—তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি-নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।"
- ক)(1)
'বিদ্রোহী' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
- খ)(2)
''আমি সেই দিন হব শান্ত''- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপক ও 'বিদোহী' কবিতার ভাবগত মিল তুলে ধর।
- ঘ)(4)
“মানব মুক্তির আকাঙ্ক্ষাই 'বিদ্রোহী' কবিতা ও উদ্দীপকের মূলসুর।”- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিদ্রোহী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নি-বীণা' থেকে সংকলিত হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
''আমি সেই দিন হব শান্ত''—বলতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়, অত্যাচার, পরাধীনতা ও সামাজিক বৈষম্য চিরতরে দূর না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিপ্লবী সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সমাজের সব ধরনের নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। কবি ঘোষণা করেছেন, যেদিন নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের ক্রন্দনরোল আকাশে-বাতাসে আর ধ্বনিত হবে না এবং অত্যাচারীর উদ্ধত তরবারি রণক্ষেত্রে চিরতরে স্তব্ধ হবে, কেবল সেদিনই তিনি শান্ত হবেন। এর আগ পর্যন্ত তাঁর বিদ্রোহ ও বিপ্লব অব্যাহত থাকবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক এবং 'বিদ্রোহী' কবিতার মধ্যে সমাজকে শোষণ-জঞ্জালমুক্ত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শোষণহীন ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকারে গভীর ভাবগত মিল রয়েছে।
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি নিজেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে চরম ধ্বংসকারী ও বিধ্বংসী শক্তি হিসেবে প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁর এই ধ্বংসের রূপটি ইতিবাচক; সমাজের অন্যায়, পরাধীনতা, অত্যাচার ও বৈষম্যকে সমূলে ধ্বংস করে তিনি মানবকল্যাণ ও শান্তির সুন্দর পৃথিবী প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। উৎপীড়িতের কান্না থামিয়ে বিশ্বকে শান্ত করাই তাঁর বিদ্রোহের চূড়ান্ত রূপ।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যও নিজের জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করে পৃথিবীর সব গ্লানি ও জঞ্জাল দূর করার অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর লক্ষ্য হলো নবজাতক বা আগামী প্রজন্মের জন্য এই বিশ্বকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তোলা।
উভয় সাহিত্যকর্মেই বিদ্যমান সমাজব্যবস্থার অনাচার দূর করে একটি সুন্দর, শান্তিময় ও শোষকমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠার তীব্র বাসনা ব্যক্ত হয়েছে। এই মানবকল্যাণকামী ও কল্যাণমুখী রূপান্তরের ভাবনায় উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতাটি গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“মানব মুক্তির আকাঙ্ক্ষাই 'বিদ্রোহী' কবিতা ও উদ্দীপকের মূলসুর”—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য কালজয়ী সৃষ্টি। আপাতদৃষ্টিতে কবিতার ভাব জুড়ে আত্মশক্তি ও ধ্বংসের জয়গান উচ্চারিত হলেও এর অন্তর্নিহিত দর্শন হলো শোষিত, লাঞ্ছিত ও পরাধীন মানবতার সার্বিক মুক্তি। কবি স্বৈরাচার, পরাধীনতা ও ভেদাভেদের শৃঙ্খল ভাঙতে রুদ্র রূপ ধারণ করেছেন। অত্যাচারীর উৎপীড়ন থেকে মানুষকে রক্ষা করা এবং নির্যাতিতের মুখে হাসি ফোটানোই কবির বিদ্রোহের চরম সার্থকতা। নিপীড়িতের ক্রন্দন চিরতরে না থামা পর্যন্ত কবি বিশ্রাম নেবেন না—এ বক্তব্য মানবমুক্তির প্রতি তাঁর অটল দায়বদ্ধতারই প্রমাণ।
একইভাবে, উদ্দীপকের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যও সমাজের জঞ্জাল, শোষণ ও অবিচার নিজের শ্রম ও প্রাণ দিয়ে দূর করে যেতে চান। তাঁর প্রতিজ্ঞার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আগামী দিনের মানুষ তথা নবজাতক। একটি শিশুর জন্য পৃথিবী তখনই বাসযোগ্য হবে, যখন তা অন্যায়, কুসংস্কার ও বৈষম্যমুক্ত হবে। কবি নবজাতকের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে মূলত সমগ্র মানবজাতিকে মুক্ত ও সুরক্ষিত করার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।
সুতরাং, দেখা যায় নজরুল ও সুকান্ত—উভয় কবিই প্রচলিত সমাজের জরাজীর্ণতা, অবিচার ও শোষণকে উৎখাত করতে চেয়েছেন মানুষের সার্বিক মুক্তির জন্য। ধ্বংসের ভেতর দিয়ে উভয়েই চেয়েছেন নতুন মানবিক সমাজের সৃষ্টি। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, মানব মুক্তির আকাঙ্ক্ষাই উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলসুর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও