পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ভারতীয় উপমহাদেশে 'ক' একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। হাজার মাইল দূরত্বে অবস্থিত এর একটি প্রদেশ 'খ'। স্বাধীনতা লাভের পর কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিন নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করে নানা অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করতে থাকে। জনগণ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিলে সরকার নির্বাচনি ধারা সংশোধন করে প্রাদেশিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। প্রদেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে।
- ক)(1)
জাতীয়তাবাদ কী?
- খ)(2)
অপারেশন সার্চলাইট সম্পর্কে কী জান? লেখো ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত নির্বাচনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে নির্বাচনের মিল রয়েছে তার ফলাফল ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত জোটবদ্ধ নির্বাচনের ফলাফল সেই প্রদেশের জাতীয়তাবাদ বিকাশ ও স্বাধিকার আন্দোলনে কতটুকু সহায়ক ছিল? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয়তাবাদ হলো একটি মানসিক বা আত্মিক অনুভূতি, যা একটি নির্দিষ্ট জনসমাজকে ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সূত্রে ঐক্যবদ্ধ করে অন্যদের থেকে আলাদা একটি সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালি জনগণের ওপর যে বর্বরোচিত, পরিকল্পিত ও নির্মম সামরিক গণহত্যা পরিচালনা করে, তার সামরিক সাংকেতিক নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক আন্দোলন নস্যাৎ করা, আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ও ছাত্র-বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে বাঙালি জাতিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত নির্বাচনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের মিল রয়েছে।
১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী দলগুলো একত্রিত হয়ে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'। মুসলিম লীগের মুসলিম সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে এক অভূতপূর্ব ও নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। বিপরীতে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন পায়। এই ফলাফলের মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য ও দুঃশাসনের অবসান ঘটে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত মজবুত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত জোটবদ্ধ নির্বাচনের (১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন) ফলাফল পূর্ব পাকিস্তানের (বাঙালির) জাতীয়তাবাদ বিকাশ ও স্বাধিকার আন্দোলনে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।
যুক্তফ্রন্টের এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পেছনে ছিল ঐতিহাসিক ২১ দফা কর্মসূচি, যাতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, বাকস্বাধীনতা ও কৃষকদের স্বার্থরক্ষার মতো মৌলিক দাবিগুলো স্থান পেয়েছিল। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালি জনগণ তাদের অধিকার, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে প্রথমবারের মতো ব্যালটের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ ম্যান্ডেট প্রদান করে। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় প্রমাণ করে যে ধর্মীয় রাজনীতির বদলে বাঙালিরা ধর্মনিরপেক্ষ ও স্বাধিকারমুখী চেতনাকে গ্রহণ করেছে। যদিও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন সরকারকে দ্রুত ষড়যন্ত্র করে বরখাস্ত করে, তবুও এ নির্বাচনের বিজয় বাঙালির মনে আত্মবিশ্বাস জোগায়। এটিই পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত রূপায়ণে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। সুতরাং, নির্বাচনটির ফলাফল জাতীয়তাবাদ বিকাশ ও স্বাধিকার আন্দোলনে অপরিসীম ভূমিকা রেখেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও