কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মালচিং কী?

    (1)
  2. খ)

    কুল গাছে প্রুনিং করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'ক' চিত্রটির চাষাবাদ পদ্ধতি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকের 'ক' চিত্রটির চাষাবাদের অর্থনৈতিক উপযোগিতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ এবং আগাছা দমনের জন্য কোনো কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক উপাদান (যেমন- খড়, পাতা, পলিথিন ইত্যাদি) দিয়ে মাটির উপরিভাগ ঢেকে রাখাকে মালচিং বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কুল গাছে অধিক ও মানসম্মত ফলন পাওয়ার জন্য প্রুনিং বা ডালপালা ছাঁটাই করা হয়।

    কুল সাধারণত নতুন গজানো ডালে ফুল ও ফল ধারণ করে। পুরোনো ডালে ফলন ভালো হয় না। তাই ফসল সংগ্রহের পর পুরোনো, রোগাক্রান্ত, শুকনা ও ঘন ডালপালা ছেঁটে (প্রুনিং করে) দিলে প্রচুর নতুন ও সতেজ শাখা-প্রশাখা জন্মায়। এর ফলে গাছে প্রচুর ফুল ও গুণগত মানের বড় আকারের কুলের ফলন পাওয়া যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' চিত্রে মাশরুম প্রদর্শিত হয়েছে। নিচে অয়েস্টার মাশরুম চাষের পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো:

    ১. স্পন প্যাকেট সংগ্রহ ও কর্তন: প্রস্তুতকৃত বাণিজ্যিকভাবে তৈরি মাইসেলিয়ামযুক্ত মাশরুম স্পন প্যাকেট সংগ্রহ করতে হয়। প্যাকেটের উপরিভাগের পলিথিন ব্লেড দিয়ে ডি আকৃতিতে সামান্য কেটে নিতে হয়।
    ২. ভিজানো ও পরিচর্যা: কাটা অংশের নিচে সামান্য চেঁচে নিয়ে প্যাকেটটি ৫-১০ মিনিট পরিষ্কার পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হয়। এরপর অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে ঘরের মেঝে বা তাকে সাজিয়ে রাখতে হয়।
    ৩. আর্দ্রতা ও আলো-বাতাস বজায় রাখা: মাশরুম চাষের ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং আর্দ্রতা ৭০-৮০% বজায় রাখার জন্য দিনে ২-৩ বার পানি স্প্রে করতে হয়।
    ৪. মাশরুমের অঙ্কুরোদ্গম ও বৃদ্ধি: প্যাকেট কাটার ৩-৪ দিনের মধ্যে পিনহেড বা ছোট মাশরুম দেখা যায় এবং পরবর্তী ২-৩ দিনের মধ্যেই তা পূর্ণাঙ্গ মাশরুমে পরিণত হয়।
    ৫. ফসল সংগ্রহ: মাশরুমের কিনারা বা ক্যাপগুলো যখন ওপরের দিকে হালকা বাঁকতে শুরু করে, তখন গোড়ায় হাত দিয়ে হালকা মোচড় দিয়ে তা তুলে সংগ্রহ করতে হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' চিত্রে নির্দেশিত ফসলটি হলো মাশরুম। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে মাশরুম চাষের অর্থনৈতিক উপযোগিতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:

    ১. স্বল্প পুঁজি ও লাভজনক: মাশরুম চাষ করতে বিশাল কৃষিজমির প্রয়োজন হয় না। ঘরের ভেতরে তাকে তাক বানিয়ে অল্প খরচে ও স্বল্প পুঁজিতে খুব কম সময়ে মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব, যা দ্রুত মুনাফা এনে দেয়।
    ২. বেকারত্ব দূরীকরণ ও আত্মকর্মসংস্থান: দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী এবং নারীরা স্বল্প প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঘরে বসেই মাশরুম চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারেন, যা দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
    ৩. পুষ্টি ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা: মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রয়েছে এবং চর্বি ও শর্করা কম থাকায় এটি ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য আদর্শ খাদ্য। এটি অপুষ্টি দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে।
    ৪. কৃষিবর্জ্যের সদ্ব্যবহার: খড়, কাঠের গুঁড়া বা অন্যান্য কৃষিজাত বর্জ্য ব্যবহার করে মাশরুম উৎপাদন করা যায়, ফলে পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকে এবং ফেলে দেওয়া জিনিসের অর্থনৈতিক মূল্য পাওয়া যায়।
    ৫. রপ্তানি ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা: দেশে মাশরুমের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে শুকনো ও প্রক্রিয়াজাত মাশরুম রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

    অতএব, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাশরুম চাষের উপযোগিতা অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন