জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-
A | B | C
কেঁচো, জোঁক | ঘাসফড়িং, তেলাপোকা | সাপ, সিংহ
- ক)(1)
নটোকর্ড কী?
- খ)(2)
Urochordata উপপর্বের প্রাণীদের সাগর ফোয়ারা বলা হয় কেন ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে A -তে বর্ণিত প্রাণীগুলো কোন পর্বের তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে C-তে বর্ণিত প্রাণিগুলো B-তে বর্ণিত প্রাণিগুলো থেকে উন্নত-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের ভ্রূণাবস্থায় বা আজীবন পৃষ্ঠ-মধ্যরেখা বরাবর দণ্ডাকার, স্থিতিস্থাপক ও অখণ্ডায়িত যে নিরেট অঙ্গাণু দেখা যায়, তাকে নটোকর্ড বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
Urochordata উপপর্বের প্রাণীদের দেহের বাইরে টিউনিসিন নামক সেলুলোজের মতো পদার্থে গঠিত কিউটিকল জাতীয় আচ্ছাদন বা টিউনিকে আবৃত থাকে। এদের দেহে দুটি নির্গম নালী বা সাইফন থাকে। হঠাৎ কোনো কারণে এরা উত্তেজিত বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে এই সাইফন দুটি দিয়ে তীব্র বেগে ফোয়ারার মতো পানি ছিটকে বের করে দেয়। এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই ইউরোকর্ডাটা উপপর্বের প্রাণীদের সাধারণত 'সাগর ফোয়ারা' বা 'Sea Squirt' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' গ্রুপের প্রাণীগুলো (কেঁচো, জোঁক) অ্যানিলিডা (Annelida) পর্বের অন্তর্ভুক্ত।
এ পর্বের প্রধান শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. দেহ সমখণ্ডকযুক্ত (Metameric): এদের দেহ নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং প্রকৃত সমখণ্ডকে বিভক্ত। প্রতিটি খণ্ডকে আংটির মতো দেখতে ফাঁক থাকে।
২. কিউটিকল ও সিলিয়া: দেহ নরম এবং পাতলা কিউটিকলে আবৃত থাকে।
৩. চলন অঙ্গ: চলনের জন্য এদের কিউটিনযুক্ত কাইটিনময় সিটি (Setae) অথবা প্যারাপোডিয়া (Parapodia) থাকে। জোঁকে চলনের জন্য চোষক (sucker) থাকে।
৪. সংবহন ও রেচনতন্ত্র: এদের রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির এবং রেচন অঙ্গের নাম নেফ্রিডিয়া (Nephridia), যা প্রতি খণ্ডকে নির্দিষ্টভাবে সাজানো থাকে।
৫. সিলোম: এদের প্রকৃত সিলোম বা দেহগহ্বর উপস্থিত, যা পেরিটোনিয়াম পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে।অতএব, বৈশিষ্ট্যগুলোর আলোকে স্পষ্ট যে কেঁচো ও জোঁক অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণী।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'B'-তে বর্ণিত প্রাণীগুলো (ঘাসফড়িং, তেলাপোকা) আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) পর্বের এবং 'C'-তে বর্ণিত প্রাণীগুলো (সাপ, সিংহ) কর্ডাটা পর্বের মেরুদণ্ডী (Vertebrata) প্রাণী। গঠন ও শারীরবৃত্তীয় দিক থেকে C-এর প্রাণীরা B-এর প্রাণীদের তুলনায় অধিক উন্নত।
উন্নয়নের তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
১. অন্তঃকঙ্কাল ও নটোকর্ড: B-এর প্রাণীদের দেহ বহিকঙ্কাল বা কাইটিনযুক্ত খোলস দ্বারা আবৃত, কোনো প্রকৃত অন্তঃকঙ্কাল নেই। পক্ষান্তরে, C-এর প্রাণীদের ভ্রূণীয় নটোকর্ড পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় অস্থিময় বা তরুণাস্থিময় মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হয় এবং জটিল অন্তঃকঙ্কাল উপস্থিত।
২. স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্ক: B-এর ক্ষেত্রে অঙ্কীয় স্নায়ুরজ্জু ও সরল গ্যাংগলিয়া থাকে। কিন্তু C-এর প্রাণীদের পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু উন্নত মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডে রূপান্তরিত, যা উচ্চতর বুদ্ধিমত্তা ও জটিল প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সক্ষম।
৩. রক্তসংবহন তন্ত্র: B-এর রক্তসংবহন তন্ত্র উন্মুক্ত প্রকৃতির, হিমোলিম্ফ হিমোসিলের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় এবং গ্যাস পরিবহনে সরাসরি অংশ নেয় না। অন্যদিকে C-এর প্রাণীদের রক্তসংবহন তন্ত্র সম্পূর্ণ বদ্ধ প্রকৃতির, এদের রক্তে হিমোগ্লোবিন থাকে এবং উন্নত হৃদপিণ্ডের মাধ্যমে দ্রুত অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত হয়।
৪. শ্বসনতন্ত্র: B-এর শ্বসন ট্র্যাকিয়াল তন্ত্রের মাধ্যমে ঘটে। কিন্তু C-এর ক্ষেত্রে উন্নত ফুসফুস বর্তমান, যা উচ্চ বিপাকীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
৫. রেচন ও পরিপাক: B-তে ম্যালপিজিয়ান নালিকা বিদ্যমান হলেও C-তে উন্নত বৃক্ক (Kidney) ও অত্যন্ত জটিল পরিপাক গ্রন্থিসমূহ উপস্থিত।অতএব, শারীরিক সংগঠন, স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ, অন্তঃকঙ্কালের উপস্থিতি এবং উন্নত সংবহনতন্ত্রের কারণে B-এর প্রাণীদের তুলনায় C-এর প্রাণীরা বহুগুণে উন্নত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও