সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
গ্রীষ্মের ছুটিতে কল্পনা চাকমা তার বান্ধবী সোমা আপাংদের ময়মনসিংহের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে অবাক হয়ে দেখলো যে, পরিবারের সবকিছুই সোমা আপাং-এর মায়ের ইচ্ছায় হচ্ছে। আপাংদের সমাজে বিয়েতে পণ বা যৌতুক দেওয়া হয় না।
- ক)(1)
রাখাইনরা কোন ধর্মাবলম্বী?
- খ)(2)
সাঁওতালদের জীবিকার প্রধান উপায় কৃষি।"- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সোমা আপাং কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কল্পনা চাকমা ও সোমা আপাংদের সমাজকাঠামো ভিন্ন ধরনের।" তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাখাইনরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাঁওতালরা প্রাচীনকাল থেকেই কৃষিকাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তারা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং প্রধানত কৃষিকাজের মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করে।
সাঁওতাল পুরুষ ও নারী উভয়েই কৃষিকাজে সমানভাবে অংশ নেয়। তারা আধুনিক ও সনাতন উভয় পদ্ধতিতে ধান, সরিষা, পাট, শাকসবজি ইত্যাদি চাষ করে। অনেকে অন্যের জমিতে দিনমজুর বা বর্গাচাষি হিসেবে কাজ করে। এছাড়া বনজ সম্পদ সংগ্রহ তাদের সহায়ক পেশা হলেও মূলত কৃষিকাজই তাদের অর্থনৈতিক জীবনের মূল চালিকাশক্তি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সোমা আপাং গারো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশে গারো নৃগোষ্ঠীর বসবাস প্রধানত বৃহত্তর ময়মনসিংহ (ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুর) ও সিলেট অঞ্চলে। গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। উদ্দীপকে সোমা আপাং-এর বাড়ি ময়মনসিংহে অবস্থিত এবং তাদের পরিবারের সবকিছুই মায়ের ইচ্ছায় পরিচালিত হয়, যা মাতৃতান্ত্রিক গারো পরিবারের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
গারো সমাজে মায়ের সূত্র ধরেই সন্তানের বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়। এছাড়াও তাদের প্রথা অনুযায়ী বিয়েতে যৌতুক বা পণ প্রথার প্রচলন নেই, যা উদ্দীপকের তথ্যের সাথে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং, ভৌগোলিক অবস্থান ও পারিবারিক কাঠামোর বৈশিষ্ট্যের আলোকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, সোমা আপাং গারো নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"কল্পনা চাকমা ও সোমা আপাংদের সমাজকাঠামো ভিন্ন ধরনের।"—উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। নিচে উত্তরের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলো:
উদ্দীপকের কল্পনা চাকমা হলেন চাকমা নৃগোষ্ঠীর এবং সোমা আপাং গারো নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। সমাজকাঠামো ও পরিবার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এ দুটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে:
১. পরিবার ব্যবস্থা: চাকমাদের পরিবার পিতৃতান্ত্রিক বা পিতৃপ্রধান। পরিবারে পিতাই সর্বেসর্বা এবং পিতার পরিচয়েই সন্তানের পরিচয় নির্ধারিত হয়। পক্ষান্তরে, গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক বা মাতৃপ্রধান। উদ্দীপকে দেখা যায় সোমা আপাং-এর পরিবারে মায়ের কর্তৃত্ব বজায় রয়েছে এবং তাদের সমাজে মাতাই পরিবারের প্রধান।
২. উত্তরাধিকার নীতি: চাকমা সমাজে সম্পত্তির উত্তরাধিকার পিতৃতান্ত্রিক ধারায় বর্তায়, অর্থাৎ পিতার সম্পত্তি পুত্রসন্তানরা পেয়ে থাকে; সাধারণত কন্যারা কোনো সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না। কিন্তু গারো সমাজে সম্পত্তি বংশপরম্পরায় মাতৃসূত্র ধরে নারীদের মাধ্যমেই হস্তান্তরিত হয় এবং পরিবারের ছোট মেয়ে (নকনা) সাধারণত মূল সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণী হয়।
৩. বংশমর্যাদা ও বাসস্থান: চাকমাদের ক্ষেত্রে সন্তানরা পিতার বংশনাম গ্রহণ করে এবং বিয়ের পর কনে বরের বাড়িতে যায় (পিতৃবাস)। অপরদিকে গারো সমাজে সন্তানরা মায়ের গোত্রনাম গ্রহণ করে এবং বিয়ের পর বর কনের বাড়িতে গিয়ে বসবাস করে (মাতৃবাস)।
অতএব, পারিবারিক কর্তৃত্ব, উত্তরাধিকার প্রথা ও সামাজিক রীতিনীতির দিক থেকে চাকমা ও গারোদের সমাজকাঠামো সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও