ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব সাজ্জাদ একটি জীবন বিমা চুক্তি করেছেন। চুক্তিতে তিনি তার স্ত্রীকে স্ত্রী মনোনয়ন দেন। চুক্তির শর্তমতে সাজ্জাদকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত নির্দিষ্ট হারে প্রিমিয়াম দিতে হবে। ৫ বছর পর-নিয়মিত কিস্তি প্রদানের পর সাজ্জাদ মারা যান। মৃত্যুর পর তার স্ত্রী এবং সাবালক ছেলে সুমন পৃথকভাবে বিমা কোম্পানির নিকট বিমা দাবি করে। বিমা কোম্পানি সুমনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে এবং স্ত্রীকে বিমা দাবি পরিশোধ করে দেয়।

  1. ক)

    পুনর্বিমা কী?

    (1)
  2. খ)

    জীবন বিমায় চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাস সম্পর্ক কেন প্রয়োজন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বিমাটি কোন ধরনের জীবন বিমা? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বিমা-কোম্পানি কর্তৃক সুমনের বিমাদাবি প্রত্যাখ্যানের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি বিমা কোম্পানি যখন তার গৃহীত ঝুঁকির একটি অংশ অন্য কোনো বিমা কোম্পানির কাছে পুনরায় বিমা করে ঝুঁকি হ্রাস করে, তখন তাকে পুনর্বিমা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জীবন বিমায় চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের সম্পর্ক প্রয়োজন, কারণ এটি মানুষের জীবনের ঝুঁকির সাথে জড়িত যা সম্পর্কে বিমাগ্রহীতা নিজেই সবচেয়ে ভালো জানেন।

    বিমাচুক্তির ক্ষেত্রে বিমাগ্রহীতাকে তার প্রকৃত বয়স, পেশাগত ঝুঁকি, পারিবারিক স্বাস্থ্য ইতিহাস এবং বিদ্যমান রোগব্যাধি সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে হয়। কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা বা অসত্য তথ্য প্রদান করা হলে বিমাকারী সঠিক ঝুঁকির পরিমাপ ও প্রিমিয়ামের হার নির্ধারণ করতে পারে না। তাই কোনো প্রকার প্রতারণা রোধ করতে এবং চুক্তির বৈধতা বজায় রাখতে জীবন বিমায় চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাস অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বিমাটি একটি 'আজীবন জীবন বিমা'।

    যে জীবন বিমাপত্রে বিমাগ্রহীতাকে তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম দিয়ে যেতে হয় এবং বিমাকৃত অর্থ বিমাগ্রহীতার জীবিতাবস্থায় পাওয়া যায় না, বরং তার মৃত্যুর পর মনোনীত ব্যক্তি বা বৈধ উত্তরাধিকারীকে পরিশোধ করা হয়, তাকে আজীবন জীবন বিমা বলে।

    উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, জনাব সাজ্জাদ যে জীবন বিমা চুক্তি করেছিলেন, তার শর্ত অনুযায়ী তাকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত নির্দিষ্ট হারে প্রিমিয়াম দিতে হবে। তিনি ৫ বছর প্রিমিয়াম দেওয়ার পর মারা যান এবং এরপরই কেবল বিমা দাবি উত্থাপিত হয়। যেহেতু বিমার মেয়াদ বিমাগ্রহীতার সমগ্র জীবনব্যাপী ছিল এবং মৃত্যুর পরই কেবল দাবি পরিশোধযোগ্য হয়েছে, তাই এটি আজীবন জীবন বিমা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিমা কোম্পানি কর্তৃক সুমনের বিমাদাবি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তটি আইনগতভাবে সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

    বিমা আইনে 'মনোনয়ন' (Nomination) হলো বিমাগ্রহীতা কর্তৃক এমন একজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করা, যিনি বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর বিমাকৃত অর্থ গ্রহণ করার বৈধ অধিকার লাভ করবেন। বিমা আইনের বিধান অনুযায়ী, বিমাপত্রে যদি কোনো মনোনীত ব্যক্তি (Nominee) জীবিত ও কার্যকর থাকেন, তবে বিমা কোম্পানি কেবল সেই মনোনীত ব্যক্তিকেই বিমার সমুদয় অর্থ পরিশোধ করতে আইনত বাধ্য। মনোনীত ব্যক্তি বেঁচে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো উত্তরাধিকারী—তা সে সাবালক সন্তানই হোক না কেন—বিমা কোম্পানির নিকট সরাসরি বিমা দাবি করতে পারেন না।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব সাজ্জাদ বিমা চুক্তিতে তার স্ত্রীকে এককভাবে নমিনি বা মনোনয়ন দিয়ে গেছেন। সাজ্জাদের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জীবিত ছিলেন এবং তিনিও বিমা দাবি উত্থাপন করেন। আইন অনুযায়ী বিমা কোম্পানি বিমার অর্থ সাজ্জাদের মনোনীত স্ত্রীকেই প্রদান করতে বাধ্য। তাই সাবালক ছেলে সুমনের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানি প্রচলিত বিমা আইনের সঠিক প্রয়োগ করেছে।

    অতএব, বিমা কোম্পানি কর্তৃক সুমনের বিমা দাবি প্রত্যাখ্যান এবং মনোনীত স্ত্রীকে বিমার অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণরূপে আইনসম্মত ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন