যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
বৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণ কী?
- খ)(2)
বৃহত্তম বা পরতম জাতির শ্রেণিকরণ করা যায় না কেন?
- গ)(3)
ছক-১ এ কোন ধরনের শ্রেণিকরণ নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ছক-১ এবং হক-২ এর মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বস্তু বা ঘটনাসমূহের মৌলিক ও অপরিহার্য সাদৃশ্যের ভিত্তিতে জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো সার্বিক বা বৃহত্তর শ্রেণিকে ক্ষুদ্রতর শ্রেণিসমূহে বিভক্ত করাকে বৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৃহত্তম বা পরতম জাতিকে (Summum Genus) আর কোনো উচ্চতর জাতির অধীনে এনে শ্রেণিকরণ করা যায় না। কারণ শ্রেণিকরণের নিয়ম অনুযায়ী কোনো জাতিকে তার চেয়ে বড় বা উচ্চতর কোনো জাতির অন্তর্ভুক্ত করে সাজাতে হয়। যেহেতু পরতম জাতির চেয়ে উচ্চতর বা বৃহত্তর আর কোনো জাতি বা শ্রেণি নেই, তাই এর শ্রেণিকরণ সম্ভব নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক-১ এ 'বৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণ' নির্দেশ করা হয়েছে।
যে শ্রেণিকরণে বস্তু বা বিষয়ের প্রাকৃতিক, অপরিহার্য ও মৌলিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তাদের বিন্যস্ত করা হয়, তাকে বৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণ বা প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বলে। এর মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃতিতে বিদ্যমান বাস্তব শৃঙ্খলার নিয়ম অনুযায়ী জ্ঞান লাভ করা।
ছক-১ এ প্রাণিজগৎকে মেরুদণ্ডের উপস্থিতির মতো একটি মৌলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে 'মেরুদণ্ডী প্রাণী' (যেমন: হাতি, হরিণ, বিড়াল) এবং 'অমেরুদণ্ডী প্রাণী' (যেমন: চিংড়ি, কেঁচো, জোঁক)—এ দুই ভাগে বিন্যস্ত করা হয়েছে। যেহেতু এই বিভাজনটি মানুষের কৃত্রিম বা পরিবর্তনশীল সুবিধার ওপর নির্ভর করে নয়, বরং প্রাণীদের অন্তর্গত স্থায়ী ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাই এটি বৈজ্ঞানিক বা প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক-১ এ বৈজ্ঞানিক (প্রাকৃতিক) শ্রেণিকরণ এবং ছক-২ এ অবৈজ্ঞানিক বা ব্যবহারিক (কৃত্রিম) শ্রেণিকরণ নির্দেশিত হয়েছে। নিচে এদের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভিত্তিগত পার্থক্য: ছক-১ এ বস্তুসমূহের অভ্যন্তরীণ, মৌলিক ও স্থায়ী সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্যের (যেমন: মেরুদণ্ডের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি) ওপর ভিত্তি করে শ্রেণিকরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ছক-২ এ মানুষের সুবিধা অনুযায়ী বাহ্যিক বা আকস্মিক গুণের ভিত্তিতে (যেমন: বুক শেলফে বিষয়ভিত্তিক বই সাজানো, আলমারিতে ব্যবহারের ভিত্তিতে পোশাক সাজানো) কৃত্রিম উপায়ে শ্রেণিকরণ করা হয়েছে।
২. উদ্দেশ্যগত পার্থক্য: বৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান অর্জন করা এবং প্রকৃতির অন্তর্নিহিত শৃঙ্খলা উদঘাটন করা। কিন্তু ব্যবহারিক বা কৃত্রিম শ্রেণিকরণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দৈনন্দিন জীবনের কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য বা ব্যবহারের সুবিধা সাধন করা।
৩. স্থায়ীত্ব: বৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণ সার্বজনীন ও প্রায় স্থায়ী; কারণ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সহজে পরিবর্তিত হয় না। পক্ষান্তরে, কৃত্রিম শ্রেণিকরণ পরিবর্তনশীল এবং ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
৪. প্রকৃতির অনুসরণ: ছক-১ এর শ্রেণিকরণ প্রকৃতির নিয়মকে অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। অপরদিকে, ছক-২ এর শ্রেণিকরণ মানুষ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করে।
সুতরাং দেখা যায়, ছক-১ হলো একটি বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক শ্রেণিকরণ এবং ছক-২ হলো ব্যবহারিক বা লৌকিক শ্রেণিকরণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও