‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার নেতৃত্ব দেন কে?

    (1)
  2. খ)

    'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতি বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে (?) চিহ্নিত স্থানে ব্রিটিশ ভারতের কোন আইনটি প্রতিফলিতহয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কতটুকু কার্যকর হয়েছিল? মূল্যায়ন করো

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মন্ত্রিমিশন বা ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার নেতৃত্ব দেন ব্রিটিশ ভারত সচিব লর্ড পেথিক লরেন্স (Lord Pethick-Lawrence)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule) নীতি বলতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের অনুসৃত একটি কৌশলকে বোঝায়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় জনগণের মধ্যে ধর্মীয়, জাতিগত ও শ্রেণিগত বিভেদ সৃষ্টি করে তাঁদের ঐক্যকে দুর্বল করে দেওয়া।
    ব্রিটিশরা ভারতের হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্বকে উসকে দিত, যাতে সর্বভারতীয় পর্যায়ে কোনো ঐক্যবদ্ধ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি নাড়িয়ে দিতে না পারে। এই বিভাজনের রাজনীতির মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন উপমহাদেশে তাদের শাসন টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে (?) চিহ্নিত স্থানে ব্রিটিশ ভারতের '১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন' (Government of India Act 1935) প্রতিফলিত হয়েছে।

    উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
    ১. যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন,
    ২. কেন্দ্রে দ্বৈত শাসন, এবং
    ৩. নতুন প্রদেশ সৃষ্টি।

    ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতে ব্রিটিশ শাসিত প্রদেশ ও দেশীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র (All-India Federation) গঠনের প্রস্তাব করা হয়। প্রদেশগুলোতে ১৯১৯ সালের আইনের দ্বৈত শাসন বিলুপ্ত করে কেন্দ্রে দ্বৈত শাসন (Dyarchy at the Centre) প্রবর্তন করা হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোকে 'সংরক্ষিত' ও 'হস্তান্তরিত'—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এছাড়া এই আইনের দ্বারা বার্মাকে ভারত থেকে আলাদা করা হয় এবং সিন্ধু ও উড়িষ্যা নামে দুটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়। উদ্দীপকের নির্দেশকগুলো পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, (?) চিহ্নিত স্থানে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে নির্দেশ করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন (Provincial Autonomy) প্রবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর ও অর্থবহ ছিল না।

    ১৯৩৫ সালের আইনে প্রদেশের দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রাদেশিক বিষয়গুলোর শাসনভার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গঠিত মন্ত্রিসভার হাতে অর্পণ করা হয়। তাত্ত্বিকভাবে প্রদেশগুলোকে স্বায়ত্তশাসন এবং আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর প্রদেশগুলোতে দায়িত্বশীল সরকার গঠিত হয়েছিল, যা ভারতীয় নেতৃবৃন্দের সরকার পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করে।

    তবে বাস্তব ক্ষেত্রে এই প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ছিল অত্যন্ত সীমিত ও বিভ্রান্তিকর। কারণ:
    ১. গভর্নরদের একচ্ছত্র ক্ষমতা: প্রদেশের প্রকৃত ক্ষমতা নির্বাচিত মন্ত্রিসভার পরিবর্তে ব্রিটিশ অনুগত গভর্নরের হাতে ন্যস্ত ছিল। গভর্নরের ছিল বিশেষ দায়িত্ব, স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary powers) এবং নিজস্ব বিবেচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার।
    ২. আইন ও মন্ত্রিসভা বাতিলের ক্ষমতা: গভর্নর চাইলে মন্ত্রিসভার পরামর্শ অগ্রাহ্য করতে পারতেন এবং যে কোনো সময় প্রাদেশিক আইনসভা ভেঙে দেওয়া বা মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখতেন (ধারা ৯৩ অনুযায়ী শাসনভার গ্রহণ করতে পারতেন)।
    ৩. অর্থনৈতিক পরাধীনতা: প্রদেশের আয়ের উৎস সীমিত ছিল এবং অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে গভর্নরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক ছিল।

    সুতরাং বলা যায়, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কাগজের কলমে প্রতিষ্ঠিত হলেও গভর্নরের ব্যাপক ও স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতার কারণে তা কার্যত ব্যর্থ ও সীমাবদ্ধ ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন