অর্থনীতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. আজাদ একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তার শিল্পী প্রায় ৮০ শতাংশই শ্রমিক নারী। তার শিল্পের উৎপাদন আমাদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে কম বেশি অবদান রাখছে। তবে শিল্পটির সমস্যাগুলো হল কাঁচামাল, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা, শ্রমিক অসন্তোষ, ব্র্যান্ডিং সমস্যা ইত্যাদি।
- ক)(1)
PPP কি?
- খ)(2)
অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পায়ন প্রয়োজনীয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আজাদের শিল্প এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কি ধরনের ভূমিকা পালন করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যার সমাধানে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
PPP-এর পূর্ণরূপ হলো Public-Private Partnership, যার অর্থ সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব। দেশের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতিকে PPP বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পায়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কারণ এটি একটি দেশের উৎপাদনশীলতা ও জাতীয় আয় দ্রুত বৃদ্ধি করে। শিল্পায়নের মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, যা বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া শিল্পজাত পণ্য রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায় এবং আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পায়। কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নেও শিল্পায়নের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত আজাদের শিল্পটি মূলত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে (RMG) নির্দেশ করে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বহুমুখী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রথমত, এই শিল্পটি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। ফলে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, উদ্দীপকে বলা হয়েছে শিল্পটির উৎপাদন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখছে। বর্তমান বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্প দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ জোগান দেয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে। তৃতীয়ত, এটি জাতীয় আয় (GDP) বৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখছে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবহন, ব্যাংকিং ও প্যাকেজিং খাতের বিকাশ ঘটিয়ে সার্বিক অর্থনীতিকে গতিশীল করছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত কাঁচামাল ও দক্ষ শ্রমিকের অভাব, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং ব্র্যান্ডিং সমস্যার সমাধানে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ: কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশের অভ্যন্তরে সুতা, তুলা ও কাপড়ের টেক্সটাইল বা ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প গড়ে তুলতে হবে।
২. প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি: শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ভোকেশনাল ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৩. নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ: কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা শিল্পাঞ্চলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সংযোগ দিতে হবে।
৪. সুষ্ঠু শ্রম ব্যবস্থাপনা: শ্রমিক অসন্তোষ দূরীকরণে উপযুক্ত ও সময়োপযোগী মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক ও ট্রেড ইউনিয়নের গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখতে হবে।
৫. নিজস্ব ব্র্যান্ডিং ও বাজার সম্প্রসারণ: শুধু সাব-কন্ট্রাক্টিং না করে নিজস্ব আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে এবং নতুন নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান করতে হবে।এসব পদক্ষেপ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করলে শিল্পটির বিদ্যমান সমস্যা কাটিয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও