কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
আইভি বাবার সাথে একটি ফার্মে গেল। সেখানে চড়ুই জাতীয় একটি পাখি দেখল যা পোল্ট্রির অন্তর্ভুক্ত। আমাদের দেশে। বর্তমানে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। কারণ এর মাংস সুস্বাদু, অল্প জায়গায় পালন করা যায়। এ ধরনের পাখি পালনের জন্যপ্লাস্টিকের খাঁচা উত্তম। পাখিটি আইডির খুব পছন্দ হলো। সে এধরনের পাখি বাড়িতে পালন করতে বাবাকে অনুরোধ করল।
- ক)(1)
স্কোয়াব কী?
- খ)(2)
পিজিয়ন মিল্ক বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাখিটির নাম কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আইভির পছন্দের পাখিটি পালন করার সম্ভাবনা উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবুতরের ৪ সপ্তাহ বা ২৮ দিন বয়সের বাচ্চাকে স্কোয়াব (Squab) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পর কবুতরের ক্রপ (Crop) বা গলবিলীয় থলির অভ্যন্তরীণ প্রাচীরের কোষগুলো ভেঙে এক ধরনের তরল দুধের মতো পুষ্টিকর রস নিঃসৃত হয়, তাকে পিজিয়ন মিল্ক (Pigeon milk) বলে। পুরুষ ও স্ত্রী উভয় কবুতরের শরীর থেকেই এই রস নিঃসৃত হয় এবং তারা তা ঠোঁটে করে ছোট বাচ্চাকে খাওয়ায়। এতে প্রচুর প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে যা বাচ্চার দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাখিটি হলো 'কোয়েল'।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে পাখিটি চড়ুই জাতীয় যা পোল্ট্রির অন্তর্ভুক্ত, যার মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু, খুব অল্প জায়গায় খাঁচায় পালন করা যায় এবং বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হচ্ছে। কোয়েল হলো অত্যন্ত ছোট আকারের গ্যালিফর্মিস বর্গের পোল্ট্রি পাখি যার শারীরিক গঠন চড়ুইয়ের চেয়ে কিছুটা বড় কিন্তু অন্যান্য পোল্ট্রির তুলনায় ছোট। বাংলাদেশে বর্তমানে লেয়ার ও ব্রয়লার জাতের জাপানি কোয়েল বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপকভাবে খাঁচায় বা লিটার পদ্ধতিতে পালন করা হচ্ছে। কোয়েলের মাংস ও ডিম পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি বাজারে বেশ জনপ্রিয়। সুতরাং, উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্যগুলো নিশ্চিতভাবেই কোয়েল পাখির সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইভির পছন্দের পাখিটি অর্থাৎ কোয়েল পালন করার অপার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অর্থনৈতিক ও পারিবারিক উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত লাভজনক।
উদ্দীপকের আলোকে কোয়েল পালনের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কারণসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অল্প জায়গা ও পুঁজি: কোয়েল আকারে ছোট হওয়ায় খুব অল্প জায়গায়, এমনকি বাড়ির বারান্দা বা ছাদে প্লাস্টিকের খাঁচা ব্যবহার করে অল্প পুঁজিতেই পালন করা সম্ভব।
২. দ্রুত বর্ধনশীল ও প্রজননক্ষম: কোয়েল খুব দ্রুত বাড়ে। এরা মাত্র ৬ থেকে ৭ সপ্তাহের মধ্যেই ডিম দেওয়া শুরু করে এবং মাংসের জন্য উপযুক্ত জাতগুলো ৫-৬ সপ্তাহেই বাজারজাত করা যায়।
৩. পুষ্টিকর খাদ্য ও চাহিদা: কোয়েলের মাংস ও ডিম অত্যন্ত সুস্বাদু এবং এতে কোলেস্টেরল কম কিন্তু প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ বেশি থাকায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
৪. রোগবালাই কম: দেশীয় হাঁস-মুরগির তুলনায় কোয়েলের রোগবালাই অনেক কম হয়, ফলে এদের পালনে ঝুঁকি কম এবং চিকিৎসা খরচও নগণ্য।
৫. সহজ ব্যবস্থাপনা: বাড়ির নারী, শিক্ষার্থী বা বেকার যুবকেরা পড়াশোনা বা কাজের পাশাপাশি খুব সহজেই এটি পরিচর্যা করতে পারেন।অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত সহজ লালন-পালন পদ্ধতি এবং বাণিজ্যিক সুবিধার কারণে আইভির কোয়েল পালনের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও লাভজনক একটি উদ্যোগ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও