সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রাজু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়টি অধ্যয়ন করছে তা ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। উক্ত বিষয়টির বিকাশে একজন প্রথিতযশা চিন্তাবিদের অবদান অনস্বীকার্য। যাকে বাংলাদেশে ওই বিষয়ের জনক বলা হয়।
- ক)(1)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
- খ)(2)
পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
রাজুর অধ্যয়নের বিষয়টির বিকাশধারা বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে যে চিন্তাবিদের কথা বলা হয়েছে তার অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য।
কারণ সমাজবিজ্ঞান সমাজের কাঠামো, মানুষের আচরণ, সামাজিক মূল্যবোধ, চাহিদা এবং বিদ্যমান সমস্যাসমূহ সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রদান করে। সমাজের বাস্তব অবস্থা এবং জনমানুষের মনস্তত্ত্ব না জেনে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করলে তা ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সমাজতাত্ত্বিক জ্ঞান ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের প্রকৃত চাহিদা শনাক্ত করা যায় এবং একটি কার্যকর, জনকল্যাণমুখী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাজুর অধ্যয়নের বিষয়টি হলো 'সমাজবিজ্ঞান' (Sociology)। বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা নিচে আলোচনা করা হলো:
বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সমাজবিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে। এর পূর্বে বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ের আওতায় সমাজতাত্ত্বিক চিন্তাধারা আলোচিত হলেও স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে সমাজবিজ্ঞান পাঠের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ১৯৫৬ সালে ইউনেস্কোর (UNESCO) সহায়তায় ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক পিয়েরে বেসায়নি (Pierre Bessaignet) বাংলাদেশে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র সমাজবিজ্ঞান বিভাগ খোলার সুপারিশ করেন। তাঁর উদ্যোগ এবং তৎকালীন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. এ কে নাজমুল করিমের নেতৃত্বে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়।
পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ খোলা হয়। স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে সমাজবিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণ, গবেষণা ও সমাজ উন্নয়নে সমাজবিজ্ঞান একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যা হিসেবে বিকশিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত চিন্তাবিদ হলেন অধ্যাপক ড. এ কে নাজমুল করিম, যাঁকে 'বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের জনক' বলা হয়। বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
ড. এ কে নাজমুল করিম ছিলেন একাধারে একজন প্রাজ্ঞ সমাজবিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষক। তাঁর একক ও নিরলস প্রচেষ্টায় ইউনেস্কোর সহায়তায় ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনিই ছিলেন এই বিভাগের প্রথম বাঙালি বিভাগীয় প্রধান। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভিত্তি স্থাপনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক পাঠক্রম রচনা ও বিষয়টিকে জনপ্রিয় করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
তত্ত্ব ও গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অসামান্য। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Changing Society in India and Pakistan' (১৯৫৬) এবং পরবর্তীতে বাংলা সংস্করণ 'ভারতের ও পাকিস্তানের সমাজ' এবং 'The Dynamics of Bangladesh Society' (১৯৮০) তৎকালীন পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো, শ্রেণি রূপান্তর এবং মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ বিশ্লেষণে ক্লাসিক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। তিনি বাংলাদেশের বাস্তবতার নিরিখে সমাজকে বিশ্লেষণ করার বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, ড. নাজমুল করিম কেবল প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাজবিজ্ঞানকে প্রতিষ্ঠিত করেননি, বরং দেশীয় প্রেক্ষাপটে সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার দ্বার উন্মোচন করেছিলেন। তাই বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও