সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ছক-ক | ছক-খ
১. খ্রিষ্টপূর্ব ১৯০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ অব্দ,২. ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার৩. স্থায়ী বসতি নির্মাণ৪. লিখন পদ্ধতির উন্নতি | ১. খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ অব্দ২. কৃষি কাজের সূচনা৩. চাকার আবিষ্কার৪. খাদ্য উৎপাদন অর্থনীতির প্রবর্তন
- ক)(1)
পিকিং মানব কোন যুগের অধিবাসী?
- খ)(2)
প্রত্নতত্ত্বের উৎস হিসেবে স্মৃতিফলকের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
ছক-ক কোন প্রত্নতাত্ত্বিক যুগকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ছক-খ সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখেছে তুমি কি একমত? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পিকিং মানব প্রাচীন প্রস্তর যুগের (Paleolithic Age) অধিবাসী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্মৃতিফলক হলো প্রাচীনকালে রাজা-বাদশাহ বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব কর্তৃক পাথর, ধাতু বা স্তম্ভের গায়ে উৎকীর্ণ বিবরণ, যা প্রত্নতত্ত্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
স্মৃতিফলকে তৎকালীন সমকালীন ঐতিহাসিক ঘটনা, রাজার রাজ্যজয়, রাজবংশের তালিকা, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিবরণ খোদাই করা থাকত। কালক্রমে অন্যান্য উপাদান নষ্ট হলেও পাথুরে বা ধাতব স্মৃতিফলক দীর্ঘকাল টিকে থাকে। প্রত্নতাত্ত্বিকগণ এসব ফলকের পাঠোদ্ধারের মাধ্যমে কোনো অনুমান ছাড়াই প্রাচীন সমাজের সময়কাল, ভাষা, সাহিত্য, শিল্পকলা এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়ে থাকেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক-ক প্রত্নতাত্ত্বিক 'লৌহ যুগ'-কে (Iron Age) নির্দেশ করে।
লৌহ যুগ হলো প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক যুগের সর্বশেষ পর্যায়। ছক-ক তে উল্লেখিত সময়সীমা (খ্রিষ্টপূর্ব ১৯০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ অব্দ বা কোনো কোনো অঞ্চলে খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ অব্দের কাছাকাছি থেকে শুরু) এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ মূলত লৌহ যুগের প্রতিচ্ছবি। এ যুগে লোহার ব্যাপক ব্যবহারের ফলে কৃষি ও গৃহস্থালির ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নতি ঘটে। মানুষ শক্তিশালী লোহার অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি তৈরি করতে শেখে, যা বনজঙ্গল পরিষ্কার করে ব্যাপক আবাদি জমি ও স্থায়ী জনপদ তৈরিতে সাহায্য করে।
এছাড়াও উন্নত হাতিয়ার তৈরির কারণে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং দেশে-বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের অভাবনীয় প্রসার ঘটে। স্থায়ী বসতিগুলো ধীরে ধীরে নগর ও জনপদে রূপ নেয় এবং প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনে লিখন পদ্ধতিরও অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়। সুতরাং, ছক-ক এর বৈশিষ্ট্যসমূহ লৌহ যুগকেই স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক-খ মূলত 'নব্যপ্রস্তর যুগ' বা 'নব্যোপলীয় যুগ' (Neolithic Age)-কে নির্দেশ করে। সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে এই যুগটি বিশেষ অবদান রেখেছে—উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
নব্যপ্রস্তর যুগের অবদানসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. খাদ্য উৎপাদন অর্থনীতির প্রবর্তন: নব্যপ্রস্তর যুগের পূর্বে মানুষ ছিল শিকারি ও খাদ্য সংগ্রাহক। এ যুগে মানুষ প্রথম খাদ্য উৎপাদনের সূচনা করে এবং কৃষি কাজের আবিষ্কার করে, যাকে প্রত্নতত্ত্ববিদ ভি. গর্ডন চাইল্ড 'নব্যপ্রস্তর বিপ্লব' (Neolithic Revolution) বলে আখ্যায়িত করেছেন। এর ফলে খাদ্যের নিশ্চয়তা তৈরি হয়।
২. চাকার আবিষ্কার: এ যুগে চাকার আবিষ্কার মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে এক যুগান্তকারী মোড় এনে দেয়। চাকার সাহায্যে পরিবহন ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটে এবং মৃৎশিল্পের বিকাশ ঘটে।
৩. স্থায়ী বসতি ও সামাজিক সংগঠন: কৃষিকাজের প্রয়োজনে মানুষ যাযাবর জীবন ত্যাগ করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। ফলে পরিবার, গোত্র ও সংঘবদ্ধ সমাজ কাঠামোর উদ্ভব ঘটে।
৪. শ্রমবিভাজন ও উদ্বৃত্ত উৎপাদন: কৃষিকাজ এবং স্থায়ী বসবাসের কারণে সমাজে শ্রমবিভাজনের সৃষ্টি হয় এবং উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদনের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপিত হয়।অতএব, নব্যপ্রস্তর যুগই শিকারনির্ভর যাযাবর মানুষকে আধুনিক সমাজ ও সভ্যতার পথ দেখিয়েছে। তাই বলা যায়, ছক-খ সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে অনন্য ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী অবদান রেখেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও