সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ঘটনা - ১: রফিক সাহেবের বয়স ৬৫ বছর। তিনি জীবনের সমস্ত আয় দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া করিয়েছেন। সন্তানরা আজ স্বাবলম্বী। কিন্তু কোন সন্তানই তার খোঁজ খবর রাখে না।
ঘটনা - ২: বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আনিস। কিছুদিন ধরে তার আচরণে উগ্রভাব লক্ষ্য করছে তার পরিবার। সে একটি বিশেষ মতবাদে প্রভাবিত হয়ে একদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়।
- ক)(1)
কোন যুগে কৃষির সূচনা হয়?
- খ)(2)
আবাসন সমস্যা কর্মজীবী নারীদের অন্যতম সমস্যা - ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
ঘটনা ১ কোন সামাজিক সমস্যাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ঘটনা ২ এর সমস্যাটির সমাধান আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নব্যপ্রস্তর যুগে (Neolithic Age) কৃষির সূচনা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বর্তমান সমাজে নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসনের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম বা মফস্বল থেকে শহরে কাজ করতে আসা নারীরা নিরাপদ মেস, হোস্টেল বা বাসা ভাড়া পেতে নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সাশ্রয়ী ভাড়ার অভাবে তাঁদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা ব্যাহত হয়। তাই আবাসন সমস্যা কর্মজীবী নারীদের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘটনা-১ বাংলাদেশের একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা 'বার্ধক্য সমস্যা' বা 'প্রবীণ সমস্যা'-কে নির্দেশ করে।
বার্ধক্য জীবনের একটি স্বাভাবিক পর্যায় হলেও আধুনিকায়ন, নগরায়ণ ও যৌথ পরিবার ভাঙার ফলে প্রবীণরা চরম নিঃসঙ্গতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, রফিক সাহেব জীবনের সব আয় দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেছেন এবং সন্তানরা স্বাবলম্বী হয়েছে। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে তারা কেউই বাবার খোঁজখবর রাখে না। আমাদের সমাজে প্রচলিত যৌথ পরিবারের ভাঙন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক মনোভাব এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে প্রবীণরা তাঁদের প্রাপ্য অধিকার, যত্ন ও সম্মান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সন্তান কর্তৃক ভরণপোষণ না পাওয়া এবং মানসিক একাকীত্বে ভোগার এই বাস্তব চিত্রটি স্পষ্টভাবে প্রবীণদের সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যাকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘটনা-২ এ বর্ণিত সমস্যাটি হলো 'জঙ্গিবাদ' বা 'উগ্রপন্থা' সমস্যা। এ জাতীয় জাতীয় ও সামাজিক সমস্যার সমাধানে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা আবশ্যক:
১. পারিবারিক নজরদারি ও সুস্থ পরিবেশ: পরিবারের সদস্যদের সাথে সন্তানদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, তাদের মানসিক পরিবর্তন ও গতিবিধির ওপর নজর রাখা এবং একাকীত্ব দূর করা অত্যন্ত জরুরি।
২. সঠিক শিক্ষার বিস্তার ও মোটিভেশন: তরুণদের মাঝে সঠিক ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া যাতে উগ্রবাদী মতাদর্শ তাদের বিপথগামী করতে না পারে।
৩. সচেতনতা বৃদ্ধি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো।
৪. সাইবার নজরদারি: ইন্টারনেটে উগ্র মতবাদ প্রচার ও রিক্রুটমেন্ট রোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সাইবার স্পেসে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা।
৫. পুনর্বাসন ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি: যারা ভুল পথে গেছে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কাউন্সেলিং ও মানসিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা।সুতরাং, সামাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই যুবসমাজকে উগ্রপন্থা ও জঙ্গিবাদের মতো মারাত্মক বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও