সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১: বাংলাদেশে এমন একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাস করে, যাদের বসবাস সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায়। তাদের সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নৃত্য।
দৃশ্যপট-১: এমন একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যাদের বসবাস ময়মনসিংহ জেলায়। এদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। এদের অধিকাংশ খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী।

  1. ক)

    আদাম কী?

    (1)
  2. খ)

    সাঁওতালদের জীবনব্যবস্থা কৃষিভিত্তিক - ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যপট ১ এ কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যপট ২ এর সমাজ ব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অন্যান্য সমাজ ব্যবস্থার তাৎপর্যপূর্ণ ভিন্নতা রয়েছে - বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চাকমাদের কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত গ্রাম বা পাড়াকে 'আদাম' বলা হয় (চাকমা ভাষায় আদাম মানে গ্রাম)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাঁওতালদের জীবিকা ও সংস্কৃতির মূল কেন্দ্র হলো কৃষি, তাই তাদের জীবনব্যবস্থাকে কৃষিভিত্তিক বলা হয়।

    সাঁওতালরা ঐতিহ্যগতভাবেই কৃষিকাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তারা কঠোর পরিশ্রমী এবং বনজঙ্গল পরিষ্কার করে জমি চাষের উপযোগী গড়ে তুলে জীবিকা নির্বাহ করে। ফসল রোপণ, পরিচর্যা ও ফসল তোলার সাথে তাদের সামাজিক উৎসব ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানগুলো (যেমন- সোহরাই উৎসব) গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই সাঁওতালদের সমগ্র জীবনপ্রণালী কৃষিকেন্দ্রিক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-১ এ বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের 'মণিপুরী' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে।

    বাংলাদেশে বসবাসকারী মণিপুরীদের প্রধান আবাসস্থল সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলা। তাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাদের নৃত্যকলা। মণিপুরীদের রাস নৃত্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ও বিখ্যাত। তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বেই নাচ ও গানের গভীর ভূমিকা রয়েছে।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সিলেট অঞ্চলে বসবাস এবং সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে নাচের প্রাধান্যের বৈশিষ্ট্যটি সরাসরি মণিপুরী নৃগোষ্ঠীর সাথে মিলে যায়। সুতরাং, দৃশ্যপট-১ এ মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে নির্দেশ করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-২ এ ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী, মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও অধিকাংশ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী 'গারো' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে নির্দেশ করা হয়েছে। গারোদের সমাজব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের বৃহত্তর বাঙালি ও অধিকাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজব্যবস্থার সুস্পষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ ভিন্নতা রয়েছে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. পারিবারিক কাঠামো ও কর্তৃত্ব: বাংলাদেশের মূলধারার বাঙালি সমাজসহ অধিকাংশ নৃগোষ্ঠী (যেমন- চাকমা, মারমা, সাঁওতাল) পিতৃতান্ত্রিক। সেখানে পিতা বা পুরুষ পরিবারের প্রধান হন। কিন্তু গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক, যেখানে পরিবারের প্রধান হলেন মা এবং সংসারের কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর বিশেষ ভূমিকা থাকে।
    ২. সম্পত্তির উত্তরাধিকার: বাঙালি ও অন্যান্য পিতৃতান্ত্রিক সমাজে সন্তানরা পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় এবং সাধারণত পুত্রসন্তানরা বেশি অংশ পায়। বিপরীতে, গারো সমাজে পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ কন্যা (নকনা) পরিবারের মূল সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী হয় এবং বংশানুক্রমিকভাবে সম্পত্তি নারী থেকে নারীতে বর্তায়।
    ৩. বংশমর্যাদা ও নাম নির্ধারণ: সাধারণ সমাজে সন্তানের বংশমর্যাদা পিতার পরিচয়ে নির্ধারিত হয়, কিন্তু গারো সমাজে সন্তানেরা মায়ের বংশ বা 'মাহারি'র পরিচয়ে পরিচিত হয়।
    ৪. বৈবাহিক রীতি: গারো সমাজে বিবাহের পর বরকে সাধারণত কনের বাড়িতে এসে বসবাস করতে হয়, যা বাংলাদেশের মূলধারার সমাজের রীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

    অতএব, মাতৃতান্ত্রিক কর্তৃত্ব, বংশমর্যাদা এবং নারীভিত্তিক উত্তরাধিকার কাঠামোর কারণে দৃশ্যপট-২ এর গারো সমাজব্যবস্থা বাংলাদেশের সামগ্রিক সমাজব্যবস্থার তুলনায় অত্যন্ত স্বতন্ত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন