পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
মালির 'ক' ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ভাষাকে ধ্বংস করার জন্য শাসকগোষ্ঠী চক্রান্ত করে। বিক্ষুদ্ধ জনতার সংঘবদ্ধ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে ভাষাটি অবশেষে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়।
- ক)(1)
মজলুম জননেতা ছিলেন কে
- খ)(2)
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত যে আন্দোলনের মিল রয়েছে তার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করো। ৩
- ঘ)(4)
'উক্ত আন্দোলনই বাংলাদেশ স্বাধীনতার সূত্রপাত করে'- বিশ্লেষণ করো।৪
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন মজলুম জননেতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো মিলে যে নির্বাচনী জোট গঠন করে, তাকে যুক্তফ্রন্ট বলা হয়। আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং গণতন্ত্রী দল—এই চারটি দলের সমন্বয়ে ২১ দফার ভিত্তিতে এ ফ্রন্ট গঠিত হয়। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের 'ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন'-এর মিল রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চক্রান্ত শুরু করে। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় ঘোষণা দেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এর প্রতিবাদে ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী সমাজ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গড়ে তোলে। অবশেষে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ নির্মমভাবে গুলি চালায়, যাতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। এই মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'উক্ত আন্দোলনই অর্থাৎ ভাষা আন্দোলনই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রপাত করে'—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির মধ্যে নিজস্ব জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। এই আন্দোলনের সফলতাই পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ের প্রেরণা জোগায়। এরপর ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি ছিল এই ভাষা আন্দোলন থেকে উৎসারিত চেতনা। ভাষাভিত্তিক ঐক্যই সমগ্র বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও